চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত সচিব সরকারি হাসপাতালে সমস্যা ও সংকট তৈরি করা হয়েছে ক্লিনিক ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নাজমুল হোসেন খান  শনিবার যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি হাসপাতালে আসেন। এক্স-রে, আল্ট্রাসনো, প্যাথলজি বিভাগ ও মডেল ওয়ার্ড পরিদর্শন শেষে তিনি কনফারেন্স রুমে চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময় করেন।
সভায় সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়ে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। অতিরিক্ত সচিব চিকিৎসকদের বক্তব্যের জবাবে বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার জন্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের টাকার অভাব নেই। কিন্তু ক্লিনিক ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তা না কিনে সরকারি হাসপাতালের সমস্যা ও সংকট তৈরি করে রাখা হয়েছে। যশোর মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. মোঃ নূর কুতুবুল আলম (এনকে আলম) সচিবকে বলেন, যশোরের ছেলে হিসেবে এ অঞ্চলের মানুষের প্রতি তার দায় রয়েছে। ১২ বছর ধরে যশোর মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করানো হলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলা যাচ্ছে না। যশোর মেডিকেল কলেজের ৫শ শয্যা বিশিষ্ট নিজস্ব হাসপাতাল না থাকায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজের অস্থায়ী হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে, শিক্ষার্থীরা থাকছে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে। আর রোগী থাকছে ৫ কিলোমিটার দূরে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। বাসে করে শিক্ষার্থীদের এনে এ হাসপাতালে প্র্যাক্টিক্যাল শিক্ষা ও পরীক্ষা নেয়ার কাজ করতে হচ্ছে। তাতে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাছাড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যে জায়গা প্রয়োজন তা নেই এ হাসপাতালে। যার প্রভাব পড়ছে এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের ওপর। এছাড়া উপকরণ নেই। ইকোমেশিন, ইটিটি মেশিন, প্যাথলজি বিভাগ ও অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি, আইসিইউতে এজিবি মেশিনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি নেই। প্যাথলজি কনসালটেন্ট ডা. হাসান আব্দুল্লাহ, ডা. এবিএম আহসান হাবিবসহ চিকিৎসকদের অনেকে বক্তব্য রাখেন। তাদের কথার জবাবে অতিরিক্ত সচিব মো. নজরুল হোসেন খান ওই সব যন্ত্রপাতির চাহিদামত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে কিনা জানতে চান বিভাগীয় প্রধানদের কাছে। এ সময় তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আক্তারুজ্জামান কিছু যন্ত্রপাতির চাহিদা পাঠানো হয়েছে বলে জানান। অন্যান্য বিভাগের প্রধানগণ জানিয়েছেন, তারা চাহিদাপত্র পাঠাননি। তাদের এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত সচিব বলেন, এর পেছনে ক্লিনিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে। এ কারণে চিকিৎসকগণ সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জামাদির চাহিদাপত্র পাঠান না। জনবলের সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয় মত বিনিময় সভায়। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত সচিব বলেন, এক্ষেত্রে ক্লিনিকের স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে। তিনি বলেন, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি কেনার জন্য সরকারের টাকার অভাব নেই। কিন্তু টাকা ব্যয় করার জন্যে কর্মকৌশল ও সদিচ্ছার প্রকট অভাব রয়েছে। অতিরিক্ত সচিব বলেন, অতীতে যা হয়েছে, এখন আমরা তা হতে দিতে চাই না। আগে মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চিকিৎসার সরঞ্জামাদি কিনে দিতো। এবার দেশের প্রত্যেক হাসপাতাল থেকে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয় প্রধানগণ তাদের চাহিদাপত্র পাঠাবেন। সে মোতাবেক প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করা হবে। যদি কেউ না পাঠিয়ে থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে বিভাগীয় মামলা হতে পারে। এর কারণ হচ্ছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সবচেয়ে বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়। অথচ, রোগীরা চিকিৎসা পায় না বলে অভিযোগ ওঠে। সারাদেশ থেকে আসে অভিযোগের পর অভিযোগ। এতে স্বাস্থ্য মন্ত্রীকেও চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিভাগে সরকার যত টাকা বরাদ্দ দেয়, তা আমরা ব্যয় করতে পারি না। শ’ শ’ কোটি টাকা ফেরত চলে যায়। আবার চিকিৎসা ক্ষেত্রে না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ অবস্থায় হাসপাতালের সমস্যা উদ্ঘাটনপূর্বক চিকিৎসার উন্নতি সাধনে একাধিক কমিটি করা হয়েছে। ওই টিম প্রত্যেক বিভাগ, জেলা উপজেলা পরিদর্শন করছে। এর অংশ হিসেবে তিনি (অতিরিক্ত সচিব) যশোরে এসে হাসপাতাল পরিদর্শন করছেন বলে জানান। এ সময় ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুস সাদিকসহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকগণ উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভা শেষে অতিরিক্ত সচিব ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।

 

Lab Scan