চৌগাছার তরুণ উদ্যোক্তা মঈনের হাঁসের পর এবার মুরগীর খামার

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছার তরুণ উদ্যোক্তা মহিউদ্দিন ওরফে মঈন। দীর্ঘ ৮ বছর প্রবাস জীবন যাপন শেষে দেশে ফিরে অলস সময় পার না করে তৈরি করেছেন হাঁস মুরগীর খামার। জলাশয়ে পানি সংকটের কারণে হাঁস পালন বর্তমানে বন্ধ। এখন পালন করছেন সোনালী জাতের মুরগী। হাঁসের খামার হতে তিনি বেশ লাভবান হয়েছেন, মুরগীর খামার থেকেও লাভের আশা করছেন এই উদ্যোক্তা। মঈনের কর্ম পরিকল্পনা দেখে স্থানীয় বেকার যুবকরাও ছোট ছোট খামার করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে উদ্যোক্তা মঈন দেশের জন্য বড় কিছু উপহার দিতে পারবেন বলে মনে করছেন উপজেলার সচেতন মহল।
সূত্র জানায়, চৌগাছা উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের জলকা মাধবপুর গ্রামের হানেফ আলী বিশ্বাসের ছেলে মহিউদ্দিন ওরফে মঈন (৪০)। ২০০৮ সালের দিকে তিনি পাড়ি জমান সুদূর কুয়েতে। কুয়েতে ৮ বছর প্রবাস জীবনযাপন শেষে চলে আসেন বাড়িতে। বিদেশে অনেক কষ্টে অর্জিত অর্থ তিনি নষ্ট করেননি। ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্র“য়ারি চৌগাছা-মাশিলা সড়কের ধুনারখাল ব্রিজ নামক স্থানে মাত্র ১২ কাটা জমির ওপর গড়ে তোলেন হাঁসের খামার। সাড়ে ২৭ শ হাঁস পালন শুরু করেন এই খামারে। অল্প দিনেই এই খামার থেকে তিনি বেশ লাভবান হতে থাকেন। খামার সংলগ্ন খালে পানি সংকট দেখা দেয়ায় তিনি হাঁস পালন বন্ধ করে দেন। হাঁসের খামারের সাথেই তিনি প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে শুরু করেছেন মুরগী পালনের প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে তিনি বেশ কিছু মুরগী পালন করে তা বাজারজাতও করেছেন। প্রথম দিকে কিছুটা লোকসান হলেও সর্বশেষ চালানে বেশ লাভবান হয়েছেন এই উদ্যোক্তা।
গতকাল সরেজমিন মুরগীর খামারে গিয়ে দেখা যায়, দু জন কর্মচারীসহ খামারী মহিউদ্দিন খামারে কাজ করছেন। এসময় কথা হয় উদ্যাক্তা মঈনের সাথে। তিনি বলেন, ‘কুয়েত থেকে দেশে ফিরে ব্যবসা করব বলে মনস্থির করি। তবে কোন ধরনের ব্যবসায় নিজেকে সম্পৃক্ত করব তা নিয়ে বেশ দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম। পরবর্তীতে এক আত্মীয়ের কাছ থেকে হাঁস পালনের পরামর্শ নিয়ে কাজ শুরু করি। কিন্তু জলাশয়ে পানি না থাকার কারণে হাঁস পালন ছেড়ে দিয়ে মুরগী পালন শুরু করেছি। মুরগীর জন্য নতুন দুটি সেট নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে তার খামারে সোনালী জাতের ১৫ হাজার মুরগী আছে। পাশেই আরও ৩টি সেট নির্মাণ কাজ চলছে’। তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা থেকে ১ দিনের মুরগীর বাচ্চা ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় সংগ্রহ করা হয়। খামারে আনার পর থেকে চলে পরিচর্জা। ৬০ দিনে প্রতিটি মুরগী বাজারে বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠে। সম্প্রতি তিনি ৫ হাজার মুরগী বিক্রি করেছেন। এটি তার খামার হতে দ্বিতীয় ধাপের মুরগী বিক্রি। ৬০ দিনের একটি মুরগী সাড়ে ৯ শ গ্রাম থেকে ১ কেজি ২ শ গ্রাম পর্যন্ত ওজন হয়। প্রতি কেজি মুরগী ১৭৯ টাকা হতে ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। ৫ হাজার মুরগী পালনে সমুদয় খরচ খরচা বাদ দিয়ে তিনি বেশ লাভবান হয়েছেন। স্থানীয় ুদ্র মুরগী ব্যবসায়ীসহ ঢাকা থেকে ব্যবসায়ীরা খামারে এসে মুরগী ক্রয় করে নিয়ে যান। তবে প্রথম পালনকৃত মুরগীতে ১৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে বলে তিনি জানান।
উদ্যোক্তা মহিউদ্দিন মঈন বলেন, তার আপন ভাগিনা রায়হান উদ্দিনকে তিনি ব্যবসায় সম্পৃক্ত করেছেন। মামা ভাগিনা মিলে খামারকে বড় পরিসরে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। ১২ কাটা জমির ওপর তৈরি খামারের এখন নিজস্ব ও লিজ মিলিয়ে প্রায় আড়াই বিঘা জমি আছে। সমুদয় জমিতে হাঁস মুরগী ও গরু পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খামার দেখা শোনার জন্য দু জন কর্মচারী নিযুক্ত আছেন। তাদের মাসিক ১০ হাজার করে ২০ হাজার টাকা বেতন দেন। মহিউদ্দিনের স্বপ্ন তার সৃষ্টি খামার এ অঞ্চলের বেকার যুবকদের কাছে অনুপ্রেরণার কেন্দ্র বিন্দু হবে, সে ল্েয তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, মহিউদ্দিন সমাজের বেকার যুবকদের কাছে দৃষ্টান্ত। শিতি হয়ে চাকুরির জন্য অলস সময় পার না করে কিংবা বিদেশ না যেয়ে সেই অর্থ দিয়ে এ ধরনের খামার প্রতিষ্ঠা করে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ধরনের উদ্যোক্তা সমাজ তথা দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে বলে মনে করছেন অনেকে।

ভাগ