চুড়ামনকাটিতে ‘প্রেমিকের’ সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণী,আটক ৩

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটিতে এক যুবতী (১৯) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। প্রেমের ফাঁদে ফেলে ডেকে নিয়ে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় যুবতীর প্রেমিকসহ জড়িত ৩ জনকে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পুলিশ আটক করেছে। শুক্রবার (২৬ মে) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে এরমধ্যে একজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অবন্তিকা রায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
আটকরা হলেন, জগহাটি পশ্চিমপাড়ার মৃত সিরাজুল বিশ্বাসের ছেলে মোহাম্মদ বাচ্চু (৪০), জগহাটি পূর্বপাড়ার নজরুল মল্লিকের ছেলে সাকিব হোসেন (২০) ও কমলাপুর বিশ্বাসপাড়ার মো. শরিফুল ইসলামের ছেলে মহাব্বত হোসেন (১৯)।
পুলিশ জানায়, ওই যুবতীর সাথে আটক সাকিবের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২৪ মে সকালে সাকিব যুবতীকে মোবাইল ফোন করে চুড়ামনকাটির বেলতলা নামক স্থানে তার সাথে ঘুরতে যাওয়ার জন্যে অনুরোধ করেন। প্রেমিকের প্রস্তাবে রাজি হন তিনি। পরদিন গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সাকিব ফের তাকে ফোন করলে যুবতী বেলতলায় গিয়ে তার সাথে দেখা করেন। পরে দুইজনে হাঁটতে হাঁটতে জগহাটি বাঁওড়ের মাথায় যান। সেখানে আগে থেকেই সাকিবের সহযোগী মহাব্বত ইজিবাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর সাকিবের আরেক সহযোগী জগহাটি গ্রামের আনিচুর রহমানের ছেলে আজিজুল ইসলাম (২৭) সেখানে এসে উপস্থিত হন। এরপর সাকিব ও আজিজুল যুবতীকে মহাব্বতের ইজিবাইকে করে চৌগাছা উপজেলার জগদিশপুর গ্রামের তুলা উন্নয়ন ফার্মে নিয়ে যান। তুলা উন্নয়ন ফার্মে ঘোরাঘুরি শেষে তারা সেখান থেকে ফিরে আসেন। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা যুবতীকে জোর করে সদর উপজেলার জগহাটি গ্রামের জনৈক সামছুর রহমানের শাকক্ষেতের দক্ষিণ পাশের আইলের ধারে নিয়ে যান। এরই মধ্যে আটক আসামি বাচ্চু সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় তারা যুবতীকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন এবং রাত ১০টা পর্যন্ত তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। যুবতী কান্নাকাটি এবং তাদের পা ধরে মাফ চাইলেও তাকে রেহাই দেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে যুবতীর কাছ থেকে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন আসামি বাচ্চু। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বাচ্চু, মহাব্বত ও আজিজুল। এরপর সাকিব যুবতীকে ধরে জগহাটি রুলপাড়া যাত্রীছাউনিতে নিয়ে যান এবং তাকে সেখানে বসিয়ে রেখে পালিয়ে যান। যাত্রীছাউনিতে মরার মতো যুবতীকে পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে আসেন এক পথচারী। এ সময় ভুক্তভোগী যুবতী ওই পথচারীর সহায়তায় কোতয়ালি থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।
কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই মাইদুল ইসলাম খান রাজীব জানান, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবতী প্রেমিক সাকিবসহ ৪ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেছেন। অপর আসামিরা হলেন, বাচ্চু, আজিজুল ও মহাব্বত। মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে আসামি বাচ্চু, সাকিব ও মহাব্বতকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। শুক্রবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে এর মধ্যে মহাব্বত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

 

Lab Scan