চৌগাছায় অসহায় ব্যক্তিকে নিজের জমিতে থাকতে দিয়ে বিপাকে পড়েছেন মূল মালিক

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলায় এক অসহায় পরিবারকে নিজের জমিতে বসবাস করার অনুমতি দিয়ে বর্তমানে জমির মূল মালিক পড়েছেন চরম বিপাকে। ওই অসহায় পরিবার এখন জমি তার নিজের দাবি করে জমি দখল ছেড়ে দিতে নানা টালবাহানা করছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে চৌগাছা রিপোর্টার্স কাবে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন জমির মূল মালিক উপজেলার বড় কাবিলপুর গ্রামের শমসের আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, উপজেলার কাবিলপুর মৌজায় আমরা পিতা শমসের আলী ও তিন চাচা আব্দুল হাকিম, উকিল হোসেন, মোক্তার হোসেন ১৯ শতক জমি পৈত্রিক সূত্রে পাই। খতিয়ান নং এসএ ২৬৩, আর এস চূড়ান্ত ৫৬৬,৬১৫, দাগ নং এসএ ৯২১, আরএস চূড়ান্ত ১০৮৩ নং দাগে মোট জমির পরিমাণ ১৯ শতক। এই জমি আমরা যুগযুগ ধরে ভোগদখল করে আসছি। আজ থেকে ৭/৮ বছর আগে ওই জমির ওপর একটি ঝুপড়ি ঘর তৈরি করা হয়। ওই সময় এক কালবৈশাখী ঝড়ে জমির পাশে বসবাসকারী আছের আলীর ছেলে রুপচাঁদ মন্ডলের বসতবাড়ি তছনছ হয়ে যায়। এ সময় তিনি অতি কষ্টে দিনযাপন করতে থাকেন। দু একদিন পর রুপচাঁদ আমাদের বাড়িতে এসে বলেন, ঝড়ে তো আমার সব শেষ হয়ে গেছে, পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি। তাই তোমাদের জমিতে ওই ঝুপড়ি ঘরে কিছু দিন থাকি। এরপর নিজের বাড়ি ঠিক করে সেখানে চলে যাবো। সহজ সরল মনে জমির মালিকগণ তাকে ওই জমির ওপর ঝুপড়ি ঘরে থাকার অনুমতি দেন। এরপর কেটে গেছে অনেক বছর। রুপচাঁদ ওই ঝুপড়ি ঘর থেকে আর নিজের বাড়িতে যায় না। একদিন আমরা তাকে জমি খালি করে দিতে বললে তিনি বলেন, এ জমি তো আমার।
মূলত এরপর হতে তার সাথে আমাদের বাদানুবাদ শুরু। কিন্তু সে কিছুতেই জমি ছেড়ে যেতে নারাজ। এ ঘটনা নিয়ে গ্রাম্য অনেক সালিশ বিচারও হয়েছে, সেখানে জমি ছাড়ার কথা বলে এলেও পরবর্তীতে আর জমি থেকে যেতে চায়নি। এরই মধ্যে রুপচাঁদ মন্ডল জমি তার নিজের দাবি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সে কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারায় মামলা খারিজ হয়ে যায়। তার পরপরই আমরা জমি থেকে উচ্ছেদের জন্য আদালতে একটি মামলা রুজু করি। যা এখনও আদালতে চলমান। রুপচাঁদ জমি ছেড়ে চলে যাওয়া তো দূরের কথা তিনি পুনরায় যশোরের পুলিশ সুপার বরাবর আমাদের সকলের নামে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে থানা পুলিশ আমাদের বাড়িতে যায় এবং বিষয়টি জানার পর তারা চলে আসেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, গ্রামের মৃত আছের মন্ডলের ছেলে রুপচাঁদ মন্ডলের কাছ থেকে ১৯৭৭ সালের ১৩ এপ্রিল ২৬৩৩ দলিলে ৫০ শতক জমি আমরা ক্রয় করি। এই জমির দলিল জাল বলে বিভিন্ন প্রচার করছে। আমাদের দলিল যে সঠিক সেটি আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। রুপচাঁদ মন্ডল অত্যন্ত চালাক প্রকৃতির লোক। তাকে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি নিয়মিত ইন্ধন দিচ্ছে। তাদের ইন্ধনে সে মামলা মকদ্দমা করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি। তিনি গত ১৭ মার্চ সাংবাদিকদের কাছে মনগড়া তথ্য সরবরাহ করে একটি বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন। বাস্তবতার সাথে সংবাদের কোন মিল নেই। সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে আমরা ভূমিদস্যু। আমরা সহজ সরল প্রকৃতির মানুষ। মাঠে কাজ করেই আমাদের জীবিকা নির্বাহ। সুচতুর রুপচাঁদ মন্ডলের রোষানল থেকে আমরা পরিত্রাণ পেতে চাই। এজন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। এ সময় মুক্তার হোসেন, উকিল হোসেন, আশরাফ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভাগ