চৌগাছার মাশিলা বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচন নিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছার মাশিলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার পত্রে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের যোগসাজসে পকেট কমিটির করার জন্যে এমন কাজ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাশিলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন আগামী ২৪ এপ্রিল। নির্বাচন উপলক্ষে যথারীতি তফসিল ঘোষণা করাসহ সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়। তফসিল মোতাবেক সভাপতি পদে মোট ৩ জন ও সদস্য পদে ১৫ জন মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন। বিগত ৯ এপ্রিল রিটার্নিং অফিসার প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। এর পরেই শুরু হয় ভিন্ন পন্থা অবলম্বন। ১১ এপ্রিল মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের দিন ধার্য করেন রিটানিং অফিসার। কিন্তু ১০ এপ্রিল রাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর পূর্বক প্রার্থীদের প্রত্যাহার পত্রে স্বাক্ষর করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগে বলা হয়, এডহক কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান ও প্রধান শিক্ষক শাহিনুর রহমান ২০/৩০ জন সন্ত্রাসী পাঠিয়ে প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক প্রত্যাহার পত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। এই প্রত্যাহারপত্র উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার বরাবর জমা দেয়া হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন না করে পকেট কমিটি করার জন্যে এমনটি করা হয়েছে বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।
সভাপতি প্রার্থী হাফিজুর রহমান অভিযোগে আরো জানান, বিদ্যালয়ের ম্যাজেনিং কমিটির সভাপতি পদের নির্বাচন নিয়ে তাকে মোবাইলে বারবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হুমকির বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শাহিনুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যাহারপত্র অফিস সহকারীর কাছে কে বা কারা দিয়ে গেছে তা খোঁজ নিয়ে বলতে হবে। তিনি বলেন তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা সত্য নয়।
এডহক কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ সব বিষয়ে তার কিছু জানা নেই, প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার আবুল কালাম রফিকুজ্জামান জানান, একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে, এ বিষয়ে জানার জন্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে তলব করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকসহ একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক শাহীনুর রহমান ও আব্দুল মান্নানের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দুইজন ব্যক্তিই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তারা বিদ্যালয়ে বসে এ অঞ্চলের রাজনীতি পরিচালনা করেন। তাদের রাজনীতি চালু রাখার স্বার্থে বিদ্যালয়য়ের কমিটি নিয়ে এমন নোংরা খেলা করছেন।

Lab Scan