চাহিদামতো ওষুধ সরবরাহ নেই : সংকট হাসপাতালে

0

বিএম আসাদ ॥ যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করতে পারছে না সরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাম কোম্পানি লিমিটেড (ইউসিএল)। গত কয়েক মাস ধরে এ অবস্থা অব্যাহত রয়েছে। ফলে ওষুধের অভাবে হাসপাতালের আগত রোগীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
সূত্র জানিয়েছে, এ হাসপাতালে আগে ইউসিএল-র যে সরকারি ওষুধ সরবরাহ করা হতো, বর্তমানে তার সরবরাহ কমে গেছে। চলতি অর্থ বছরে ৮ কোটি ৩২ লাখ টাকার এমএসআর দ্রব্য ক্রয়ের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে কয়েক মাস আগে। এর শতকরা ৭৫ ভাগ ওষুধ সরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইডিসিএল থেকে দেয়ার কথা। বাকি ২৫ ভাগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারের মাধ্যমে নেন। হাসপাতালে আগত রোগীদের ওই ওষুধ থেকে চাহিদা মেটানো হয়। কিন্তু বর্তমানে ইডিসিএল’র ওষুধে প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হচ্ছে না ঠিকমতো ওষুধ সরবরাহ না করার কারণে।
সূত্র জানিয়েছে, গত জানুয়ারিতে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে ইডিসিএল কর্তৃপক্ষের কাছে যে ওষুধ চাওয়া হয়েছে তার অর্ধেক ওষুধও সরবরাহ করতে পারেনি ইডিসিএল। গ্যাস প্রতিরোধক ওমিপ্রাজল ক্যাপসুল হাসপাতাল থেকে চাওয়া হয়েছে ২০ লাখ। সেখানে ইডিসিএল সরবরাহ করেছে ২০ হাজার ওমিপ্রাজল ক্যাপসুল। সেফট্রি এ্যাকজন-১ গ্রাম ইনজেকশন চাওয়া হয়েছে ৩০ হাজার। সেখানে দেয়া হয়েছে ২ হাজার ইনজেকশন। সেফুরোক্সিম ৭৫০ গ্রাম ইনজেকশনের চাহিদা পাঠানো হয়েছিল ২০ হাজার। দেয়া হয়েছে ১ হাজার ইনজেকশন। হাসপাতালে প্রতিদিন রোগীদের ৮ হাজার ওমিপ্রাজল, ১ হাজার সেফট্রিক্সোন, ১ হাজার ও ২শ সেফুরোক্সিম ইনজেকশনের প্রয়োজন হয়। হাসপাতালে দৈনন্দিন ৫শ থেকে ৬শ জন রোগী বিভিন্ন ওয়ার্ডে অবস্থান করেন। চিকিৎসাধীন রোগী ছাড়াও বহির্বিভাগের রোগীরা পান এসব ওষুধ। অন্যান্য আইটেমের ওষুধের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। ফলে হাসপাতালে ওষুধ সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দামে সস্তা এমন কিছু ওষুধ ইডিসিএল থেকে বেশি করে সরবরাহ দেয়া হয়ে থাকে। অন্য ওষুধ তারা সরবরাহ না করায় পরিস্থিতি সামাল দেয়া হচ্ছে ঠিকাদারদের দেয়া ওষুধের মাধ্যমে। কিন্তু তাতে প্রয়োজন মিটছে না।
সূত্র জানিয়েছে, এমএসআর ঠিকাদার নিয়োগ করে ঢাকা থেকে প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয়। তারপর অনুমোদন আসার আগেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারদের কাছ থেকে ১ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ওষুধ গ্রহণ করে। বর্তমানে ওই ওষুধ রোগীদের দেয়া হচ্ছে। যার মধ্যেও অনেক আইটেমের ওষুধ নেই।
এ ব্যাপারে ইডিসিএল-এর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামান চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওষুধ দেয়া হচ্ছে না। যে চাহিদা দেয়া হচ্ছে, তার সবটুকু পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ওষুধ প্রস্তুত করার জন্য কাঁচামালের সংকট আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি নীরব থাকেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আক্তারুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, অসুবিধা নেই। ঠিকাদারদের মাধ্যমে যে ওষুধ কেনা হয়েছে তা রোগীদের দেয়া হচ্ছে।

Lab Scan