গণপিটুনিতে তিন ‘চোর’ নিহত

স্টাফ রিপোর্টার, অভয়নগর (যশোর) ॥ যশোরের অভয়নগরের পল্লীতে তিন গরুচোর গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে। গরু চোর চক্রের সদস্য জনি শেখকে আটক করা হয়েছে। অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের প্রেমবাগ গ্রামে এই গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভয়নগর থানায় পৃথক দুইটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ব্যাপারে গাইদগাছি গ্রামের খোরশেদ আলী বলেন, ’সোমবার গভীর রাতে গোয়ালঘরের তালা ভাঙার শব্দ ও গরুর ডাক শুনে ঘর থেকে বের হই। গোয়াল ঘরের দরজার উপরে চক দেয়া লেখা “গোয়াল আপনার গরু আমাদের”। ওই সময় আমি গরু চুরির বিষয়টি আঁচ করতে পেরে প্রেমবাগ বাজারে থাকা ভাগ্নেকে মোবাইল ফোনে জানাই এবং স্থানীয় মসজিদের মাইকে গরু চুরির বিষয়টি প্রচার করা হয়’।
এলাকাবাসী জানায়, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টায় মসজদিরে মাইকে গরু চুরির খবর প্রচার হওয়ায় গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় একটি পিকআপে থাকা চুরি হওয়া গরুসহ তিন চোরকে ধরে গণপিটুনি দেয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই গরু চোরের মৃত্যু হয়। অপর একজনকে আহত অবস্থায় অভয়নগর থানা পুলিশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত ওই চোরেরও মৃত্যু হয়। তার নাম পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশের হাতে আটক গরু চোর সদস্য জনি শেখ বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট কাটাখালী গ্রামের ওহাব শেখের ছেলে। তার কাছ থেকে নিহত দু’চোরের পরিচয় পাওয়া যায়। তারা হলো সোহেল, শওকত এবং অজ্ঞাত একজনও একই গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন যশোরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুসেইন খাঁন ও অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম। এ ব্যাপারে প্রেমবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন জানান, গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে দুইজন ঘটনাস্থলে মারা যায় এবং আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে তারও মৃত্যু হয়। পরে প্রেমবাগ বাজার থেকে জনি শেখ নামের অপর এক চোরকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। অভয়নগর থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, আটক জনি শেখের জবানবন্দি অনুযায়ী জানা যায়, সোমবার গভীর রাতে যশোর সদর উপজেলার গাইদগাছি গ্রাম থেকে একটি পিকআপ ভ্যানে করে কয়েকটি গরু চুরি করে অভয়নগরের প্রেমবাগ ইউনিয়নের সিমান্তের গ্রামে প্রবেশ করে। এ সময় গ্রামবাসী তাদেরকে ঘিরে ফেলে এবং গণপিটুনি দিতে শুরু করে। ওসি আরো বলেন, গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলে দুইজন এবং অপর একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। নিহত তিনজনের মধ্যে দুইজনের পরিচয় জানা গেছে। জেলা পুলিশ সুপারসহ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে যশোর জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, আইন অনুযায়ী একটি হত্যা মামলা ও একটি চুরি মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। আইন হাতে তুলে নেয়া কারোর উচিত নয়। তদন্তপূর্বক পৃথক দুইটি ঘটনার আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভাগ