চায়ের ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্য বেঁধে দিল ভারত

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় চা উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোয় পানীয় পণ্যটির ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্য কেজিপ্রতি ৬০ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও হিমাচল প্রদেশের জন্য এর পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে কেজিপ্রতি ৯০ রুপি। ইন্ডিয়ান টি বোর্ডের সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে নিলাম ঘরগুলোর জন্য চায়ের এ ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্য বেঁধে দেয়া হয়েছে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও ইকোনমিক টাইমস।
ইন্ডিয়ান টি বোর্ডের ডেপুটি চেয়ারম্যান এ কে রায় বলেন, ভারতে অনেক ক্ষেত্রেই চায়ের সর্বনিম্ন দাম ওঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উৎপাদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উৎপাদনকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। তাদের লোকসানের বিষয়টি মাথায় রেখে পানীয় পণ্যটির ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্য বেঁধে দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, লোকসান হওয়ায় উৎপাদনকারীদের চা চাষে আগ্রহ কমছে। ফলে ভালো মানের চা উৎপাদন কমতে শুরু করেছে। এ কারণে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি (এফএসএসএআই) কর্তৃক দেয়া প্রয়োজনীয় মানোন্নয়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে চায়ের ন্যূনতম মূল্য বেঁধে দেয়া জরুরি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নিম্নমানের চায়ের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে ভারতীয় চা উৎপাদনকারী ও বিপণনকারীদের। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উৎপাদনকারীরা ন্যূনতম দাম পেলে বাজারে নিম্নমানের চায়ের সরবরাহ সীমিত করা সম্ভব হবে। এর জের ধরে ভালো মানের চায়ের দাম কমে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক সময় দেখা যায় বড় গ্রাহকদের কাছে প্রতি কেজি চা ৬০-৯০ রুপিতে বিক্রি করা হয়। ফলে পুরো চায়ের দামের ওপর একটা প্রভাব পড়ে। ভালো মানের চায়ের দামও তখন পড়ে যেতে থাকে। বাজারে দাম না পাওয়ায় উৎপাদনকারীরা ভালো মানের চা উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এটা সামগ্রিক শিল্পের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। কেননা ভালো মানের চা উৎপাদনে মনোযোগ দিলে, অল্প পণ্য থেকে অধিক আয় করা সম্ভব।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ভারতে প্রায় ১৩০ কোটি কেজি চা উৎপাদন হয়। এর মধ্যে ১১০ কোটি কেজিই প্রচলিত জাতের। দেশটিতে উৎপাদন হওয়া চায়ের ৫০ শতাংশ নিলামে বিক্রি হয়। বাকি অর্ধেক বিক্রি করা হয় ব্যক্তি উদ্যোগে।

ভাগ