চৌগাছার কৃষক আমিনুরের চমক আখের সাথে কপি পিঁয়াজের চাষ মিলেছে সাফল্য

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু চৌগাছা (যশোর)॥ চৌগাছায় এবার এক কৃষক তার এক বিঘা জমিতে আখ চাষের সাথে অন্তত আরও তিন প্রকার ফসলের চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। তার এই সাফল্যে অনুপ্রানীত হয়ে অন্য চাষিরা আগামীতে এ ধরনের ফসল উৎপাদনে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
কৃষিতে নতুন নতুন উদ্ভাবন এ অঞ্চলের চাষিদের কাছে নতুন কিছু নই। আশির দশকের পর হতে চাষিরা বছরের বার মাসই মাঠে কোন না কোন ফসল ফলায়ে যেমন লাভবান হয়েছেন, তেমনি সকলকে চমকও দেখিয়েছেন। তেমনই এক চমক সৃষ্টি করেছেন কৃষক আমিনুর রহমান। কৃষক আমিনুর রহমান উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের কাবিলপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে। তিনি ১ বিঘা জমিতে পরীক্ষা মূলক ভাবে গেন্ডারী, লিপিষ্টিক গেহুারী এবং দেশীজাতসহ পাঁচ ধরনের আখ চাষ করেছেন। এরমধ্যে যে জাতের আখ তার জমিতে ভাল ফলন দিবে সেটি নির্বাচিত করে আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে চাষের ভাবনা রয়েছে তার। আখ বপনের পর পরই ওই জমিতে বাঁধাকপি, ওলকপি, রসুন ও পেঁয়াজের চাষ করেছেন। আখের সাথে এসব ফসলও খুব ভাল ভাবেই বেড়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে বাঁধাকপি বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেছেন।
গতকাল সরেজমিন যেয়ে দেখা যায়, কৃষক আমিনুর রহমান সাথী ফসলের ক্ষেতে কাজ করছেন। এসময় কথা হলে তিনি বলেন, কৃষি কাজই তার মূল পেশা। প্রতি বছর ধান পাটের পাশাপাশি নতুন ফসল উৎপাদন করাই যেন নেশা। কিছু ফসলে লোকসান হলেও অন্যটিতে ব্যাপল লাভবান হয়। সে কারনে ফসল উৎপাদনে তার বিন্দু মাত্র অনিহা নেই। চলতি মৌসুমে ওই মাঠে সে কয়েক বিঘা জমিতে কুল, পেয়ারা, লিচু, কমলা লেবুর চাষ করেছেন। অধিকাংশ জমি থেকেই ফল উঠা শুরু হয়েছে। তিনি আশাবাদি ফল চাষেও বেশ লাভবান হবেন।
কৃষক আমিনুর রহমান বলেন, এ বছর তিনি ১ বিঘা জমিতে কয়েক জাতের আখ চাষ করেছেন। এরমধ্যে যে জাতের আখ ভাল হবে তা সংরক্ষন করে আগামী মৌসুমে বেশি জমিতে ওই আখের চাষ করা হবে। আখ বপনের পর জমি খালি পড়েই ছিল, সেময় ভাবলাম খালি জমি ফেলে না রেখে স্বল্প মেয়াদের কোন চাষ করা যায় কিনা। সেই ভাবনা থেকেই জমির একাংশে বাঁধাকপি ও অন্য অংশে পেঁয়াজ ও রসুনের চাষ করা হয়েছে। পেঁয়াজ রসুন এখনও ছোট আছে তবে কপি উঠতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বাজারে বিক্রিও করা হচ্ছে। মুল চাষ আখ হলেও সাথে এ সব ফসলের চাষ করে তিনি বেশ সাফল্য পেয়েছেন। আখ চাষের সাথে অন্য ফসল চাষ করতে যেয়ে তার বাড়তি কোন ব্যয় করতে হয়নি। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে সার, কীটনাশক, জোন খরচ এক সাথেই হয়ে গেছে। তার এই চাষ পদ্ধতি দেখে স্থানীয় অনেক চাষিই আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তারাও আগামী মৌসুমে এ ধরনে ফসল উৎপাদনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।
স্থানীয় কৃষক জুল হোসেন, বলুমিয়া, জয়নাল আবেদিন বলেন, কৃষক আমিনুর রহমান মাঠে নতুন নতুন ফসল উৎপাদনে পারদর্শী। সে নতুন ফসল চাষ করে যখন সাফল্য পাই তখন এলাকার অন্যরাও সেই চাষে আগ্রহ হয়ে উঠেন। তার নতুন ফসলের চাষ দেখে অনেকেই আশায় বুক বেঁধেছেন তারও আগামীতে এ ধরনের চাষ করবেন। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সমরেন বিশ্বাস বলেন, এ অঞ্চলের মাটি সব ধরনের ফসলের জন্য বিখ্যাত। তাই কৃষক যে ধরনের চাষ করুক না কেন তারা সময় মত পরিচর্জা করলেই সাফল্য পাই। সাথী ফসলের চাষ ব্যাপক লাভজনক, কৃষি অফিস চাষিদের এ ধরনের ফসল উৎপাদনে নিয়মিত পারমর্শ দেন।

Lab Scan