চুয়াডাঙ্গায় একটি ব্রীজের কারনে চিত্রানদীর উজানের পানিতে ৮টি গ্রামের ফসলী জমির ক্ষতি

0

রিফাত রহমান, চুয়াডাঙ্গা॥ চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের খালের ওপর ব্রীজটি তিতুদহ ও গড়াইটুপি ইউনিয়নের ৮টি গ্রামের মানুষের দূর্ভোগের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রীজের নিচে স্লুইচ গেট না থাকায় চিত্রানদীর উজানের পানিতে ওই গ্রাম গুলোর প্রায় ৭ হাজার একর জমির ধান,সবজিসহ অন্যন্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।


চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ও গড়াইটুপি ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে অবস্থিত হিজলগাড়ী-সরোজজগঞ্জ সড়ক। এ সড়কের গোলাপনগর গ্রামের শেষপ্রান্ত এবং গড়াইটুপি ইউনিয়নের শুরুর মুখে রয়েছে চিত্রা নদীর পার্শ্ব বোয়ালখালি খাল। খালের উৎসমুখে রয়েছে একটি ছোট ব্রীজ। চিত্রা নদীর উৎস এবং প্রতিমুখ খনন না থাকায় নদীর পানি ওই ব্রীজের নিচ দিয়ে উজানে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে ইউনিয়ন দুটির গোলাপনগর, গোষ্ট বিহার, গড়াইটুপি, বিত্তিরদাড়ি, তিতুদহ, গহেরপুর, বাটিকাডাঙ্গা, গবরগাড়া, ছিলিন্দিপাড়া গ্রাম মাঠের জমিতে পানি উঠে গেছে। এতে করে এসব মাঠের প্রায় ৭ হাজারর একর জমির ধান, সবজিসহ অন্যন্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক সোবারেক, মান্না, জলিল, দুখি, কদর, ঝন্টুসহ অনেকেই জানান, মাঠে তারা ধান চাষ করেছিলো। ঘরে ওঠার আগেই সে ধান পানির নিচে ডুবেগেছে। শুধু ধান নয় বিভিন্ন প্রকার সবজির চাষ ছিলো তাও নষ্ট হয়ে গেছে। চিত্রার উজানের পানি বোয়ালিয়া গ্রামের খালের ব্রীজের নিচ দিয়ে এসে মাঠকে মাঠ তলিয়ে গেছে। বর্ষা মওসুমে ফসলের জন্য বৃষ্টির পানিই যথেষ্ঠ ছিলো। চিত্রানদীর অপ্রত্যাশিত উজানের পানির শ্রোতের পানিতে ফসলের এ ক্ষতি হয়েছে। ব্রীজের নিচে একটি সুইচ গেট তৈরি না করলে গ্রামের মাঠ গুলো পানিতে তলিয়ে থাকবে। তারা আরো বলেন, যখন পানির প্রয়োজন তখন নদীতে পানি থাকে না। আর যখন বৃষ্টি হয় তখন চিত্রা নদীর অতিরিক্ত পানি উজানে ঢুকে ফসলের ক্ষতি করে।
চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাগেছে, জেলাতে দর্শনা মাথাভাঙ্গা নদীর গোপালখালী ব্রীজের উৎসমুখ থেকে গড়াইটুপি ইউনিয়নের শেষ সীমানা পর্যন্ত ৩৩ কিলোমিটার চিত্রানদী অবস্থিত। এরি মধ্যে চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ড ২৩ কিলোমিটার নদী খনন করেছে। আর উৎসমুখের কিছু পরে ৩ কিলোমিটার এবং শেষের ৭ কিলোমিটার এখনও খনন বাকী রয়েছে। ওই এলাকার কৃষকরা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিতভাবে নদী ও খাল খনননের কারনে অপ্রত্যাশিত পানিতে কৃষি জমি নষ্ট হওয়া ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বিশেষ করে গড়াইটুপি ইউনিয়নের কালুপোল, খাঁড়াগোদা এলাকায় চিত্রা নদী খনন না করায় বর্ষার পানি বের হতে পারছে না। জমে থাকা অতিরিক্ত পানি বোয়ালিয়া গ্রামের ব্রীজের নিচ দিয়ে উজানে প্রবাহিত হয়ে ফসলের মাঠ প্লাবিত হয়ে গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে, চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয় বোর্ড কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে আজ অব্দি ব্রীজটির নিচে একটি স্লুইচ গেট করার উদ্যোগ নেয়নি। চলতি মৌসুমে কৃষকের ধান ও সবজি চাষের জন্য পানির প্রয়োজন না হলেও এই ব্রীজের নিচ দিয়ে চিত্রার উজানের পানি ঢুকে ফসলি জমি ডুবিয়ে দিয়েছে। চিত্রানদীসহ এই খালে বছরের অধিকাংশ সময় পনি থাকে না। অথচ বর্ষা মওসুমে মাঠ-ঘাট থেকে বেয়ে আসা পানিতে চিত্রানদী ভরে যায়। আর সেই পানি উজানে প্রবাহিত হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, এ সমস্যার বিষয়টি অনেকেই জানিয়েছে। ভুক্তভোগীরা যদি লিখিতভাবে জানায় সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। গড়াইটুপি ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান রাজু বলেন, এ ইউনিয়নের মধ্যে ৭ কিলোমিটার চিত্রানদী খনন এখনও বাকি আছে। যার কারণে নদীর পানি স্বাভাবিক গতিতে প্রবাহিত হতে পারছে না। ফলে বর্ষা মওসুমে নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সেই পানি উজানে চাপ সৃষ্টি করছে। এর আগে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সভায় অনেকবার তুলে ধরেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ বলেন, চিত্রা নদী খনন করতে গিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এখানের খাস ও মালিকনা জমিও রয়েছে। সে কারনে কেন্দ্রীয়ভাবে এই জমি গুলো অধিগ্রহনের কাজ চলছে। এই কাজ শেষ হলেই নদী পূণরায় খনন করা হবে। তখন এ সমস্যার সমাধান হবে।

Lab Scan