চৌগাছার দক্ষ কারিগর সুমন স্বল্পপুঁজির কারণে ব্যবসা বাড়াতে পারছেন না

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ দোকান কর্মচারী থেকে কারখানার মালিক হয়েও স্বল্পপুঁজির কারণে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে পারছেন না সুমন সরকার। পেশায় তিনি একজন বালতি তৈরির দক্ষ কারিগর। ছয় সদস্যদের পরিবার চলে তার এই বালতির ব্যবসার ওপর। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ক্ষুদ্র এই উদ্যোক্তা একদিন বড় ব্যবসায়ী হয়ে উঠতে পারবেন এমনটিই মনে করছেন ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী।
চৌগাছা পৌর এলাকার ঐতিহ্যবাহী কুঠিপাড়া মোড়ে নিরিবিলি পরিবেশে অবস্থিত সুমন সরকারের বালতি তৈরির কারখানা। ১৮ বছর আগে সুমন সরকার চলে আসেন চৌগাছায়। তিনি খুলনার দৌলতপুরের মধ্যডাঙ্গা পরামানিক পাড়ার নারায়ণ সর্দারের ছেলে। চৌগাছায় এসে সুমন সরকার কুঠিপাড়া মহল্লার মৃত ইউছুফ আলীর ছেলে ইব্রাহীম হোসেনের বালতি তৈরির কারখানাতে কাজ নেন। অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কারখানায় কাজ করার সুবাদে তিনি মালিক পক্ষের কাছে একজন আস্থাভাজন কর্মচারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। দেখতে দেখতে কেটে যায় বেশ কয়েক বছর। সুমন সরকার কুঠিপাড়াতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে স্ত্রী তিন সন্তান আর শাশুড়ি মিলে ৬ সদস্যের পরিবার তার।
২০২২ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় কারখানার মূল মালিক ইব্রাহীম হোসেন মারা যান। ওই পরিবারের অনুরোধে সেই থেকে কারখানার মালিক হয়ে যান সুমন সরকার। ছোট্ট পরিসরে গড়ে ওঠা কারখানা পুঁজিে অভাবে বড় পরিসরে তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন সুমন সরকার, তারপরও হাল ছাড়েনি। রাত দিন নিরলস ভাবে কাজ করে যান। তার হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের অন্যতম কারণ পরিবারের ছয়জন মানুষ যে তার ওপরই নির্ভরশীল।
সম্প্রতি সুমন সরকারের কারখানায় কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান, বাস্তবতা বড়ই কঠিন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন এই বাজারে কারখানায় যা রোজগার হয় তাতে বেঁচে থাকায় কষ্টসাধ্য। তিনি বলেন, বাজারে বালতি তৈরির শিটসহ সব ধরনের সরঞ্জামের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। কিন্তু বাড়তি দামে বালতি বিক্রি করা সম্ভব হয় না। জিপি প্লেন শিট আগে ১শ থেকে ১১০ টাকা কেজি কিনেছি, কিন্তু সেটি ১৪০ টাকা হতে দেড় শ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে। একটি শিটে ছোট বড় মিলে ৬/৭টি বালতি তৈরি হয়। প্রকার ভেদে ২২০ টাকা হতে ৬শ টাকায় এক একটি বালতি বিক্রি হয়। একাধারে কাজ করলে দিনে ২৫টি হতে ৩০টি বালতি তৈরি করতে পারি। অর্থ অভাবে কোনো কর্মচারী রাখতে পারেনি। নিজের শরীরের ওপর নিদারুন চাপ সৃষ্টি করে এই পরিশ্রম করে যাচ্ছি।
তার কারখানায় তৈরি বালতি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যশোর শহরসহ কালিগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, দর্শনা, জীবননগর, চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন জেলা উপজেলাতে যায়। কাজের গুণগত মান ভালো হওয়ায় তার কারখানার বালতির চাহিদা বেশি বলে তিনি জানান। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সুমন হোসেন বলেন, যে কোনো ঋণ আমি ভয় পাই, কেননা একবার ঋনগ্রস্থ হলে তা কি ভাবে শোধ করবো এই ভাবনা হতে ঋণ নেওয়া থেকে বিরত আছি। তবে সরকারি ভাবে যদি সহজ শর্তে কোন সহযোগিতা পাই তাহলে ব্যবসাকে আরও বড় করা সম্ভব হবে, তখন সব কিছুতে স্বস্তি ফিরবে।
স্থানীয়রা জানান, সুমন সরকার অত্যন্ত পরিশ্রমী একটি মানুষ, তিনি যদি সরকারি কোনো সহযেগিতা পেতেন তাহলে ওই ব্যবসাতেই একজন সফল হিসেবে সর্বত্র পরিচিতি পেত।

Lab Scan