চেয়ারম্যান ও ঠিকাদার দ্বন্দ্বে মোংলায় পানি নিয়ে ভোগান্তি যাচ্ছে না

মনিরুল হায়দার ইকবাল, মোংলা (বাগেরহাট) ॥ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের উপযোগী করে তুলতে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন মোংলা উপজেলার আটটি পুকুর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার (খনন) কাজ সম্পন্ন না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পুকুরগুলো সংস্কারের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হলেও ঠিকাদার আর জনপ্রতিনিধি দ্বন্দ্বের কারণে নিদির্ষ্ট সময়ের মধ্যে এসব পুকুরের খনন কাজ শেষ না হওয়ার গ্রামাঞ্চলের মানুষের পানির ভোগান্তি থেকেই যাচ্ছে। তবে সংস্কার কাজে নিয়োজিত ঠিকাদাররা বলছেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দেয়া নকশা ও ওয়ার্ক অর্ডার মাফিক জনপ্রতিনিধিরা তাদের পুকুর খনন করতে দিচ্ছেন না। অপরদিকে জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারি বরাদ্দের টাকা সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য তারা খনন কাজ তদারকি করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধীর গতিতে কাজ করছে।
জানা গেছে, বাগেরহাট জেলা পরিষদের মালিকানাধীন আটটি পুকুর রয়েছে মোংলা উপজেলার দু’ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। পুকুরগুলোয় মাটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি সংকট দেখা দিলে এসব পুকুর সংস্কারে (বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের উপযোগী করে তুলতে) প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়। সবকটি পুকুর সংস্কারের জন্য গত বছরে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ পায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে। এরপর ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে কাজ শুরু করা হয় এবং ২০১৯ সালের জুন মাসে সবকটি পুকুরের খনন কাজ শেষ করার কথা থাকে। কিন্তু কাজের বর্তমান যে অবস্থা তাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব পুকুরের খনন কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিঠাখালী ইউনিয়নে পাঁচটি আর সুন্দরবন ইউনিয়নে তিনটি পুকুরের খনন কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এসব এলাকার অধিবাসীরা জানান, কাজ শুরুর পর কয়েকদিন থেমে থেমে সংস্কার চললেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। পুকুরগুলো পুরোপুরি সংস্কার না করায় এর পানি স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যবহার করতে পারছেন না। মিঠাখালী ইউনিয়নে পাঁচটি পুকুরের খনন কাজ করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইমন এন্টারপ্রাইজ ও যাকা উল্লাহ ব্রাদার্স। প্রতিষ্ঠান দুটির প্রতিনিধি খলিলুর রহমান জানান, দরপত্রের নিয়মানুসারে ১৪ ফুট গভীর করতে হবে প্রতিটি পুকুর। কিন্তু সাত ফুট পুকুর খনন করলে পানি উঠছে তাই জনস্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ম মেনে ড্রেজার দিয়ে পলি তুলতে হচ্ছে। কিন্তু ওই পদ্ধতিতে পলি তুলতে বাধা দিচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তাদের বাধার কারণেই নির্দিষ্ট সময়ে শুরু হওয়া পুকুরের খনন কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। অন্যদিকে সুন্দরবন ইউনিয়নের তিনটি পুকুরের সংস্কার কাজ করছেন মেসার্স শামিম এন্টারপ্রাইজ। এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিও কাজের ধীরগতির জন্য একই কথা বলে। এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার বলেন, সরকারি বরাদ্দের টাকা সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খনন কাজ তদারকি করেছেন। জনস্বাস্থ্যের দেয়া নকশা ও ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী যাতে পুকুরগুলো সংস্কার করা হয় সে জন্য তারা সজাগ রয়েছেন। বাগেরহাট জেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শামিম আহম্মেদ বলেন, আমরা কাজের শুরু আর সমাপ্তির সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে করে থাকি। ঠিকাদার আর জনপ্রতিনিধির দ্বন্দ্বের কারণে দীর্ঘদিন ওই পুকুরগুলোর খনন কাজ বন্ধ রয়েছে। পুকুরগুলো দ্রুত সংস্কার করে জনসাধারণের ব্যবহার উপযোগী করে তোলার জন্য তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন।

ভাগ