চৌগাছায় ইটভাটার ট্রাকের মাটি পড়ে চলাচলে অনুপযোগী হচ্ছে সড়কগুলো

0

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ ইটভাটার মাটি বহনকারী ট্রাকের মাটি পড়ে চৌগাছার সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ আছে, চৌগাছায় ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা ইটভাটার মালিকরা মানুষের বিপদে ফেলে নিজেরা রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছে। চৌগাছা-যশোর সড়ক থেকে শুরু করে চৌগাছা-মহেশপুর, কোটচাদপুর, পুড়াপাড়া,দেবিপুর-নারায়ণপুর, আফরা সৈয়দপুর, ঝিকরগাছাসহ অধিকাংশ সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটা মালিকরা ফসলি জমি, নদীর পাড়, পুকুর ও খাল থেকে নিয়মিত মাটি তুলে ভাটায় জড়ো করছে। এসব জায়গা হতে মাটি নিয়ে ট্রাক বা ট্রলি সড়কে চলছে বেপরোয়া গতিতে। এতে সড়কে অবিরাম পড়ছে মাটি। এক সময় পাকা সড়ক হয়ে যাচ্ছে কাঁচা সড়ক।
চৌগাছা-যশোর সড়কে তানজিলা অটো ব্রিকস নামে একটি ভাটা গড়ে তুলেছেন চৌগাছার এক ব্যক্তি। প্রতিদিন প্রচুর মাটির প্রয়োজন হচ্ছে এই ভাটায়। অভিযোগ আছে ভাটা মালিক নানা ভাবে মানুষকে ম্যানেজ করে ফসলি জমি থেকে শুরু করে বিল বাঁওড়ের মাটি তার ভাটায় জড়ো করছেন। সম্প্রতি চৌগাছা-যশোর সড়কের কয়ারপাড়া বাজারের অদূরে একটি বিল হতে মাটি কেটে ভাটায় জড়ো করা হয়েছে, এমনকী এখনও চলছে মাটি কাটার কাজ। বিল হতে মাটি ভর্তি ট্রাক মেইন পাকা সড়কে ওঠা মাত্রই ট্রাক থেকে মাটি পড়া শুরু হচ্ছে। আর ভাটায় মাটি নামানো পর্যন্ত সড়কে পড়ছে মাটি। রবিবার বৃষ্টি হওয়ার আগ পর্যন্ত গোটা সড়কটি ছিল মাটির ভাঙাড়। সড়কে শুকিয়ে যাওয়া স্তুপ মাটির ওপর দিয়ে যখন কোনো যানবাহন চলাচল করছে তখন মনে হচ্ছে কোন ভাঙাড় দিয়ে যেন যানবহান চলছে। শুধু তাই না ধুলা বালুতে সড়ক এলাকা মনে হচ্ছে কুঁয়াশার চাঁদর দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। রবিবার দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টিতে সড়কের চেহারা হয়েছে ভিন্ন। এঁটেল মাটি সড়কে পড়ে শুকিয়ে গেছে, সেই মাটিতে পড়েছে বৃষ্টির ফোটা। পুরো সড়ক হয়ে গেছে পিচ্ছিল। সব ধরনের যানবাহনকে অত্যন্ত ধীরগতিতে এই জায়গা অতিক্রম করতে হয়েছে। দুই চাকার যানবাহন চালককে পড়তে হয়েছে বেশি সমস্যায়। অনেক মোটরসাইকেল চালক ওই সড়কের ওপর পিছলে পড়ে বলে জানা গেছে। মোটরসাইকেল চালক চুড়ামনকাটির আলমগীর হোসেন বলেন, এই সড়কে মানুষ কী ভাবে চলবে, বড় দুর্ঘটনা হতে রক্ষা পেয়েছি। বাইসাইকেল চালক ইউছুফ আলী বলেন, এক ব্যক্তির সুবিধার জন্য আজ আমাদের মত হাজার মানুষ বিপদে পড়েছে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেই সড়কে এখন চলাচল ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তানজিলা অটো ব্রিকসের ম্যানেজার লিংকন হোসেন বলেন, শুধু আমাদের ভাটার কারণে না, পাশে অন্যান্য স্থাপনা তৈরি হচ্ছে, তারা যে মাটি বহন করছেন তাতেও সড়ক নষ্ট হয়েছে। তানজিলা ভাটার সামনে হতে কয়ারপাড়া পর্যন্ত সড়কটি আমরা বৃষ্টি নামার সাথে সাথে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলেছি। আমাদের কারণে কেউ সামান্য কষ্ট অনুভব করুক আমরা সেটি চাই না।

Lab Scan