চিনি ও পিঁয়াজের দাম বাড়ছেই

0

 

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ বাজারে চিনির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও প্রতি কেজিতে আবারও বেড়েছে ১২ টাকা। গত তিন সপ্তাহ আগে চালের দাম বাড়ার পর আর কমেনি। গত দু সপ্তাহের ব্যবধানে পিঁয়াজের কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। সরকার নির্ধারিত চিনি, পিঁয়াজের দাম মানা তো দূরের কথা বরং আরও বেশি করে বাড়িয়ে দিচ্ছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। তবে ব্রয়লার মুরগি, গরুর মাংস, মুরগির ডিম ও বেশ কিছু শীতের সবজির দাম কমেছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজার ব্যবস্থাপনায় সঠিক তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ইচ্ছেমত পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। গতকাল শুক্রবার যশোরের বড় বাজার ঘুরে এসব চিত্র পাওয়া যায়।
শুক্রবার বড় বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১৪৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। মাত্র ৩/৪ দিন আগেও ১৩৩ টাকা করে বিক্রি হচ্ছিল। অথচ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৬ মাস আগে গত ১০ মে খুচরা বাজার মূল্য খোলা চিনির কেজি ১২০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। তখন থেকেই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে ১৩০/১৩২ টাকায় বিক্রি করে আসছিল। বাজারে প্রতিটি দোকানে পর্যাপ্ত চিনি মজুত থাকলেও এরই মধ্যে হঠাৎ করেই গত ৩/৪ দিন আগে থেকে খোলা চিনি ১৪৫ টাকা দরে বিক্রি করতে শুরু করে ব্যবসায়ীরা।
যশোরের বড় বাজার চালবাজারে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে বাংলামতি চাল প্রতি বস্তায় (২৫ কেজি) ১০০ টাকা দাম বেড়ে যায়। তাছাড়া অন্যান্য চালেও বস্তায় ৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। সেই দাম এখনও কমেনি। গতকাল শুক্রবার বাজারে বাংলামতি চাল মানভেদে ৬৪ থেকে ৬৬ টাকা, বিআর-৬৩ ধানের চাল ৬০ থেকে ৬২ টাকা, কাজললতা ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, মিনিকেট ৫২ থেকে ৫৬ টাকা, বিআর-২৮ ধানের চাল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা ও নূরজাহান ৪৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশি পিঁয়াজের খুচরা মূল্য ৬৪/৬৫ টাকা ও আলুর খুচরা মূল্য ৩৫/৩৬ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত সে দাম মানেনি বিক্রেতারা। গতকাল শুক্রবার বড় বাজারে দেশি পিঁয়াজের কেজি ১২০ টাকা, আমদানি করা ভারতীয় পিঁয়াজ ১০০ টাকা ও আলু ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এদিকে, বড় বাজার কাঠেরপুলে সিন্ডিকেট ভেঙে ৭৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকায় নিয়ে আসা গরুর মাংস গতকাল শুক্রবার আরও ৩০ টাকা কমিয়ে ৬২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায় বিক্রেতা মো. আব্বাসকে। অবশ্য এখনও এই মার্কেটে ৬৫০ টাকা ছাড়াও কোনো কোনো বিক্রেতা ৭০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করে চলেছেন। কাঠেরপুলের রাজ বিফ হাউসের স্বত্বাধিকারী মো. আব্বাস জানান, ৬২০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট। তিনি আরও জানান, শুক্রবার তিনি সাড়ে ৩ মণ থেকে সাড়ে ৪ মণ ওজনের ৫টা এঁড়ে গরু জবাই করেছেন। তবে বিক্রেতা মো. আব্বাসের পাশাপাশি আরেক বিক্রেতা বিসমিল্লাহ বিফ হাউসের স্বত্বাধিকারী মো. আনু ৬২০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করছেন।
অপরদিকে দীর্ঘদিন ধরে ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দাম নেওয়ার পর খামারের ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমিয়েছেন বিক্রেতারা। গতকাল শুক্রবার প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। সেই সাথে আমদানি হওয়ার খবরেই এবং দেশে ডিম আসার পর দেশীয় খামারীরা মুরগির ডিমের দাম কমিয়ে দিয়েছেন। শুক্রবারের বড় বাজারে প্রতি পিস ডিম সাড়ে ১০ টাকা ও ১১ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তাছাড়া বাজারে শীতকালীন বেশ কিছু সবজির দাম কিছুটা কমে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাঁধাকপি প্রতি কেজি ৪০ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকা, বেগুণ ৪০/৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০/৫০ টাকা, পটল ৪০/৫০ টাকা, উচ্ছে ৫০/৬০ টাকা, শসা ৫০/৬০ টাকা, শিম ৬০/৭০ দামে বিক্রি হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার মাসিক বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী বারান্দিপাড়ার বাসিন্দা সালাহউদ্দিন মোল্লা এ প্রতিবেদককে জানান, সরকার চিনি, আলু ও পিঁয়াজের খুচরা বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করার পরও কেন ব্যবসায়ীরা মানছে না তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তাছাড়া সরকারের বাজার তদারকি সংস্থাগুলো অদৃশ্য কোন কারণে মূল্য নিয়ন্ত্রণে তাদের তৎপরতা কেন দেখাচ্ছেন না, এ বিষয়ে তিনি সন্দেহ পোষণ করেছেন।

 

 

 

 

 

 

Lab Scan