চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা নিন

0

সমাজে চাঁদা এখন যেন বৈধতা পেয়ে গেছে। বিশেষ করে পরিবহন খাতে। এ খাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও পাওয়া যায় চাঁদাবাজির অভিযোগ। সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পরিবহনে চাঁদাবাজির ঘটনা তো ওপেন সিক্রেট। এই করোনার সময়েও থেমে নেই পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি। সরকারি বিধি-নিষেধে দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় ঈদের সময় মাইক্রোবাস ও পিকআপে গাদাগাদি করে বাড়িতে যাতায়াত করে মানুষ। ওই সময়ে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, লকডাউনের মধ্যেও ঈদ যাত্রায় মানুষের গ্রামে ফেরার আকাক্সক্ষাকে পুঁজি করে নিষেধাজ্ঞার পরও কৌশলে বিভিন্ন রুটে চলে দূরপাল্লার বাস। আবার একইভাবে ফিরেছে বা ফিরছে কর্মক্ষেত্রে।
করোনা মহামারির সময়ে এসে পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির কৌশল বদল হয়েছে। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের কঠোর বিধি-নিষেধের কারণে দেশে বন্ধ দূরপাল্লার বাস, ট্রেন-লঞ্চ, স্টিমার। মাঝপথে এসে শুধু জেলার সীমানা পর্যন্ত আছে বাস চলার অনুমতি। এই সুযোগে দূরপাল্লায় সীমিত পরিসরে চলছে ছোট যানবাহনও। সুযোগে পেয়ে চাঁদাবাজির নতুন মওকা শুরু হয়েছে। এ সংক্রান্ত খবরে বলা হয়েছে, আগে সড়ক-মহাসড়কে গাড়ি আটকে তোলা হতো চাঁদা। এখন গাড়ি ছাড়ার সময়ই নির্ধারিত স্থানে অনেকটা গোপনে গুঁজে দেওয়া হচ্ছে টাকা। তবে মাঝপথে থাকে পুলিশের বাগড়া, হঠাৎ থেমে যায় গাড়ির চাকা। পুলিশের পকেটে টাকা পড়লেই গাড়ি ছোটে নির্দিষ্ট গন্তব্যে। মহাসড়কের ছোট-বড় ট্রাক, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকেও পুলিশ ও পরিবহনের চিহ্নিত দুর্বৃত্তদের চাঁদাবাজি চলছেই। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একরকম প্রকাশ্যেই তারা পরিবহন শ্রমিক ও চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে। হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা ঘাটে ঘাটে চাঁদা নিচ্ছেন। এ ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন স্ট্যান্ডে মালিক-শ্রমিকদের একাধিক অংশও টাকা তুলছে সমানতালে। নানা বিধি-নিষেধ ও কড়াকড়ির পরও বগুড়াসহ সড়ক-মহাসড়কে কৌশলে চাঁদাবাজি চলছেই। যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা জানান, ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-খুলনা ভায়া পাটুরিয়া সড়কে সক্রিয় চাঁদাবাজদের একাধিক সিন্ডিকেট রয়েছে। এদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন যানবাহনের চালকরা। চাঁদাবাজরা চাঁদাবাজির পয়েন্ট বদলে কাজ করছে। ফেরীঘাটে চলছে প্রকাশ্যেই। অভিযোগ রয়েছে, এক শ্রেণীর পুলিশ সদস্য ও পরিবহন শ্রমিকরা মিলে গড়ে তুলেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। পরস্পরের যোগসাজশে কৌশলে সড়ক-মহাসড়কে চলছে টাকার খেলা। চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যাপারে অনেক লেখা হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রীই শেষ ভরসা।

 

Lab Scan