গণস্বাস্থ্যের কিট কেন গুরুত্বপূর্ণ জানালেন বিজন শীল

লোকসমাজ ডেস্ক॥ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র আবিষ্কৃত করোনা শনাক্তের কিট দেশজুড়ে আলোচিত। এই কিটের প-েবিপে রয়েছে অনেক মতামত। এর আবিষ্কর্তা গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীল। দ্রুত সময়ে করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট আবষ্কিার করে তিনি বাংলাদেশজুড়ে পরিচিত ও জনপ্রিয়। যদিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও তার খ্যাতি রয়েছে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজার সঙ্গে সাাৎকারে উল্লেখ করেছেন গণস্বাস্থ্যের কিট কেস গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়টি।
বিজন কুমার শীল বলেন, ‘আমরা অ্যান্টিবডি এবং অ্যান্টিজেন দুটি পরীার কিট উদ্ভাবন করেছি। এই দুটি পরীা যদি সম্পন্ন করা যায়, তবে প্রায় সব রেজাল্ট সঠিক পাওয়া যায়। শতভাগ হয়ত বলা যায় না। সামান্য এদিক সেদিক হতে পারে। যদিও আমরা প্রায় শতভাগ সাফল্য পেয়েছি। যে কথা ডা. জাফরুল্লাহ স্যার বারবার বলেছেন। ডায়াগনস্টিকের দুটি উইন্ডো থাকে। একটি ভাইরাল উইন্ডো, অন্যটি হোস্ট উইন্ডো। হোস্ট মানে মানব শরীর। কোনো ব্যক্তি যখন ভাইরাসের আক্রমণের শিকার হন, তখন তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ মতা সৃষ্টিকারী যে অঙ্গগুলো থাকে তারা একটি বায়োমার্কার তৈরি করে। এই বায়োমার্কার শরীর থেকে ভাইরাস দূর করে। আমাদের কিট দিয়ে অ্যান্টিবডি এবং অ্যান্টিজেন অর্থাৎ দুটি উইন্ডোই পরীা করা যাবে। আমরা যদি শুধু অ্যান্টিবডি বা শুধু অ্যান্টিজেন পরীা করতাম তাহলে সব ভাইরাস শনাক্ত করতে পারতাম না। যেহেতু আমরা দুটি পরীাই করতে পারছি, সেহেতু আমাদের সাফল্যের হার অনেক বেশি।
একটি উদাহরণ দিয়ে বললে হয়ত বুঝতে সুবিধা হবে। গত রোববার একটি ডাক্তার পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বাবা-মা-ছেলে তিনজনই ডাক্তার। ছেলে গত ১০ মে হাসপাতাল থেকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ১২ মে পিসিআর পরীায় তার কোভিড-১৯ পজিটিভ এসেছে। তার বাবা-মাও পজিটিভ। তাদের নমুনা আমাদের কিট দিয়ে পরীা করে দেখলাম ছেলের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। বাবার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে সামান্য, যা শনাক্ত করা যায় না বললেই চলে। কিন্তু তার অ্যান্টিজেন তৈরি হয়েছে। মায়ের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি, অ্যান্টিজেন তৈরি হয়েছে। এই তিনজনের েেত্র আমরা যদি শুধু অ্যান্টিবডি পরীা করতাম, তবে শনাক্ত হতো একজন। যদি শুধু অ্যান্টিজেন পরীা করা হতো, তাহলে শনাক্ত হতেন দুইজন। যেহেতু আমরা অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন দুটিই পরীা করতে পেরেছি বলে তিনজনকেই শনাক্ত করতে পেরেছি। এটাই হচ্ছে আমাদের উদ্ভাবিত গণস্বাস্থ্যের কিটের বিশেষত্ব। সে কারণেই শতভাগ সাফল্যের প্রসঙ্গ আসছে।
আমরা করোনাভাইরাস শনাক্তের পূর্ণাঙ্গ একটি কিট মানে মাত্র তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে শনাক্তের একটি পদ্ধতি দেশকে, বিশ্ববাসীকে দিতে যাচ্ছি। এটা হচ্ছে আমাদের আনন্দ’। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পিসিআরে একটি পরীার রেজাল্ট পেতে দুই দিন লেগে যাচ্ছে। একটি ল্যাবে যদি ৫০০ স্যাম্পল আসে, পরীা করতে হয়ত ১০ দিন লাগছে। সেখানে আমাদের কিট গিয়ে একদিনেই ৫০০ পরীা করে রেজাল্ট পেয়ে যাবেন। একটি ল্যাবে একদিনে কয়েক হাজার পরীা করা যাবে। একটি পরীায় সময় লাগবে মাত্র তিন থেকে পাঁচ মিনিট। এ েেত্র আরেকটি কথা বলে রাখা দরকার, পরীায় শনাক্ত করা গেল কিনা তা অনেকটা নির্ভর করে, কে কখন পরীার জন্যে যাচ্ছেন তার উপর। একজনের হয়ত সামান্য কাশি হলো, প্রথম দিনই তিনি পরীার জন্যে গেলেন। আরেকজন হয়ত কাশির সাত দিন পরে গেলেন। প্রথম দিন যিনি গেলেন পিসিআরে তার রেজাল্ট সঠিক আসবে। সাত দিনের দিন যিনি গেলেন, পিসিআরে তার রেজাল্ট সঠিক নাও আসতে পারে। আমাদের কিটের টেস্টে দুইজনের রেজাল্টই সঠিক আসবে। প্রথম দিনের জনের অ্যান্টিজেন ও সাত দিনের জনের অ্যান্টিবডি টেস্ট সঠিক আসবে।’

ভাগ