চৌগাছায় আলমসাধু দুর্ঘটনায় পাঁচ বছরে ১শ জনের মৃত্যু

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের চৌগাছায় অবৈধ আলমসাধু দুর্ঘটনায় পাঁচ বছরে প্রায় ১শ জনের মৃত্যু হয়েছে। জরুরি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, মরছে মানুষ। পঙ্গুত্ব বরণ করছে যাত্রী সাধারণ। আহত হচ্ছে অগণিত।
জানা যায়, গত কয়েক মাসে সড়কে আলমসাধু দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন উপজেলার কয়ারপাড়া গ্রামের আব্দুল আলিম (৩৫), ফতেপুর গ্রামের গৃহবধূ সখিনা বেগম (৩৬), দিঘড়ী গ্রামের হামিদ ড্রাইভারের ছেলে জসিম উদ্দিন (২৩), পৌর শহরের ইছাপুর গ্রামের সেলিম (১৬), গুয়াতলী গ্রামের স্কুলছাত্র দিপঙ্কর (৭), আন্দুলিয়া গ্রামের বকুল হোসেন (৩২)। এদিকে আলমসাধু দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন টেংগুরপুর গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে খায়রুল ইসলাম (১৫), কয়ারপাড়ার ডলি খাতুন (২৫), গরিবপুরের রফিকুল ইসলাম (৪০)। ১১ নভেম্বর আলমসাধু দুর্ঘটনায় উপজেলার বড় নিয়ামতপুর গ্রামের নুর ইসলাম (৬২) নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন জাহানারা বেগম (৩৫), তানজিত (৬), উপজেলার মুক্তদহ গ্রামের মঙ্গলের ছেলে শুভ (১৬) ও ইছাপুর গ্রামের মহিউদ্দীনের ছেলে রাকিব হোসেন (১৯)। এ ছাড়া প্রতিমাসেই ২/৩ জন মানুষ নিহত হচ্ছেন।
আলমসাধু দুর্ঘটনায় আহত খাইরুল ইসলাম বলেন, আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে উপজেলার বিভিন্ন রুটে অবৈধ স্যালো ইঞ্জিনচালিত আলমসাধুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধ এ যান চলাচলকে বৈধ করে নিয়েছে চালকরা।
চৌগাছা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হালিম চঞ্চল বলেন, এ অবৈধ যান চলাচলের বৈধতা নিয়ে একাধিকবার আমরা বৈঠক করে বন্ধের চেষ্টা করেছি। কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন রুটে এ অবৈধ যান চলাচলের বিষয়টি নিয়ে কোন সুরাহা করতে পারিনি। ফলে স্ব-স্ব অঞ্চলের এসব অবৈধ যানের চালকরা বীরদর্পে চালিয়ে বেড়াচ্ছে। স্থানীয় প্রযুক্তিতে স্যালো ইঞ্জিন দ্বারা তৈরি যন্ত্রদানবকে বৈধ করে নিয়ে বহাল তবিয়তে উপজেলার বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে তারা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রয়োজনের তাগিদে যন্ত্রদানবে উঠছে যাত্রী সাধারণ। বিভিন্ন রুট দিয়ে অহরহ যাত্রীর পাশাপাশি, কাঁচামাল, ধান, চাল, বাঁশ, কাঠ এবং গবাদি পশুও বহন করে।
যশোর-চৌগাছা রুটের বাসচালক শাহাজান আলী চির কুমার বলেন, আলমসাধুর নেই রুট পারমিট ফিটনেস সনদ বা চালকের কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স। নেই জরুরি অবস্থায় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। চালকের অদক্ষতার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, মরছে সাধারণ মানুষ। বিগত ৫ বছরে চৌগাছায় এই অবৈধ যান দুর্ঘটনায় মারা গেছে প্রায় ১শ জন মানুষ। পঙ্গু হয়েছে সহস্রাধিক এবং আহত হয়েছে বেশুমার। অস্বাভাবিক ফিটনেসের কারণে যানবাহন যখন তখন রাস্তার পাশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায়। কখনো পথচারীকে আঘাত করে পঙ্গু করা নিত্যদিনের ঘটনা। অন্যদিকে বিকট আওয়াজ ও অস্বাস্থ্যকর কালো ধোঁয়া ছেড়ে বায়ু দূষণ করছে। এসব অবৈধ যান আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নিতে তিনি সংশ্লি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজিব বলেন, এসব অবৈধ যান আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। কিন্তু যারা এসব চালায় তারা সকলে গরিব তাই মানবিক কারণে কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, এটি সম্পূর্ণ অবৈধ যান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ এ যানে চলাচল করেন। অভিযান চালিয়ে ট্রাফিক আইনের আওতায় এনে এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভাগ