চামড়া সন্ত্রাসী খোকা বাবুদের তিন টার্গেট

গোলাম মাওলা রনি
চামড়া ব্যবসায়ীদের একসময় চামার বলা হতো। চামারেরা গৃহস্থবাড়ি এবং কসাইদের কাছ থেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করতে গিয়ে মাঝে মধ্যে নানান ছলচাতুরী করত। তাদের প্রধান অপকর্ম ছিল- তারা পশুর শরীর থেকে চামড়া ছাড়াতে গিয়ে সুযোগ পেলেই একটু-আধটু মাংসসমেত ছাড়াতে চেষ্টা করত। তাদের এই অপকর্ম রোধ করার জন্য গৃহকর্তা লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতেন। অন্য দিকে, সুচতুর চামার যেভাবেই হোক না কেন- চামড়ার সাথে অন্তত কয়েক ছটাক মাংস লোপাট না করে ছাড়ত না। কারণ, তার ঘরের ছেলে-বুড়ো সবাই সেই চামড়াজাত মাংসের জন্য সারাটা বছর অপেক্ষা করত। আবহমান বাংলার দারিদ্র্যপীড়িত গ্রামাঞ্চলে সত্তর ও আশির দশকে চামারদের উল্লিখিত কর্মকাণ্ড দেখেনি, এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমাদের গ্রামের লোকজন সাধারণত নিষ্ঠুর ও কৃপণ প্রকৃতির মানুষদের গালি দেয়ার জন্য চামার শব্দ ব্যবহার করলেও আমি আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতায় কোনো সত্যিকার চামারের মধ্যে নিষ্ঠুরতা, কৃপণতা বা অন্য কোনো ঘৃণিত বদগুণ দেখিনি।
এরশাদ জমানায় হঠাৎ করেই আমাদের সমাজের অনেক কিছুতে নতুন নতুন সিন্ডিকেট ব্যবস্থা চালু হয়ে যায়। পাকিস্তান আমল অথবা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দশকেও সিন্ডিকেট ছিল। তবে তা কেবল রিলিফের চাল-ডাল-চিনি-লবণ ও ঢেউটিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। স্বাধীনতার পরপরই আরো দু’টি সিন্ডিকেট বেশ প্রভাবশালী হয়ে ওঠে এবং নিজেদের কুকর্ম দিয়ে ইতিহাসে বেশ কুখ্যাতি অর্জন করে। এরা হলো- কম্বল চোর এবং চাটার দল। চোরদের মধ্যে কম্বল চোরের পর গরু চোরেরা সারা দেশে বিরাট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে এবং সেই সিন্ডিকেটে চামারদের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। গরু চোর ও চামারদের সিন্ডিকেটটি প্রবলরূপে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে ১৯৮৬-৮৭ সালের দিকে, যখন দেশে মারাত্মক গণতন্ত্রহীনতার সংস্কৃতি চালু হয়। রাষ্ট্রনীতি, রাষ্ট্রক্ষমতা, গুণ্ডামি-বদমায়েশি-চুরি-চামারি, সামাজিক অপরাধ, প্রেম-ভালোবাসা-যৌনতা-পরকীয়া-ব্যভিচার ইত্যাদি কর্ম ও অপকর্মগুলো একই সমান্তরালে চলতে থাকে। ফলে দেশ-জাতির প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে চামড়া পচা দুর্গন্ধ বেরোতে আরম্ভ করে। গরু চোর ও চামারদের সিন্ডিকেট তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে রীতিমতো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। চোরেরা দলবেঁধে গরু চুরি করে কোনো নির্জন ফসলের মাঠ অথবা ঝোপঝাড়ের মধ্যে নিয়ে যেত এবং তা চামারদের কাছে হস্তান্তর করত। চামারেরা অতি দ্রুত গরুগুলো জবাই করে দ্রুততার সাথে চামড়া ছাড়িয়ে নিয়ে চম্পট দিত। পরে চামড়া বিক্রির অর্থ গরু চোরদের সাথে ভাগাভাগি করে নিত। এই ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেটের কারণে গ্রামাঞ্চলের গেরস্থ বাড়িতে গরু পালন মারাত্মকভাবে হ্রাস পেতে থাকে। ফলে আমাদের খাদ্য তালিকার অন্যতম উপাদান গোমাংসের বাজারে আগুন লাগে, যা সামাল দেয়ার জন্য বৈধ-অবৈধ পথে ভারত থেকে গরু আমদানি শুরু হয়ে যায়।
গরু চোর ও চামারদের উল্লিখিত রসায়নের কথা হঠাৎ করেই মনে এলো সাম্প্রতিককালে চামড়া নিয়ে ঘটে যাওয়া মহা ঐতিহাসিক ন্যক্কারজনক ঘটনার পর, যা কেবল বাংলাদেশই নয়Ñ দুনিয়ার কোথাও ঘটেনি। এমনিতেই বাংলাদেশকে বলা হয় সব সম্ভবের দেশ। এ দেশের চোর ও চামারেরা একসময় কেবল চামড়ার জন্য আস্ত গরু হত্যা করে গরুর রক্ত-মাংস ফেলে দিত অথবা মাটিতে পুঁতে রাখত। পরবর্তীকালে তাদের মানসপুত্রদের কারসাজিতে সেই ঘটনা সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে গেল। এবার গরুর মাংস থাকল ঠিকই- কিন্তু চামড়া চলে গেল কবরে।
চামার-কসাই এবং গরু চোরদের কারণে সেই আদিকাল থেকেই চামড়ার ব্যবসা নানা রঙঢঙে বিতর্কিত হয়ে আসছিল। ফলে এই ব্যবসার মধ্যে ধড়িবাজ-চালাকচতুর লোকদের প্রাধান্য নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আদিকালে মাড়োয়ারি অথবা বিহারি ছাড়া অন্য কেউ চামড়ার আড়তদার হিসেবে পসার জমাতে পারেনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিহারি ও মাড়োয়ারিদের স্থান যারা দখল করেছে, তাদের কারণে পুরো চামড়া সেক্টরে কত বড় হ-য-ব-র-ল ঘটনা ঘটতে পারে, তা ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে এ যুগের টেডি চামারদের সিন্ডিকেট চামড়াসন্ত্রাসী খোকাবাবুরা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, চামড়াসন্ত্রাসীদের সিন্ডিকেট ৫০০ কোটি টাকা লোপাট করেছে- কেউ বলছেন এক হাজার কোটি, আবার অনেকে বলেছেন দুই হাজার কোটি। চামড়া সন্ত্রাসীরা ২০১৯ সালের কোরবানির ঈদকে টার্গেট করে এমন একটি মহাডাকাতির আয়োজন করবে তা আমরা কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি। কারণ, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে যে কোরবানি করা হয়, তার পুরোটাই আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য হয়ে থাকে। কোরবানির পশু পালন- পশু জবাই-মাংস বিতরণ এবং পশুর চামড়া বিক্রির অর্থ পুরোটাই হয়ে থাকে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে। আমাদের দেশসহ তামাম দুনিয়ার কোথাও প্রায় ২০০ কোটি মুসলমানের মধ্যে কেউ ইতঃপূর্বে কোরবানি নিয়ে অধর্মের কাজ করেছে বলে শোনা যায়নি। বিধাতার ক্রোধের ভয়- নিজের আত্মার মানবতাবোধ এবং সামাজিক রীতিনীতির কারণে শত শত বছর ধরে কোরবানির চামড়া বিক্রির দরদাম এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। কোরবানি দাতারা চামড়া বিক্রির অর্থ সাধারণত মসজিদ-মাদরাসা ও এতিমখানায় বিগত শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যেভাবে দান করে আসছিলেন, তাতে কোনো কালে কোনো কলঙ্ক স্পর্শ করেনি।
আমাদের দেশের এতিমখানা, মাদরাসা ও মসজিদ-কেন্দ্রিক যে ধর্মকর্ম এবং দ্বীনি শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে, তা অন্য কোনো দেশে নেই। দেশের ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠী হাজারো বিষয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব-মতবিরোধ অথবা হানাহানি করলেও এতিমখানা, মসজিদ-মাদরাসার ব্যাপারে একমত। অন্য দিকে, এসব প্রতিষ্ঠানে দান-খয়রাত এবং কোরবানির চামড়ার মূল্য দান করার যে ঐতিহ্য সৃষ্টি হয়েছে তা বাংলাদেশের মুসলমানদের মধ্যে এক ধরনের ঐক্যের সেতুবন্ধন এবং ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করে ফেলেছে, যা ইসলামবিরোধীদের জন্য এক মারাত্মক চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছে। ১৬ কোটি মুসলমানের দেশে যে সামাজিক সংহতি, পরধর্ম সহিষ্ণুতা এবং সম্প্রীতি রয়েছে, যা বড় বড় কথা বলা তথাকথিত ধনী ও ক্ষমতাবান রাষ্ট্রের নেই। ফলে বাংলাদেশের সংহতি ও সম্প্রীতি নষ্টের জন্য চামড়াসন্ত্রাসী খোকাবাবুদের পেছনে যদি কোনো সাম্রাজ্যবাদী চক্রের কালো হাত থাকে, তবে তা শেষমেশ আমাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে নিয়ে আসবে। চামড়াসন্ত্রাসীরা আদিকালের গরু চোর ও চামারদের সিন্ডিকেটের মতো কেবল অর্থ লোভে ২০১৯ সালের কেলেঙ্কারি ঘটিয়েছে বলে মনে করি না। তাদের পেছনে বৃহত্তর কালো হাত রয়েছে, যারা মূলত তিনটি টার্গেট বাস্তবায়ন করার জন্য চামড়াসন্ত্রাসীদের দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাদের প্রথম টার্গেট হলো- এ দেশের দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলো, যেগুলোকে কেন্দ্র করে অন্তত ৩০ লাখ এতিম-মিসকিন, দরিদ্র ছাত্রছাত্রী, ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং খাদেম বেঁচে থাকেন। এখানে দ্বীনি শিক্ষা দেয়া হয়- ধর্মকর্ম কায়েম রাখা হয় এবং প্রতিষ্ঠান-কেন্দ্রিক স্থানীয় জনগণের ঐক্য সংহতি বজায় থাকে। কোনো রকম রাষ্ট্রীয় সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়া অথবা বাণিজ্যিকভাবে বেতনভাতা ব্যতিরেকে লাখ লাখ মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানা যেভাবে চলছে এবং প্রায় কয়েক কোটি লোককে বিনি সুতোর বন্ধনে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখছে, তা অন্য কোথাও দেখা যায় না। এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত পরিচালক বা প্রতিষ্ঠাতা, ছাত্র-শিক্ষক এবং কর্মচারীরা সাধারণত নির্লোভ প্রকৃতির, খোদাভীরু এবং দেশপ্রেমিক হয়ে থাকে। ফলে বাংলাদেশকে নিয়ে যেসব বিদেশী সাম্রাজ্যবাদী শক্তি নয়-ছয় করার ধান্ধা করে, তাদের জন্য এসব প্রতিষ্ঠান পারমাণবিক বোমার চেয়েও ভীতিকর। তাই সুদূর অতীতকাল থেকেই ইসলামবিদ্বেষী শক্তিগুলো সবার আগে মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আঘাত হেনেছে।
উল্লিখিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে চামড়াসন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের পেছনে যদি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কালো হাত থেকে থাকে, তবে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। এটি ছাড়া সম্ভাব্য দ্বিতীয় টার্গেট হতে পারে- এ দেশের বিকাশমান এবং দ্রুত বর্ধনশীল চামড়া শিল্পকে ধ্বংস করে দেয়া। বাংলাদেশ থেকে দীর্ঘকাল ধরে প্রক্রিয়াজাতকৃত চামড়া বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়ে আসছে। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন চামড়াজাত পণ্য বিশেষ করে জুতা রফতানিতে বাংলাদেশ এমন এক অবস্থানে পৌঁছে গেছে, যা দেখে চামড়াসন্ত্রাসী নব্য চামারদের বিদেশী গডফাদারদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আকিজ, বে-লেদার, এ্যাপেক্স ফুটওয়্যার প্রভৃতি স্থানীয় কোম্পানি বিশ্বমানের চমৎকার সব জুতার কারখানা এবং ট্যানারি শিল্প গড়ে তুলেছে। যশোর জেলার নওয়াপাড়ায় আকিজ গ্রুপের ট্যানারি নাকি পৃথিবীর মধ্যে সর্ববৃহৎ কারখানা।
বাংলাদেশের ট্যানারি শিল্পের বিরাজমান সমস্যা এবং তার সাথে যুক্ত থাকা আন্তর্জাতিক চক্রান্ত এ বছরের চামড়া কেলেঙ্কারির কারণে পুরো চামড়া খাতকে অস্থির করে তুলেছে। আমাদের ট্যানারিগুলো বর্তমানে যে স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে, সেখানে এখনো কোনো ভৌত অবকাঠামো পূর্ণতা পায়নি। কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার, কেন্দ্রীয় বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশনসহ বিদ্যুৎ-গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ রয়ে গেছে। ফলে কোনো ট্যানারিই পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে উৎপাদনে যেতে পারছে না। অন্য দিকে, হাজারীবাগ থেকে রাতারাতি ট্যানারি শিল্প অপসারণ এবং নতুন শিল্পনগরীতে প্রতিস্থাপনের কাজে প্রতিটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কমপক্ষে এক বছর উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এ ছাড়া নতুন শিল্পনগরীতে প্লট ক্রয়, শিল্প স্থাপন, অবকাঠামো নির্মাণ ইত্যাদি করতেও বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে গিয়ে শিল্প মালিকদের অর্থনৈতিক ব্যাকবোন ভেঙে গেছে। অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন- অনেকে আবার দেউলিয়াত্বের পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন। এ অবস্থায় চামড়া কেলেঙ্কারির ঘটনা তাদের কাছে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো অবস্থা সৃষ্টি করেছে। নব্য চামারদের সম্ভাব্য তিন নম্বর টার্গেট হতে পারে কাঁচা চামড়া রফতানির উদ্দেশ্য হাসিল করা। পরিস্থিতি নাজুক করে দিয়ে সব দায়দায়িত্ব ট্যানারি মালিকদের ওপর চাপিয়ে বাংলাদেশ থেকে কাঁচা চামড়া রফতানি করার সরকারি অনুমতি হাসিল করার জন্য নিজেদের ষোলকলা পূর্ণ করার মাধ্যমে বিদেশী স্বার্থ রক্ষা করার সন্দেহটি অমূলক নয়। কারণ, অতি সম্প্রতি খবর বের হয়েছে, আমাদের সীমান্তের কাছাকাছি পশ্চিম বাংলায় ভারতের মোদি সরকারের মদদে একটি ট্যানারি শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার নাম বানতলা চামড়া শিল্পনগরী। অতীতকালে বাংলাদেশের পাট শিল্প এবং টেক্সটাইল শিল্প ধ্বংস হওয়ার খেসারত জাতিকে এখনো দিতে হচ্ছে। সুতরাং পাট ও টেক্সটাইলের মতো চামড়া শিল্পও যদি আন্তর্জাতিক চক্রান্তের কবলে পড়ে নিঃশেষ হয়ে যায়, তবে চামড়াসন্ত্রাসীদের হয়তো গরু চুরির আদি পেশায় ফিরে যেতে হতে পারে। ২০১৯ সালের চামড়া কেলেঙ্কারি যে সত্যিকার অর্থেই একটি জাতীয় সমস্যা, তা সরকারের কর্তাব্যক্তিদের কথাবার্তাতেই বোঝা যাচ্ছে। সরকার বলছে- কোনো সমস্যা নেই বা হয়নি। সামান্য কিছু চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে সরকারকে বিব্রত করার জন্য, যা কিনা বিএনপির চক্রান্ত। সরকারের এ ধরনের বক্তব্যের মধ্যেই সমস্যার গভীরতা ফুটে ওঠে। কারণ, আমাদের দেশের সরকারগুলো যখন বলে সমস্যা নেই- তখন ধরে নেয়া হয় যে, সমস্যা রয়েছে। ডেঙ্গু-গুজব-বন্যা ইত্যাদি নিয়ে সরকারের উল্টো বক্তব্যই প্রমাণ করেছিল, সমস্যা সত্যিই প্রকট। অন্য দিকে, ক্ষমতাসীনেরা যখন কোনো সমস্যার জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করে তখন ধরে নিতে হয়, তারা সমস্যা সমাধানে আগ্রহী নয় অথবা সমস্যাকারীদের টিকি স্পর্শ করার ব্যাপারে তাদের অনীহা বা ভীতিবোধ কাজ করছে।
লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য

ভাগ