খেলার খবর

0

আইপিএলে সাকিবের দল না পাওয়া নিয়ে মুখ খুললেন শিশির
স্পোর্টস ডেস্ক॥ আসন্ন আইপিএলে সাকিব আল হাসানের দল না পাওয়া নিয়ে রীতিমতো ঝড় বইছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। কেবল ভক্ত বা বাংলাদেশের সাধারণ ক্রিকেট দর্শকই নন; দেশসেরা অলরাউন্ডারের দল না পাওয়ার আলোচনায় যোগ দিয়েছেন তার বেশ কয়েকজন জাতীয় দলের সতীর্থও। এবার সেই আলোচনার টেবিলে শামিল হলেন সাকিবের স্ত্রী সাকিব উম্মে আল হাসানও। প্রথমবারের মতো আইপিএলে সাকিবের উপেক্ষিত হওয়ার কারণ জানালেন তিনি। আইপিএল চলাকালীন দুটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ খেলতে মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে টাইগাররা। আশা করা হচ্ছে, এপ্রিলের প্রথমদিকে শুরু হবে এবারের আইপিএল। আর তার আগে শেষ হয়ে যাবে দ. আফ্রিকা-বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজ। তবে দুই দলের টেস্ট সিরিজ ও আইপিএল শুরু হতে পারে প্রায় একই সময়ে। যার কারণে আইপিএল খেলতে সাকিবের দ. আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ না খেলার প্রাথমিক কথা শোনা গিয়েছিল। আর আইপিএলের শেষদিকে বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ খেলবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ না খেলার সিদ্ধান্ত নিলেও লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজে অংশ নেওয়ার কথা ছিল সাকিবের। তাতে তাকে আইপিএলের পুরো মৌসুমে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা ছিল। এ কারণেই একাধিক দল আগে থেকে যোগাযোগ করলেও সাকিবকে কোনো দল শেষ পর্যন্ত নিলামে কেনেনি জানিয়েছেন শিশির। সোমবার নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘খুব বেশি উত্তেজিত হওয়ার আগে শুনুন, নিলামের আগেই বেশ কয়েকটি দল তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছিল। জানতে চেয়েছিল, সে পুরো মৌসুম খেলতে পারবে কি না। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, শ্রীলঙ্কা সিরিজের কারণে সে পুরো মৌসুমে খেলতে পারবে না! যার কারণে সে দল পায়নি, এটা তেমন কোনো বড় বিষয় নয়।’ বেশ কয়েক বছর ধরে সাকিব আইপিএলের নিয়মিত মুখ। তবে এবার দল না পাওয়ায় অনেকে তার আইপিএল ক্যারিয়ার শেষ দেখে ফেলছেন। কিন্তু আশাবাদী শিশির, ‘এখানেই শেষ নয়, আগামী বছর বলেও একটা ব্যাপার আছে! দল পেতে হলে তাকে শ্রীলঙ্কা সিরিজ হাতছাড়া করতে হতো। তাই দল পেলে কি আপনারা একই কথা বলতেন? নাকি এতক্ষণে তাকে বিশ্বাসঘাতক বানিয়ে দিতেন? আপনাদের উত্তেজনায় পানি ঢেলে দিলাম বলে দুঃখিত!’

শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে খুলনাকে বিদায় করে কোয়ালিফায়ারে চট্টগ্রাম
স্পোর্টস ডেস্ক॥ জয়ের জন্য শেষ ওভারে খুলনা টাইগার্সের দরকার ছিল ১৬ রান। ব্যাটিংয়ে ছিলেন ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার ও থিসারা পেরেরা। তবে মেহেদি হাসান মিরাজের করা ওভারে খুলনা নিতে পারল ৮ রান। শেষ বলে পেরেরাকে ‘কট অ্যান্ড বোল্ড’ করেন মিরাজ। শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ৭ রানের জয়ে বিপিএলের কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। আর বিদায় নিতে হলো খুলনাকে। সোমবার মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এলিমিনেটর ম্যাচে চাদউইক ওয়ালটনের বিধ্বংসী ফিফটিতে ৫ উইকেটে ১৮৯ রান করে চট্টগ্রাম। জবাব দিতে নেমে ৫ উইকেটে ১৮২ রানে থামে খুলনা। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে বিপদে পড়ে চট্টগ্রাম। ওপেনার জাকির হোসেনকে গোল্ডেন ডাক উপহার দেন খালেদ আহমেদ। অধিনায়ক আফিফকে (৩) ফেরান রুয়েল মিয়া। এরপর আরেক ওপেনার কেনার লুইসকে (৩৯) নিয়ে ৩৮ রানের জুটি গড়েন ওয়ালটন। দলীয় ৬৫ রানে চতুর্থ উইকেট হিসেবে ফেরেন শামীম হোসেন (১০)। এরপর মেহেদি হাসান মিরাজকে নিয়ে ৫৮ বলে ১১৫ রানের জুটি গড়েন ওয়ালটন। ৪৪ বলে ৭ চার ও ৭ ছয়ে ৮৯ রানে অপরাজিত ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটার। ম্যাচ সেরাও হয়েছেন তিনি। খালেদের দ্বিতীয় শিকার হিসেবে মিরাজ বোল্ড হন ব্যক্তিগত ৩৬ রানে। বেনি হাওয়েল অপরাজিত ছিলেন ৮ রানে। ১৯০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনার মাহেদি হাসান (২) ও সৌম্য সরকার (১) ব্যর্থ হলেও খুলনাকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন আরেক ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার। ৫৮ বলে ৬ চার ও ৪ ছয়ে অপরাজিত ৮০ রান করেও পরাজিত দলে থাকতে হলো উইন্ডিজ ব্যাটারকে। শুরুতে ২ উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক-উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের (৪৩) সঙ্গে ৬৪ ও ইয়াসির আলীর (৪৫) সঙ্গে ৬৫ রানের জুটি গড়েন ফ্লেচার। কিন্তু ৯ বলে ১৮ রান দরকার হওয়া ম্যাচটিতে খুলনা নিতে পারে ১০ রান। দিনের প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হবে ফরচুন বরিশাল ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ফাইনালে উঠতে হলে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জিততে হবে চট্টগ্রামকে।

এবাদত-ব্রেভিসকে পেছনে ফেলে আইসিসি মাস সেরা পিটারসেন
স্পোর্টস ডেস্ক॥ প্রথমবারের মতো আইসিসির জানুয়ারি মাসের সেরা খেলোয়াড়ের মনোনয়ন তালিকায় জায়গা পেয়েছিলেন পেসার এবাদত হোসেন। তার সঙ্গে তালিকায় ছিলেন দুই আফ্রিকান কিগান পিটারসেন ও দেওয়াল্ড ব্রেভিস। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে মাস সেরা হয়েছেন পিটারসেন। এই প্রোটিয়া টেস্ট সেনসেশন ঘরের মাটিতে টিম ইন্ডিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় দ. আফ্রিকা। পিটারসেন সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৬২ রান করে প্রোটিয়াদের লিড এনে দেন। দ্বিতীয় ইনিংসের ২৪০ রান তাড়া করতে নেমে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে খেলেন ২৮ রানের ইনিংস। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে দুই ইনিংসে ফিফটি করেন তিনি। ২১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ ইনিংসে ৭২ রান করে প্রোটিয়াদের সিরিজ জেতান পিটারসেন। ২৮ বছর বয়সী ব্যাটার ২৭৬ রান করে সিরিজের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হন। সিরিজ সেরাও হন পিটারসেন। অন্যদিকে আইসিসি মাস সেরার তালিকায় থাকা এবাদত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৬ রানে ৬ উইকেট শিকার করেছিলেন। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য বাংলাদেশকে পরাজিত করে কিউইরা। ১-১ ব্যবধানে ড্র হয় সিরিজটি। দুই টেস্ট সিরিজে ২৯.৩৩ গড়ে ৯ উইকেট নেন এবাদত। তালিকায় থাকা ব্রেভিসের এখনো জাতীয় দলে অভিষেক হয়নি। যুব বিশ্বকাপের ৬ ম্যাচে ২ সেঞ্চুরি ও ৩ ফিফটিতে ৮৪.৩৩ গড়ে রেকর্ড ৫০৬ রান সংগ্রহ করেন তিনি। ২৮.৫৭ গড়ে ৭ উইকেটও নেন ১৮ বছর বয়সী এই তারকা। দ. আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ৩৬০ ডিগ্রি খ্যাত এবি ডি ভিলিয়ার্সের মতো ব্যাট করতে পারেন বলে ব্রেভিসের নামও হয়ে গেছে ‘বেবি এবি’। যুব বিশ্বকাপে নজর কেড়ে প্রথমবারের মতো আইপিএলে দলও পেয়েছেন ব্রেভিস। মেগা নিলামে তাকে ৩ কোটি টাকায় কিনে নেয় মুম্বাই ইন্ডিয়ানস।

আফগান সিরিজে মুশফিক ফিরলেন, নেই সোহান
স্পোর্টস ডেস্ক॥ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ- চার সিনিয়র ক্রিকেটারই রয়েছেন ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে। টাইগাররা সবশেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের মাটিতে হওয়া সিরিজটিতে মুশফিকুর রহিম ছিলেন না পারিবারিক কারণে। আফগান সিরিজ দিয়ে ফিরছেন ওয়ানডে দলে। এদিকে মুশফিকের জন্য ওয়ানডে দলের জায়গা ছেড়ে দিতে হয়েছে নুরুল হাসান সোহানকে। সাম্প্রতিক সময়ে যিনি তিন ফরম্যাটেই নিয়মিত খেলছিলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজ ও সবশেষ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেও খেলেছেন সোহান। এদিকে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন নাসুম আহমেদ, এবাদত হোসেন, ইয়াসির আলি চৌধুরী ও মাহমুদুল হাসান জয়। চারজনেরই অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়ে গেছে আগেই। নাসুম তো এরই মধ্যে ১৮টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। এবাদত ১২টি টেস্ট, ইয়ারিস ৩টি টেস্ট ও জয় ২টি টেস্ট খেলেছেন। আফগানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগের অংশ। ২৩, ২৫ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ানডে তিনটি। এরপর ঢাকায় দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে দুই দল। সুপার লিগে এই মুহূর্তে ১২ ম্যাচে ৮ জয়ে ৮০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে বাংলাদেশ।
আফগান সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম, এবাদত হোসেন, নাসুম আহমেদ, ইয়াসির আলী চৌধুরী ও মাহমুদুল হাসান জয়।

Lab Scan