খোকা ভাইয়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ হোক

সাদেক হোসেন খোকা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। একজন পরীক্ষিত দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী নেতা। ছিলেন অবিভক্ত ঢাকা সিটির নির্বাচিত মেয়র। ছিলেন একজন মন্ত্রী। তবে এসব পদপদবী তাঁর নামের সাথে যুক্ত হলেও সারা দেশে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘খোকা ভাই’ নামে। খোকা ভাই তাঁর নয়, দেশ জুড়ে দলমত বয়স সব ভুলে মানুষ তাঁকে ডাকতো খোকা ভাই বলে। মৃত্যুকালে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। গত পরশু ৪ নভেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই ৪ নভেম্বর এখন বিএনপির জন্য শোকের দিনে পরিচিত হয়ে গেল। এই দিনে দলটি হারানো তাদের শীর্ষ দুই নেতাকে। গত বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর বিকেলে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দলের শীর্ষ স্থানীয় নীতিনির্ধারক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের রূপকার খ্যাত সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম। আর এবার তাঁর স্মরণসভা চলাকালে সুদূর আমেরিকা থেকে খবর এলো সাদেক হোসেন খোকা আর নেই। কারো কারো কাছে এই মৃত্যু কাকতালীয় মনে হলেও গুরু শিষ্যের এই বিদায় আমাদের কাছে মহান আল্লাহর এক রহমত বলেই মনে হয়েছে। এখন থেকে যেখানেই তরিকুল ইসলামের জন্য স্মরণসভা বা দোয়া মাহফিল হবে সেখানেই তাঁর শিষ্য খোকা ভাইয়ের জন্য আলোচনা ও দোয়া হবে। দল দু’জনকেই এক সাথে স্মরণ করবে। আমরা আজ তাই একই সাথে দু’জনের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। তারা অনেকেই সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা খোকার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার। মৃত্যু শয্যায় এটাই ছিল সাদেক হোসেন খোকার শেষ ইচ্ছা। সন্তানের মাধ্যমে তিনি এ দাবি দেশের সরকার ও তাঁর দল বিএনপি নেতৃবৃন্দকে জানান। বিএনপি নেতৃবৃন্দ এই দাবি বা ইচ্ছা পূরণে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আমরা এ ব্যাপারে সরকারের আন্তরিক ইচ্ছার দাবি জানাচ্ছি। কারণ, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ইচ্ছা ছাড়া এই বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজধানীর সাবেক মেয়র ও মন্ত্রীর মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হবে না। একই সাথে তার পরিবার যে ভিসা জটিলতায় রয়েছে তাতে তাদেরও ফেরা সম্ভব হবে না। আমরা আশা করবো, সরকার সাদেক হোসেন খোকাকে শুধুমাত্র বিএনপির একজন নেতা বা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দেখবে না। তারা খোকাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেখবে। ’৭১ এর রণাঙ্গনে সরাসরি যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক জীবনে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া, মেয়র ও মন্ত্রী হিসেবে ব্যাপক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা এবং বাবরী মসজিদ ধ্বংসের পর রাজধানীতে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করে জাতিকে সম্মানিত করা সেই স্মরণীয় ঘটনাগুলো বিবেচনা করবে। মানবিক দৃষ্টিতে দেখবে মানবিক আবেদন। আমরা সাদেক হোসেন খোকার আত্মার মাগফেরাত কামনা ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। একই সাথে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাচ্ছি, দেশপ্রেমিক এই জাতীয় বীরকে তুমি জান্নাতুল ফেরদৌস দান করো।

ভাগ