চৌগাছার কপোতাক্ষ নদের সেতু ও সংযোগ সড়কে যানবাহন পার্কিং

0

 

মুকুরুল ইসলাম মিন্ট, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছা পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কের পার্শ্বরাস্তা বাস ট্রাক আর অবৈধ যানবাহনের দখলে। যত্রতত্রভাবে যানবাহন করা হচ্ছে পার্কিং, জায়গা সংকটে সেখানে ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে চৌগাছার কপোতাক্ষ সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়ক যানবাহন পার্কিং-র ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ছে মানুষ। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন এই সেতু যানবাহন পার্কিং-র নিরাপদ স্থান কি-না। পৌর কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ব্যবস্থা নিলেও কোন উন্নতি ঘটছে না। অবৈধভাবে সড়ক দখলে রাখা যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে সর্বমহল হতে।
চৌগাছা-মহেশপুর ভায়া পুড়াপাড়া সড়কটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এই সড়কে কপোতাক্ষ নদের উপর নির্মিত সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কে দিন রাত সারাক্ষণই কোন না কোন যানবাহন পাকিং করা থাকে। মূল সড়ক হতে সেতু তুলনা মূলক অনেক উচু, সে কারণে বেশ দূর হতেই প্রতিটি যানবাহনের গতি বাড়িয়ে উঠতে হয় সেতুতে। সেতুতে উঠা কিংবা নামার সময় যদি পাশে কোন যানবাহন পাকিং করা থাকে তখন চরম বিপাকে পড়তে হয় চালককে। সেতুটি নির্মাণের পর চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার পর থেকেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধভাবে পর্কিং করা যানবাহনের কারণে বয়োবৃদ্ধ পথচারী ও স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হচ্ছে। পকিং করার কারণে প্রতি দিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেইে আছে। চৌগাছা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও থামানো যাচ্ছেনা অবৈধভাবে পাকিং।
শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে সেতুর পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কে একটি পিকআপ যার নম্বর যশোর ট-১১-১৮১৯ চৌগাছার ব্যবসায়ীদের জন্য পণ্য সামগ্রী নিয়ে এসে পাকিং করে। সেখান থেকে বিশাল আকৃতির মালামাল ভর্তি ভ্যানে করে নেয়া হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। স্থানটি এমনিতেই চরম ঝুঁকিপূর্ণ তার উপর সড়কের বড় একটি অংশ জুড়ে পিকআপ দাঁড়িয়ে, মালামাল আনলোডের জন্য কাজ করেন বেশ কয়েকজন লেবার মালামাল বহনে আছেকয়েকটি ভ্যান। এই পরিস্থিতির মধ্যে সড়কটিতে চলাচল করা সব ধরনের যাননবাহন সেতুতে উঠা নামা করেছে।
সেতুর পূর্বপাশে সড়কের বেশ জায়গা জুড়ে দাঁড়িয়ে ভ্যান, ইজিবাইক ও নছিমন করিমন। ভয়ানক এই পরিস্থিতির মধ্যে পথচারীসহ সকলেই চলাচল করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী চঞ্চল কবির, আব্দুল আলিম, কালু বিশ্বাস, কবির হোসেন জানান, সেতু ও সেতুর পার্শ¦রাস্তার পাশে যেভাবে বাস ট্রাক, নিছমন করিমনসহ অবৈধ যানবাহন যে ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে তাতে মনে হয় ওদের দাঁড়িয়ে থাকার জন্যই হয়ত এই সেতুটি নির্মাণ হয়েছে।
এছাড়া চৌগাছা খাদ্য গুদামের সামনে সড়কের বড় একটি এলাকা জুড়ে দিন রাতের বেশির ভাগ সময় বাস ট্রাক পকিং করা থাকে। উপজেলা পরিষদের সামনের সড়ক হতে পাঁচনামনা মোড় পর্যন্ত বালি ভর্তি ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস পার্কিং যেন নিয়মিত হয়ে উঠেছে। স্বর্ণপট্টির মোড় ও সনু ডাক্তারের মোড় হতে ছুটিপুর বাসস্টান্ড পর্যন্ত সড়কটিতে ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও ইজিবাইকের দখলে। সাধারণ পথচারী ও সড়ক ঘেঁষা ব্যবসায়ীরা এই সব যানবাহনের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
এ ব্যাপারে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইবাদৎ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেশ আগে থেকেই ব্যবসায়ীরা একটি নিয়ম করেছিল যে, দিনের বেলাতে সড়কের পাশে পার্কিং করে কোন মালামাল আনলোড করা যাবেনা। দীর্ঘদিন তদারকির অভাবে এটি বেড়ে গেছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।
চৌগাছা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বলেন, চৌগাছায় একটি বাস টার্মিনাল খুবই জরুরি। আমরা পৌরসভাকে বিষয়টি অবহিত করেছি, টার্মিনাল হলে সড়কের পাশে যত্রতত্রভাবে আর কোন বাস পাকিং হবেনা, বাড়বে না যানজট, ঘটবে না দুর্ঘটনা।
পৌর মেয়র নুর উদ্দিন আল মামুন হিমেল বলেন, সড়কের পাশে যত্রতত্র পাকিং যেন বর্তমানে নিয়মে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সেতুর উপরে ও সংযোগ সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের বিরুদ্ধে আমরা দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Lab Scan