চুয়াডাঙ্গায় আপত্তিকর অবস্থায় শিক্ষক আটক, অতঃ:পর মুক্ত

0

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদদতা॥ চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামে কামিল মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষক ওয়াহেদ মো. রাশেদীন আমিন ওরফে রাজন রাশেদ নতুন শিক্ষা কারিকুলামের প্রশিক্ষণ ফেলে নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয়েছেন। তবে মোমিনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল-মামুন রতনের হস্তক্ষেপে তার মুক্তি মেলে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে। এ ঘটনার আগে নতুন শিক্ষা কারিকুলামের জন্যে চুয়াডাঙ্গা ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ১৭ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর চলমান প্রশিক্ষণে তিনি প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। দুপুরের ১ ঘন্টার বিরতির মধ্যে ওই শিক্ষক কিভাবে আমিরপুর গ্রামে গেলেন তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আমিরপুর গ্রামবাসী জানান,বেশ কিছু দিন ধরে ওই গ্রামের মরহুম আব্দুর রহমান ওরফে রহমান কাজী (সাবেক কামিল মাদ্রাসার পিয়ন) বাড়িতে ওয়াহেদ মো. রাশেদীন আমিন ওরফে রাজন রাশেদ আসা-যাওয়া করেন। ওই বাড়িতে কাজীর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী তার এক সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছেন। রাজন দ্বিতীয় স্ত্রীকে পেনশনের টাকা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেন।
চুয়াডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশ কুমার সাহা বলেন, ৮ম ও ৯ম শ্রেণির নতুন শিক্ষা কারিকুলাম বাস্তবায়নের জন্যে এই প্রশিক্ষণ ১৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রশিক্ষণের মধ্যে বেলা ১ টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত বিরতি শেষে আবার সেটা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। এর মধ্যে একজন শিক্ষক প্রশিক্ষণ চলমান অবস্থায় কি করে অন্যকোন স্থানে অপকর্ম করেন সেটা ভাবতেও অবাক লাগে। তিনি বলেন, এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। তবে এ ঘটনার ব্যাপারে তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ করা হবে।
মোমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শাহিনুর রহমান শাহিন জানান, রাজন রাশেদ বেশ কিছুদিন ওই বাড়িতে আপত্তিকর কাজ করার জন্যে আসতেন। এদিন দুপুরের পর লোকজন বাড়ির প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে ঘরের মধ্যে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। সেখানে লোকজন রাজনকে গণপিটুনি দেয়। তিনি নিজেকে বাঁচাতে ৯৯৯ ফোন দিলে বেশ কিছুক্ষণ পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তার আগে ইউপি চেয়ারম্যান রতন তাকে ছেড়ে দেন।
মোমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল-মামুন রতন জানান, পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শাহিন ও তারপর ইউনিয়ন যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মমিন তাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান, আমিরপুর গ্রামের ওই বাড়িতে অবৈধ কাজ করার সময় স্থানীয় জনসাধারণ দুজন নারী-পুরুষকে আটক করে রাখে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্ত রাজন ঘরের ভেতর থেকে বের হয়ে বাড়ির উঠানে চেয়ারে বসে আছেন। বাড়ির চারিপাশে লোক সমাগম বেড়েই যাচ্ছিল। পরবতী পরিস্থিতি বিবেচনা করে আটক রাজনের হাতে তার মোটরসাইকেলের চাবি ধরিয়ে দিয়ে আমি তাকে চলে যেতে ও চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসির সঙ্গে দেখা করতে বলি। তিনি তখনই সেখান থেকে দ্রুত চলে যান। তবে স্থানীয় জনসাধারণ বলছিল, তাদের দুজনকে ঘরের ভেতর আপত্তিকর অবস্থায় আটক করা হয়। এ বিষয়টি রাজনকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোন জবাব না দিলেও ওই মেয়েটি বলে কিছু হয়নি।
এ ঘটনার বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদ্রাসার অভিযুক্ত শিক্ষক ওয়াহেদ মো. রাশেদীন আমিন ওরফে রাজন রাশেদ বলেন, আমি নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রশিক্ষণের ফাঁকে আমিরপুর গ্রামে আমাদের মাদ্রাসার সাবেক পিয়ন মরহুম আব্দুর রহমান ওরফে রহমান কাজীর বাড়িতে পেনশন সংক্রান্ত একটি বিষয়ে গিয়েছিলাম। হঠাৎ বন্ধ ঘরের দরজায় আমার একজন ছাত্র টোকা দেয়। আমি দরজা খুলে দিলে সে ‘সরি’ বলে চলে যায়। এরপর দেখি প্রচুর লোকজন জড়ো হচ্ছে। তারপর আমি সেখান থেকে চলে আসি। এর বেশি আমি বলতে পারবো না। তবে ধারণা করছি, আব্দুর রহমান ওরফে রহমান কাজীর দুই স্ত্রী। বড় স্ত্রীর একটি ইনসুরেন্স করা ছিল। সেই ইনসুরেন্সের টাকা উঠানো নিয়ে বিরোধের কারণে আমাকে জড়িয়ে এমনটি ঘটতে পারে।

 

Lab Scan