চৌগাছায় একই জমিতে সাথি ফসল উৎপাদন করে বাড়তি আয় করছেন চৌগাছার চাষি

0

 

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছায় একই জমিতে এক সাথে একাধিক ফসল উৎপাদন করে অনেক কৃষক এখন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এই পদ্ধতিতে দীর্ঘ মেয়াদী ফসলকে প্রধান ফসল এবং স্বল্প মেয়াদী ফসলকে সাথি ফসল বলা হয়।
বৃহস্পতিবার (৪ মে) উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের আন্দারকোটা মাঠে দেখা যায়, তুলনা মূলক নিচু জমিগুলোতে চাষ করা হয়েছে বোরো ধানের। পাকা ধান কেটে বাড়িতে নেওয়ার কাজ বেশ জোরে শোরে করে যাচ্ছেন কৃষক। যে সব জমিতে অল্প বৃষ্টিতে পানি জমে না, এমনকী পানি জমে গেলে তা বের করার উপায় আছে তেমন জমিতে চাষিরা হরেক রকমের সবজির পাশাপাশি পাট, মুখিকচুর চাষ করেছেন। এসব ফসলের ক্ষেতেও কৃষক নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে ভিন্ন একটি চাষের দৃশ্য দেখা মেলে মাঠে। পার্শ্ববর্তী বাজে খড়িঞ্চা গ্রামের মৃত আহমদ আলী মন্ডলের ছেলে কৃষক আমিনুর রহমান ২২ কাঠা জমিতে পটলের মাচার খালি স্থানে লাগিয়েছেন কলা গাছ। প্রায় ২৬০টি কলা গাছ সমুদয় জমিতে তিনি রোপণ করেছেন। মূল চাষ হচ্ছে কলা, সেই সাথে পটল চাষ করে এই কৃষক বাড়তি আয় করেছেন যা অন্য কৃষককে আকৃষ্ট করেছে।
কথা হয় কৃষক আমিনুর রহমানের ভাতিজা কৃষক খোকনের সাথে। তিনি বলেন, চাচা আমিনুর রহমান গত বছরে ১ বিঘা জমিতে কলা চাষ করে প্রায় দুই লাখ টাকা বিক্রি করেছেন। এক বিঘা জমিতে কলা চাষে ব্যয় হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এ বছর তিনি ২২ কাঠা পটলের জমিতে আরও ২৬০টি কলা গাছ লাগিয়েছেন। ইতোমধ্যে সকল কলা গাছ পটলের মাচার ওপরে উঠতে শুরু করেছে। কলা তার মূল ফসল, সেই কলা ক্ষেতে পটলের চাষ করে ইতোমধ্যে অর্ধ লাখ টাকার পটল বিক্রি করা হয়েছে। এই কৃষকের এমন সাফল্যে অনেকেই জমিতে সাথি ফসলের চাষে আগ্রহ হয়ে উঠেছেন।
একই মাঠে কর্মরত কৃষক মোজাম্মেল হোসেন, জুয়েল রানা, আব্দুস ছাত্তারসহ অনেকে জানান, বর্তমানে আবহাওয়ার কারণে শুধু ধান আর পাট চাষে লাভবান হওয়া কষ্টসাধ্য। চলতি বোরো মৌসুমে ধান পাকার সাথে সাথে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। পাকা কাটা ধান নিয়ে নিদারুন কষ্টে দিন কাটছে সকল কৃষকের। অুনরুপ ভাবে পাট চাষের পর তা বাজারজাত শুরু হলে দাম কমে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষক। সে কারণে চাষিরা এখন নতুন নতুন ফসল উৎপাদন শুরু করেছেন এবং লাভবান হচ্ছেন। কৃষকরা জানান, ১ বিঘা জমিতে আড়াই শ হতে ২৬০টি কলা চারা রোপণ করা হয়। বৈশাখ মাসে শুরু হয় গাছ লাগানোর কাজ। ব্যয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা হলেও বিক্রি হয় দেড় হতে ২ লাখ টাকা। প্রাকৃতিক দূর্যোগ বিশেষ করে ঝড় কম হলে কলা চাষে আর কোনও ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না।
চৌগাছা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জাহিদুর রহমান বকুল, কপোতাক্ষ গেজেট পত্রিকার সম্পাদক এম মুজাহিদ আলী বলেন, সাথি ফসলের চাষ আগে তেমন দেখা যেতো না, তবে দিন যত যাচ্ছে কৃষক ততই আধুনিক হচ্ছে, এটি অব্যশই সকলের জন্য খুশির বার্তা বহন করে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন বলেন, চৌগাছার বেশ কিছু এলাকার কৃষক সাথি ফসলের চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। এই চাষ পদ্ধতি যাতে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে তার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

 

 

 

 

 

Lab Scan