চারণ কবি বিজয় সরকারের ৩৭তম মৃত্যুদিবস আজ

0

 

নড়াইল সংবাদদাতা॥ একুশে পদকপ্রাপ্ত উপমহাদেশের প্রখ্যাত চারণ কবি কবিয়াল বিজয় সরকারের ৩৭তম মৃত্যুদিবস আজ। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও চারণ কবি বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আজ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।
চারণ কবি বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মুহাম্মদ আছিফ উদ্দিন মিয়া জানান, বিজয় সরকারের মৃত্যুদিবস উপলক্ষে আজ রোববার বেলা ৩টায় স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর, ৪টায় বিজয়গীতির আসর, সাড়ে ৫টায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, পৌনে ৬টায় কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও কবির আত্মার শান্তি কামনায় দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন, সন্ধ্যা ৬টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: ফকরুল হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। রাতে কবি গানের আসরে কবিগান পরিবেশন করবেন প্রীতিশ সরকার ও শুভ্রজিৎ সরকার।
অসাম্প্রদায়িক চেতনার সুরস্রষ্টা, গীতিকার ও গায়ক, চারণকবি বিজয় সরকার ১৯০৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের ডুমদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম নবকৃষ্ণ অধিকারী এবং মার নাম হিমালয়া দেবী। তার প্রথম স্ত্রী বীণাপাণি দেবীর মৃত্যুর পর প্রমদা দেবীকে বিয়ে করেন তিনি। পরবর্তীতে প্রমদারও মৃত্যু হয়। দু’ ছেলে কাজল অধিকারী ও বাদল অধিকারী এবং মেয়ে বুলবুলি ভারতে বসবাস করেন। তার শৈশবকাল এবং জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে প্রিয় জন্মভূমি ডুমদিসহ নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায়। ছেলেবেলা থেকেই তিনি কবিতা, গান রচনা ও সূরের সাধনা করতেন। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ায় তিনি বেশিদূর এগুতে পারেননি। নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায়ই তার লেখাপড়ার সমাপ্তি ঘটে। মতান্তরে তিনি ম্যাট্রিক পাশ। এরপর তিনি গানের দল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বাংলাদেশ-ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে।তিনি একাধারে গানের রচয়িতা ও সুরকার। পোষা পাখি উড়ে যাবে সজনী/ একদিন ভাবি নাই মনে। এই পৃথিবী যেমন আছে/ তেমনি ঠিক রবে/ সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে/ একদিন চলে যেতে হবে। তুমি জানো নারে প্রিয়/ তুমি মোর জীবনের সাধনা’-এ ধরনের অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা ছিলেন তিনি।তিনি প্রায় এক হাজার ৮০০ গান রচনা করেছেন।
প্রকৃত নাম বিজয় অধিকারী হলেও সুর, সঙ্গীত ও অসাধারণ গায়কী ঢঙের জন্য তিনি চারণকবি ও ‘সরকার’ উপাধি লাভ করেন।১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বেলুড়িয়া নামক স্থানে কন্যা বুলবুলির বাড়ি বিধান পল্লীতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ ২০১৩ সালে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই চারণ কবি।
অজপাঁড়াগায়ে জন্মগ্রহণ করেও তিনি (বিজয় সরকার) লোকসঙ্গীত ও কবিগান রচনা করে ও গেয়ে সবার মাঝে আলো ছড়িয়েছিলেন। তাঁর রচিত আধ্যাত্মিক গান আজও সবার মনে-প্রাণে নাড়া দেয়। গান রচনার মধ্য দিয়ে তিনি সমাজ থেকে কুসংস্কার দুর করার চেষ্টা করেছিলেন। আমাদের সবাইকে যে একদিন পরপারে পাড়ি দিতে হবে সে কথাটিও তিনি গানের মাঝে সবাইকে বুঝিয়েছেন। বিজয় সরকারের ভক্তরা তাঁর গানের স্বরলিপি সংরক্ষণ, ডুমদীতে বিজয় স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মাণ ও নড়াইলে বিজয় সরকারের নামে ফোকলোর ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

Lab Scan