চিতলমারী সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখক সমিতির সভাপতির দুর্নীতি

বাগেরহাট সংবাদদাতা ॥ বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. শহিদুল ইসলাম ও দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মুন্সি দেলোয়ার হোসেন বেআইনিভাবে হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে জমি রেজিস্ট্রির সময় সরকারি ফি শতকরা ৯% বাদেও সাব-রেজিস্ট্রারের নামে শতকরা ১% এবং সমিতির নামে শতকরা ২% সহ বিভিন্ন ফি বাবদ বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকা প্রকাশ্যে হাতিয়ে নিয়েছে। তারা দলিল করতে আসা মানুষকে জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে সমিতির কুপন ছাড়া দলিল রেজিস্ট্রি করতে দেন না। এখানে তারা সীমাহীন দুর্নীতি করার জন্য সরকার নির্ধারিত কোন রেট চার্ট টানাননি। অসহায়, সহজ-সরল ও নিরীহ মানুষদের জিম্মি রাখতে তারা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এলাকায় একটি শক্তিশালী ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেছেন। এমনই সব অভিযোগ তুলে ধরে বৃহস্পতিবার সকালে চিতলমারী উপজেলা প্রেসকাবে এলাকাবাসীর পে আড়–য়াবর্নী চরপাড়া গ্রামের মৃত রত্তন খাঁনের ছেলে খাঁন তৈয়াবুর রহমান (৪৮) এক সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে খাঁন তৈয়াবুর রহমান আরও জানান, মুন্সি দেলোয়ার হচ্ছেন উপজেলা সংলগ্ন আড়–য়াবর্নী গ্রামের মৃত মতু মুন্সির ছেলে। গত কয়েক বছর আগে তিনি চিতলমারী সবুজ সংঘ, বাসস্ট্যান্ড ও নালুয়া বাসস্ট্যান্ডের ফুটপাতে চা বিক্রি করতেন। হঠাৎ করে তিনি দলিল লেখক হয়ে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়ে গেছেন। আর এরপর থেকে সে ধরাকে সরাজ্ঞান করছেন না। দেলোয়ার এলাকায় একজন খারাপ ও হিংস্র চরিত্রের মানুষ হিসেবে পরিচিত। এর আগে তিনি চাঁদাবাজি মামলায় হাজতও খেটেছেন। এসব তথ্য তুলে ধরে তৈয়াবুর রহমান ও ভুক্তভোগী শতাধিক ব্যক্তি সারিত অভিযোগপত্র গত ১৬ অক্টোবর আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক নিবন্ধন অধিদপ্তর (আইজিআর), মহাপরিচালক দুনীতি দমন কমিশন-ঢাকা, পরিচালক র‌্যাব-৬, খুলনা, জেলা প্রশাসক-বাগেরহাট, জেলা রেজিস্ট্রার-বাগেরহাট, পুলিশ সুপার, বাগেরহাট ও চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে দাখিল করেছেন। যা আইন-শৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী ও সংশিষ্ট কর্তৃপ সরেজমিন তদন্ত করলে এর সত্যতা পাবেন বলেও তিনি উলেখ করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চিতলমারী দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মুন্সি দেলোয়ার হোসেন কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে চিতলমারী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. শাহিদুল ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, তিনি নিজেও শুনেছেন তার নামে ও সমিতির নামে টাকা কেটে নেয়া হয়। কোন লিখিত অভিযোগ না থাকায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি ।

ভাগ