চুক্তির টাকা না পেয়ে হত্যা ইউপি সদস্য উত্তমকে চরমপন্থি কিরণসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

0

 

মীর মঈন হোসেন মুসা ॥ নির্বাচনে জয়লাভে ভূমিকা রাখতে চরমপন্থিদের দেড় লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন উত্তম সরকার। অগ্রিম ২৫ হাজার টাকাও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নির্বাচনে জয় লাভের পর বাকী টাকা দিতে গড়িমসি করায় ওই চরমপন্থিরা তাকেই হত্যা করেন। অবশ্য এর পেছনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অর্ধেন্দু মল্লিকের ইন্ধন ছিল। যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার উত্তম সরকার হত্যা মামলার তদন্তে এমনই তথ্য পেয়েছে ডিবি পুলিশ। তদন্ত শেষ হওয়ায় আদালতে চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে। চরমপন্থি নেতা কিরণ এবং একই ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী অর্ধেন্দু মল্লিকসহ ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে চার্জশিটে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই শামীম হোসেন জানান, তদন্তে জানতে পেরেছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী উত্তম সরকার জয়লাভে তার জন্যে ভূমিকা রাখতে চরমপন্থি নেতা কিরণকে দেড় লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। অগ্রিম হিসেবে তাকে ২৫ হাজার টাকা দেন। কিন্তু নির্বাচনে জয়লাভের পর বাকী ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিতে গড়িমসি করতে থাকেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কিরণ তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তার আরো একটি উদ্দেশ্য ছিল যে, উত্তম সরকার তাদের হাতে খুন হলে ওই এলাকার মৎস্যঘের মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতে অসুবিধা হবেনা। খুন হওয়ার ভয়ে তারা চরমপন্থি কিরণদের দাবিকরা চাঁদা দিয়ে দেবেন।
এরই মধ্যে আবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অর্ধেন্দু মল্লিক গোপনে চরমপন্থি নেতা কিরণের সাথে যোগাযোগ করেন। উত্তম সরকারকে সরিয়ে দিতে পারলে তিনি তাকে দেড় লাখ টাকা দিতে সম্মত হন। রাজী হওয়ায় কিরণকে প্রথমে ৯ হাজার টাকাও দেওয়া হয়। অর্ধেন্দু মল্লিকের স্ত্রী ইতিকা মল্লিক বিকাশের মাধ্যমে কিরণের কাছে ৯ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন।
এরপর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১০ জানুয়ারি অভয়নগর উপজেলার হরিশংকরপুর গ্রামে নিজ বাড়ির কাছে উত্তম সরকারকে গুলি করে হত্যা করেন চরমপন্থি নেতা কিরণের সহযোগীরা। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, হত্যা, পরিকল্পনা ও ইন্ধনসহ বিভিন্নভাবে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় ২০ জনের বিরুদ্ধে। এ কারণে তাদেরকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পলাতক রয়েছে ৭ জন। আটকের পর ৫ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্তকালে হত্যা মিশনে ব্যবহৃত দুটিসহ ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন, যশোরের অভয়নগর উপজেলার ফুলেরগাতি গ্রামের মৃত মনোহর মল্লিকের ছেলে অর্ধেন্দু মল্লিক (৪৫), তার স্ত্রী ইতিকা মল্লিক (৪১), পটুয়াখালী সদরের পুরান বাজার এলাকার মৃত নারায়ণ চন্দ্র সাহার ছেলে বাসুদেব সাহা ওরফে কিরণ ওরফে মাহমুদুর রহমান (৩৯), খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা উত্তরপাড়ার ইসাহাক গোলদারের ছেলে ইকরামুল গোলদার ওরফে জুয়েল (১৯), যশোরের মণিরামপুর উপজেলার পাঁচকাটিয়া গ্রামের নির্মল পাড়ের ছেলে পলাশ পাড়ে ওরফে ছোট দীপঙ্কর (৩৪), অভয়নগর উপজেলার ডহর মশিয়াহাটি গ্রামের অখিল বিশ্বাসের ছেলে অমিতাভ বিশ্বাস (২২), বারান্দী পশ্চিম এলাকার মহন্ত দাসের ছেলে অনুপম দাস(২২), মণিরামপুর উপজেলার পাঁচাকড়ি গ্রামের সহদেব বিশ্বাসের ছেলে অজয় বিশ্বাস (১৯), অভয়নগর উপজেলার কচুয়া গ্রামের প্রফুল্ল বিশ্বাস প্রদীপের ছেলে সাধন বিশ্বাস (২১), সুন্দলী পূর্বপাড়ার মৃত ভদ্দরী বিশ্বাসের ছেলে প্রজিৎ কুমার বিশ্বাস ওরফে বুলেট (৪৬), মণিরামপুর উপজেলার সুজাতপুর গ্রামের পরিতোষ বিশ্বাসের ছেলে পল্লব বিশ্বাস ওরফে সুদীপ্ত (২৪), সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ কদমতলার মৃত শিবপদ মন্ডলের ছেলে প্রশান্ত মন্ডল (৩৮), খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার দিঘলিয়া এলাকার মৃত বিষ্ণুপদ মন্ডলের ছেলে বিজনচন্দ্র মন্ডল ওরফে বিনোদ (৪২), যশোরের অভয়নগর উপজেলার আন্দা গ্রামের গনেশ মল্লিকের ছেলে দীপঙ্কর (৪৩), খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা উত্তরপাড়ার সুভাষ মন্ডলের ছেলে শুভঙ্কর মন্ডল (২৮), বাগেরহাট শহরের আলিয়া মাদ্রাসা রোডের সৈয়দ নাজমুলের বাড়ির ভাড়াটিয়া নুরু আব্দুল শেখের ছেলে হাসান শেখ (৩৩), যশোরের অভয়নগর উপজেলার ফুলেরগাতি গ্রামের নগেন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে অসীম রায় (৩৪), খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চহেড়া গ্রামের রামপদ ফকিরের ছেলে মহিতোষ সরকার (৪৫), যশোরের অভয়নগর উপজেলার রামসরা গ্রামের নিখিল মন্ডলের ছেলে দীপঙ্কর মন্ডল (৩৩) ও মণিরামপুর উপজেলার গাবখালী গ্রামের সাধন বিশ্বাসের ছেলে সুমন বিশ্বাস (৩১)।

Lab Scan