ঘূর্ণিঝড় মিধিলি: বাগেরহাটে বর্ষণে বিপাকে ধান চাষি

0

বাগেরহাট সংবাদদাত॥ ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে বাগেরহাটে টানা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর ধানের বীজতলা। মাঠঘাট ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি রয়েছে পানির নিচে। যার ফলে চারা দেয়া ক্ষেতের ধান ভেসে যাওয়া ও নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া চারা দেয়ার জন্যে বীজ ধান প্রস্তুত থাকলেও পানি ও বৃষ্টির কারণে বীজতলা বুনতে পারছেন না কৃষকরা। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত ভারী বর্ষণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ধানের চারার উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন চাষিরা। যার প্রভাব পড়বে বোরো উৎপাদনে।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বাগেরহাটে ৬৫ হাজার হেক্টরের অধিক জমিতে বোরো রোপণ করবেন কৃষক। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টনের মত। বাগেরহাটে মূলত নভেম্বরের শুরু থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বোরো মৌসুম চলে। বোরো রোপণের জন্যে চাষিরা নভেম্বরের শুরু থেকে চারা তৈরির জন্যে ক্ষেতে বীজ ধান বোনা শুরু করেন।
বাগেরহাট সদর উপজেলা, কচুয়া, ফকিরহাট, চিতলমারী, মোল্লাহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমিতে চাষিরা বীজ ধান বপন করেছেন। জমিতে বোনা বীজধান বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাচ্ছে। বীজধান বোনার জন্যে প্রস্তুত করা জমির ওপর এক থেকে ২ ফুট পর্যন্ত পানি রয়েছে। এই বৃষ্টি যদি স্থায়ী হয় তাহলে অনেক বেশি ক্ষতি হবে বলে মনে করছেন কৃষকরা।
কচুয়া উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক শেখ রুস্তম আলী বলেন, ১৮ কেজি বীজধান প্রস্তুত করেছিলাম চারা দেয়ার জন্যে। যে জমিতে বীজ বুনবো সেখানে এখন প্রায় ২ ফুট পানি। শনিবারের মধ্যে পানি না কমলে আমার ৬ হাজার টাকার ধান একদম পানিতে ফেলে দেয়া লাগবে।
পাশের গ্রাম পদ্মনগরের শহিদুল ইসলাম বলেন, সোমবার বীজ ফেলেছিলাম। চারা কেবল সামান্য বড় হয়ে উঠছিল। কিন্তু এখনতো চারার ওপরে দেড় ফুট পানি। কি হবে জানি না। শরণখোলা উপজেলার খুড়িয়াখালী আমন চাষি রেজাউল গাজী বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই ধান কেটে ঘরে তোলার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু রাতভর বৃষ্টিতে ধান একদম ন্যুয়ে পড়ে মাটির সাথে মিছে গেছে। পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে ধান। কি হবে জানি না।
আমন চাষি হারুণ শেখ বলেন, কয়েকদিন হয়েছে ধান ফুলে বের হয়েছে। এখন পর্যন্ত ধান দাঁড়ানো রয়েছে। তবে বৃষ্টি যদি বেশি হয় তাহলে ধান ঘরে তোলা যাবে না।
মোল্লাহাট উপজেলার গাড়ফা গ্রামের কৃষক প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ বলেন, ঝড়ে আমার ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একশ’র বেশি পেঁপে গাছ ভেঙে পড়েছে। প্রতিটি গাছে ১ থেকে দেড় মণ পেঁপে ছিল।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বাগেরহাটের উপপরিচালক শঙ্কর কুমার মজুমদার বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বোরো ধানের বীজতলা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে এখনও সময় রয়েছে। কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন। ঘেরের পাড়ের সবজি ও শীতকালীন সবজিতে কোন প্রভাব পড়বে না। ঝড়ো বাতাস বৃদ্ধি পেলে আমন ধানের কিছুটা সমস্যা হতে পারে।

Lab Scan