চৌগাছার সলুয়া-কায়েমকোলা সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় চলাচলে অনুপযোগী

এম. এ রহিম চৌগাছা (যশোর) ॥ দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কার না হওয়ায় যশোরের সলুয়া-কায়েমকোলা সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে তিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার কৃষক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী মানুষ। এছাড়া মুমূর্ষু রোগী, গর্ভবতী মা, শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরিভাবে চৌগাছা, ঝিকরগাছা, যশোর বা দেশের অন্য কোথাও নিতে এ সড়কটির জন্য মানুষ দারুণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। চৌগাছা ও ঝিকরগাছা দু’টি উপজেলার হাজার হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এ এলাকার মানুষ। উপজেলা দুইটির যশোর জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম এই সড়কটি। সলুয়া থেকে কায়েমকোলা পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়ক ভেঙে একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। যে সড়কটি ব্যবহার করে এ এলাকার মানুষ প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব ছোট-বড় শহরে যোগাযোগ রা করে থাকেন। সলুয়া-কায়েমকোলা এ রুটে প্রায় ৭/৮ শ’ যানবাহন চলাচল করে। এই সড়কটির দীর্ঘদিনেও কোন সংস্কার হয়নি। ফলে সড়কের উপর থেকে পিচ-পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। ফলে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সলুয়া থেকে ছোটকুলি পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রাস্তার মাঝে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহনে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বুধবার কথা হয় ছোটকুলি গ্রামের শরিয়াত মিয়া ও সুমন হোসেনের সাথে। তারা জানান, সলুয়া থেকে কায়েমকোলা সড়কের যানবাহনে উঠলে মনে হয় না আর বাড়িতে ফিরে যেতে পারবো। সড়কটির অবস্থা খুবই নাজুক।
সলুয়া বাজারের ব্যবসায়ী নেতা আব্দার রহমান জানান, সলুয়া থেকে কায়েমকোলায় আমাদের প্রতিদিন চলাচল করতে হয়। কিন্তু সড়কের যে বেহাল দশা তাতে ওই রাস্তায় যেতে মন চায় না। একটি সূত্র বলছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ সড়কটি সংস্কার না হওয়ার কারণে ছোট গর্তগুলো বড় হয়ে গেছে। যে কারণে এ সড়কে চলাচলকারী সকল যানবাহন যান্ত্রিকভাবে তিগ্রস্ত হচ্ছে। অপরদিকে, হরহামেশা ঘটছে দুর্ঘটনা। বাড়ছে মৃত্যু আর পঙ্গুত্বের সংখ্যা। সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অন্য স্থান থেকে বড় ব্যবসায়ীরা কাঁচামাল বা অন্যান্য পণ্য ক্রয় করতে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে তিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার কৃষক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী মানুষ। এছাড়া এ এলাকার কোন মুমূর্ষু রোগী, গর্ভবতী মা, শিশুকে জরুরিভাবে যশোর বা দেশের অন্য কোথাও উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ফলে অকালে জীবন হারাচ্ছেন বহু প্রসূতি মা ও শিশু। সড়কের এমনই বেহাল অবস্থা যে, যানবাহনে উঠলে জীবন নিয়ে যাত্রীরা থাকে রীতিমত শঙ্কিত। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহযোগিতা, কোর্ট-কাচারিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এ এলাকার মানুষের চলচলের প্রধান ও একটি মাত্র রাস্তা এটি। এলাকার মা, শিশু, মুমূর্ষু রোগীর কথা চিন্তা করে এলাকাবাসী সড়কটি পুনঃসংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

ভাগ