চৌগাছার ভাস্কর বিশ্বজিতের ২৫টি প্রতিমা তৈরি

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ সততার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বিশ্বজিত কুমার শুরু করেন প্রতিমা তৈরির ব্যবসা। প্রথমে স্বল্প পরিসরে ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে তার ব্যবসা ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। প্রতি বছর দুর্গাপূজা এলে দম ফেলার সময় পাননা ভাস্কর বিশ্বজিত। এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ২৫টি প্রতিমা তৈরি করছেন। ভাল দরে বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব শরদীয় দুর্গাপূজা। তাই প্রতি বছর এই সময়টি এলে হিন্দু সম্প্রদায়দের মাঝে বয়ে যায় আনন্দের বন্যা। যাকে নিয়ে এই উৎসব সেই দুর্গাপ্রতিমাসহ সব ধরনের প্রতিমা তৈরির কারিগররা এই সময়ে মহাব্যস্ত হয়ে পড়েন। আর যদি ব্যবসায়িক মনোভব নিয়ে প্রতিমা তৈরি কাজ করেন তাহলে তো ওই ভাস্করের ঘুম খাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। যেমনটি হয়েছে চৌগাছা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের হালদারপাড়ার বাসিন্দা ভাস্কর বিশ্বজিত কুমারের ক্ষেত্রে।
প্রতিমা তৈরির কারিগর (ভাস্কর) বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস। পিতা মৃত চৈতন্য কুমার বিশ্বাস। আদি বাড়ি মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলায়। দীর্ঘদিন চৌগাছা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের হালদারপাড়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। খুব অল্প বয়স থেকেই প্রতিমা তৈরিতে বেশ পারদর্শী। তার নিপুণ হাতে তৈরি সব ধরনের প্রতিমা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে খুবই পছন্দের। তাইতো বছরের বার মাসই তিনি কোন না কোন প্রতিমা তৈরিতে থাকেন ব্যস্ত। আর শারদীয় দুর্গা উৎসব এলে ব্যস্ততা কয়েক গুন যায় বেড়ে। অন্য বছরগুলোর মত এ বছরও তিনি বেশ আগে ভাগে শুরু করেছেন প্রতিমা তৈরির কাজ। চলতি বছরে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা হতে অর্ধশত প্রতিমা তৈরির অর্ডার পান। কিন্তু লোকবলের অভাবে ২৫টির মত প্রতিমা তৈরি করছেন। এই কাজে তাকে সহযোগিতা করছেন সুমন বিশ্বাস ও রিক্ত বিশ্বাস। তিনজনে মিলে দুর্গা প্রতিমার পাশাপাশি লক্ষী, স্বরসতি, গণেশ, কাত্তিক, সিংহ, সাপ, ময়ূর, ইঁদুর, হাঁস, পেঁচা তৈরি করে চলেছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, বশ্বজিত কুমার তার হাতে প্রতিমাগুলোর যেখানে যেভাবে কাদা মাটি লাগানো দরকার তা করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, আগামী মাসের (অক্টোবর) দুই তারিখে শুরু হবে দুর্গাউৎসব। তাই দিন যত যাচ্ছে ততই ব্যস্ততা বেড়ে যাচ্ছে। এ বছর বিভিন্ন উপজেলা হতে অর্ধশত প্রতিমা তৈরির অর্ডার পেয়েছিলাম। কিন্তু সব কিছুরই দাম বেড়ে গেছে। আর জনবল সংকটের কারণে তাদেরকে ফেরত দিতে হয়েছে। বর্তমানে চৌগাছা ও কোটচাঁদপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ২৫টি প্রতিমা তৈরি করছি।

Lab Scan