ঘূর্ণিঝড় ফণী : রাত বাড়ার সঙ্গে আতঙ্ক বাড়ছে উপকূলীয় মানুষের

শেখ মাসুদ হোসেন, সাতক্ষীরা॥ ঘূর্ণিঝড় ফণী’র প্রভাবে আকাশ গুমট, থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এরসঙ্গে বেড়েছে বাতাসের গতি বেগ এবং নদীতে জোয়ারের পানি। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শুক্রবার মধ্যরাতের পর সাতক্ষীরার উপকূলসহ দেশে আঘাত হানবে ফণী। এমন পরিস্থিতে আতঙ্ক বাড়ছে সাতক্ষীরার উপকূলবর্তী মানুষের। ইতোমধ্যে-শ্যামনগর উপজেলার ১০৯টি এবং আশাশুনি উপজেলার ১০৭ আশ্রয়কেন্দ্রে ৫০ হাজর মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে আবার ভিটের মায়া ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে চাচ্ছেন না। তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোর করে আনা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা আহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে সাতক্ষীরা ৭ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে ফণী’র প্রভাবে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বাতাসে গতি বেগ বড়েছে। সাতক্ষীরার উপকূলসহ বাংলাদেশে মধ্যরাতের পর ‘ফণী’ সারাদেশে আঘাত হানবে।’ আগামীকালও অব্যাহত থাকবে এই ঝড়।’ রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরা উপকূলের শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালীনি, মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও কাশিমাড়িসহ আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা ও শ্রীউলা এলাকার লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গাবুরা ইউনিয়নের আব্দুল হালিম বলেন, আমরা উপকূলীয় এলাকার মানুষ। সুন্দরবনের বাঘ, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে আছি। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত আকাশ দেখে বোঝা যায়নি ঝড় আসছে। দুপুরের পর থেকে আকাশে কালো মেঘ ঘুরে বেড়াচ্ছে। আকাশ গুমোট আকার ধারণ করেছে। এলাকার মাইকিং করা হচ্ছিল ঝড় রাতে আঘাত হানতে পারে। আমাদের ইউনিয়নের বাঁধের অবস্থা ভালো না। নদীতে বড় কোনও জোয়ার আসলে বাঁধ ভেঙে এলাকার পানি প্রবেশ করে। ২০০৯ সালে ২৫ মে আইলার সেই রাতের কথা এখন ভুলতে পারি না। কয়েক মিনিটের মধ্যে আমাদের পুরো ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে যায়। সে কারণে এবার আর দেরি করিনি। বিকালে ঝড়-বৃষ্টির পর ভয়ে বাচ্চাদের নিয়ে সাইক্লোন শেল্টারে চলে আসি।
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ফরহাদ হোসেন বলেন, পরিবারের সবাই একসঙ্গে থাকবো। যতোই ঝড় হোক, আমাদের যা হোক না কেন বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাবো না।’ বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল বলেন, ‘আমাদের এখানকার বেড়িবাঁধের অবস্থা নাজুক। যেকোনও মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হতে পারে। আমাদের ইউনিয়নের মানুষ আতঙ্কে আছে। রাত যতো বাড়ছে মানুষ ততোই আতঙ্কিত হচ্ছে। কেউ এখন আর বাড়িতে নেই। সবাই বুড়িগোয়ালিনী স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টারে অবস্থান করছে। সাইক্লোন শেল্টারে জায়গা না পেয়ে অনেকে মানুষ রাস্তায় অবস্থান করছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন থেকে যে খাদ্য দেওয়া হয়েছিল তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। পরে তাদের জন্য শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।’
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা বলেন, ‘আমার উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৩৫ হাজার মানুষ ঝুঁকিতে আছে। ১০৭ আশ্রয় কেন্দ্রে ১৪ হাজার মানুষকে আনা হয়েছে। অনেক আসতে চাচ্ছেন না।’ শ্যামনগর উপজেরা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সুজন সরকার বলেন, ‘শ্যামনগর উপজেলার ১০৯টি শেল্টারে ৩৪ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জন্য পর্যপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই এলাকার অনেক মানুষ আছে তারা আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে চায় না। প্রাণহানি কমাতে তাদের গ্রাম পুলিশ দিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সব মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে আনা হয়েছে।’

ভাগ