চৌগাছায় গাঁয়ের বধূরা পালন করছেন ব্রয়লার মুরগি

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর)॥ চৌগাছা অঞ্চলের মানুষের মাংস খাওয়া যেন দুরুহ হয়ে উঠেছে। অনিয়ন্ত্রিত বাজারে সব ধরনের মাংসের দাম পাগলা ঘোড়ার মত ছুটতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবানরা সময় মত মাংসের স্বাদ নিতে পারলেও দিন আনা দিন খাওয়া মানুষেরা মাংসের স্বাদ নিতে যেন ভুলেই গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে গাঁয়ের বধূরা বাড়িতে পালন করতে শুরু করেছেন ব্রয়লার মুরগিসহ বিভিন্ন জাতের মুরগি। আর এই মুরগির মাংস খেয়ে তারা কিছুটা হলেও তৃপ্তি পাচ্ছেন।
চৌগাছা বাজারে সব ধরনের মাংস বিক্রেতারা শক্তিশালি একটি সিন্টিকেট বানিয়ে ফেলেছেন। বাজারের যে কোন প্রান্তে তারা মাংস বিক্রি করুক না কেন দাম একই। বিশেষ করে গরুর মাংসের ক্ষেত্রে এই সিন্ডিকেট বেশি শক্তিশালী। স্থানীয়দের অভিযোগ চৌগাছা বাজারে যতগুলো কসাই আছেন তারা একই সূত্রে গাঁথা। কাকডাকা ভোরে বাজারে তারা গরু জবাই করে সব কসাই ভাগ করে একাধিক স্থানে বিক্রি শুরু করেন। বাজারের ব্রিজ মুখে যে দামে বিক্রি শুরু করেন ছুটিপুর সড়কেও সেই একই দামে বিক্রি করা হয়। এটি তাদের পূর্ব নির্ধারণ করা থাকে বলে একাধিক কসাইয়ের সাথে কথা বলে জানা গেছে। খাশির মাংসের ক্ষেত্রেও সেই একই অবস্থা। দাম বাড়তে বাড়তে এখন ১ হাজার টাকা কেজিতে দাঁড়িয়েছে।
মাংসের বাজারের এই পরিস্থিতি দেখে গাঁয়ের বধূরা নিজের থেকেই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তারা বাজার হতে ব্রয়লার মুরগির বাচ্ছা কিনে বাড়িতে পালন করছেন। কিছুটা বড় হলে সেটি জবাই করে স্বামী সন্তান নিয়ে তৃপ্তি সহকারে খেতে পারছেন। শুক্রবার চৌগাছা মুরগি বাজার হতে বা””া কিনেছেন রাশিদুল ইসলাম। এক একটি বাচ্চা তিনি ৫০ টাকা দরে কিনে যত্নসহকারে বাড়িতে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ সময় কথা হয় ওই ব্যক্তির সাথে। তিনি বলেন, বাড়িতে এখন দেশি মুরগি পালন করা হয়না। কারণ নানা রোগে মুরগি মারা যায়। সে কারণে ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা নিয়ে যাচ্ছি। এটি দ্রুত বেড়ে ওঠে।রোগ বালাই বেশ কম হয়। গৃহবধু সোনালী খাতুন বলেন, আমাদের গ্রামে অধিকাংশ বাড়িতে এখন ব্রয়লার মুরগি পালন করা হচ্ছে।
মুরগি বিক্রেতা আবুল হোসেন, কৃষ্ণ কুমার কুন্ডুসহ একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, দেশি মুরগি হতে শুরু করে পোল্ট্রি, পাকিস্থানি, সোনালী সব ধরনের মুরগির দাম বাড়ছেই। একটি রাজহাঁস বিক্রি হচ্ছে ১৩শ হতে ১৫ শ টাকায়। সে কারণে গ্রামের মানুষ এখন মুরগির বাচ্চা কিনে বাড়িতে পালন করছেন। এটি একটি ভাল উদ্যোগ বলে খোদ ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।

 

Lab Scan