চিনি উৎপাদন ৭% কমিয়ে আনছে থাইল্যান্ড

আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চিনির দাম কমতির দিকে রয়েছে। উৎপাদন ও সরবরাহ কমিয়ে আনা সম্ভব না হলে পণ্যটির দাম কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়ানো যাবে না বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতিতে পণ্যটির উৎপাদন কমানোর পথে হাঁটছে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চিনি রফতানিকারক দেশ থাইল্যান্ড। আগামী ২০১৯-২০ মৌসুমে দেশটিতে চিনি উৎপাদন ৭ শতাংশ কমে ১ কোটি ৩০ লাখ টনের নিচে নেমে আসতে পারে। থাইল্যান্ডের কেইন অ্যান্ড সুগার বোর্ডের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার ও এগ্রিমানি।
চিনি উৎপাদনকারী দেশগুলোর শীর্ষ তালিকায় থাইল্যান্ডের অবস্থান বিশ্বের চতুর্থ। আগামী নভেম্বরে দেশটিতে চিনির ২০১৯-২০ উৎপাদন মৌসুম শুরু হবে। দেশটির সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৯-২০ মৌসুমে থাইল্যান্ডে ১ কোটি ৩০ লাখ টনের সামান্য কম চিনি উৎপাদন হতে পারে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ৭ শতাংশ কম। ২০১৮-১৯ মৌসুম শেষে দেশটিতে সব মিলিয়ে ১ কোটি ৪০ লাখ টন চিনি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
থাইল্যান্ডের কেইন অ্যান্ড সুগার বোর্ডের সেক্রেটারি জেনারেল ওয়ারাওয়ান চিত্রন জানান, ২০১৯-২০ মৌসুমে থাইল্যান্ডে সব মিলিয়ে ১২ কোটি টন আখ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে আখ উৎপাদন কমতে পারে ৮ শতাংশ। ২০১৮-১৯ মৌসুম শেষে দেশটিতে সব মিলিয়ে ১৩ কোটি ৯ লাখ টন আখ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত আখ উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে আগামী মৌসুমে থাইল্যান্ডে চিনি উৎপাদনে মন্দা ভাব বজায় থাকতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম তুলনামূলক কম রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে থাই রফতানিকারকরা পণ্যটি রফতানি করে আর্থিকভাবে লাভের মুখ দেখতে পারছেন না। দেশটির চিনিকলগুলোয় গড়ে উঠেছে পণ্যটির মজুদের পাহাড়। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদনকারীদের পাশাপাশি থাই আখচাষীরাও হতাশ হয়ে পড়েছেন। লোকসান করে আর কোনো চাষী আখ চাষ করতে চাইছেন না। এ কারণে ২০১৯-২০ মৌসুমে দেশটিতে আখের উৎপাদন কমে আসছে। প্রভাব পড়তে যাচ্ছে চিনি উৎপাদনেও।
থাই ট্রেডাররা জানান, চলতি বছর মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে থাই বাথের (স্থানীয় মুদ্রা) অবস্থান বেশ শক্তিশালী রয়েছে। এমনকি এশিয়ার মুদ্রাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে থাই বাথ। এতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে চিনিসহ থাইল্যান্ডের সামগ্রিক রফতানি খাত। এটাই দেশটিতে চিনি উৎপাদনে লাগাম টানার বড় একটি কারণ।

ভাগ