চৌগাছায় কপোতাক্ষের ওপর জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

এম. এ. রহিম, চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের চৌগাছায় কপোতাক্ষ নদের উপর তৈরি বাঁশের সাঁকোটির এখন বেহাল অবস্থা। ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকোটির কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকার কৃষক, শিক্ষার্থী, রোগী ও জনসাধারণ। জানা যায়, কপোতাক্ষ নদ দুটি ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে দিয়েছে। ইউনিয়ন দুটির বুক চিরে বয়ে চলেছে কপোতাক্ষ নদ। ফলে কৃষিকাজ, লেখাপড়া ও চিকিৎসা সেবা নিতে তাদেরকে অনেক দূর ঘুরে আসতে হতো। তাই ২০১১ সালে এ দুটি ইউনিয়নের মানুষ তাদের চলাচলের জন্য নদের উপর তৈরি করেন একটি বাঁশের সাঁকো।
সাঁকোটি দুই ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের এক নতুন ক্ষেত্র তৈরি করে। নদ পারাপারে প্রতিদিন শত শত মানুষ সাঁকোটি ব্যবহার করেন। উপজেলার হাজরাখানা পীর বলুহ দেওয়ান দাখিল মাদরাসা, পাতিবিলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নিয়ামতপুর দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী ও তালপট্টি, নিয়ামতপুর, পাতিবিলা হাজরাখানা, পেটভরা নারানপুর গ্রামের শত শত মানুষ সাঁকোটি ব্যবহার করেন। নদের উভয় পাড়ের মানুষের যাতায়াতের সংক্ষিপ্ত রাস্তা এটি। এখানে এ বাঁশের সাঁকোটি না থাকলে উভয়পাড়ের মানুষকে প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে আসতে হতো। এলাকাবাসী জানান, ২০১২ সাল থেকে দুই বছরের জন্য ৫৫/৬০ হাজার টাকায় জেলা পরিষদ যশোরের পক্ষে সরকারি ভাবে সাঁকোটির ইজারা ডাকা হয়। ফলে ইজারাদারকে বর্তমানে সাকো ব্যবহারকারী সকলকে ৫ টাকা ও সাইকেলসহ ১০ টাকা দিতে হয়। ফলে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাপড়–য়া শিক্ষার্থী, কৃষক ও দিনমজুররা পড়েছেন বিপাকে। প্রতিবছর ভাদ্র মাসে হাজরাখানা গ্রামে বলুহ মেলা বসে। তখন হাজার হাজার মানুষ সাঁকোটি দিয়ে পারাপার হয়ে থাকেন। বর্তমানে সাঁকোটি জরাজীর্ণ হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন শ শ মানুষ। হাজরাখানা গ্রামের বিষ্ণু হালদার ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেন, এলাকাবাসীর দাবি ঘাটের ইজারা বাতিল করা হোক। সাঁকো দিয়ে যাতে সাধারণ মানুষ ফ্রি চলাচল করতে পারে। তিনি ইজারা বাতিল করে সাঁকোর স্থলে একটি সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন । হাজরাখানা গ্রামের মেম্বার মনিরুজ্জামান মিলন জানান, সাঁকোর স্থলে একটি সেতু নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেই প্রতিশ্র“তি দিলেও কোন ফল হয়নি। তিনি আরো বলেন, এলাকার অধিকাংশ মানুষ গরীব, টাকা দিয়ে পার হওয়া তাদের জন্য কষ্টের, ইজারা বাতিল করে সাঁকোটি উন্মুক্ত করে দিলে ভালো হয়। নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন মুকুল বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। ইজারা জেলা পরিষদ ডাকে, তবে বাতিল হলে ভালো হয়। কোমলমতি শিক্ষার্থী ও ভুক্তভোগী জনসাধারণের জন্য টোল দিয়ে পার হওয়া খুবই কষ্টের।

ভাগ