খুলনা মেডিক্যালে ইন্টার্ন -ওষুধ ব্যবসায়ী পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, বিপাকে রোগীরা

0

জামাল হোসেন,খুলনা॥ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের(খুমেক) ইন্টার্ন চিকিৎসক ও হাসপাতালের সামনের ওষুধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তিন দফা দাবিতে মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। অপরদিকে শিক্ষার্থী নামধারীদের গ্রেফতার, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও দোকান ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণের দাবিতে ধর্মঘট পালন করছে হাসপাতালের সামনের মার্কেটের ওষুধ ব্যবসায়ীরা। দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ-পাল্টা কর্মসূচির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে  বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ক্লাস বর্জন করে তিন দফা দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা কলেজের প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুটি মডেল ফার্মেসি ও পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, তিন দফা দাবিতে তারা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
খুমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম অন্তর বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের জন্যে আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা সেটা করতে পারেন নি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে।
অপরদিকে বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির পরিচালক মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা ওষুধের দোকান ভাঙচুর ও ব্যবসায়ীদের মারধর করেছেন। শিক্ষার্থী নামধারী দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার ও দোকান ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
এদিকে খুমেক হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, দুইপক্ষের বিরোধের বলি হচ্ছেন তারা। সোমবার রাত থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগী দেখছেন না । আগে দিনে ২-৩ বার রোগী দেখতেন তারা। এছাড়া মেডিক্যালের সামনের দোকান বন্ধ থাকার কারণে রোগীর স্বজনদের ওষুধ কিনতে যেতে হচ্ছে অনেক দূরে। এতে অতিরিক্ত সময়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হচ্ছে।
মঙ্গলবার ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার জামসেদ আকতার (৬৭) খুমেক হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি বলেন, হাসপাতালের সামনের ওষুধের মার্কেট বন্ধ থাকার কারণে আমার স্ত্রী রিয়া বেগমকে শহরের মধ্যে ওষুধ কিনতে যেতে হচ্ছে। শহর ঠিকমত না চেনার কারণে ওষুধ কিনতে গিয়ে তাকে বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। দূরে যাতায়াতের কারণে টাকাও বেশি খরচ হচ্ছে।
ফুলতলা উপজেলার গাড়াখোলা গ্রামের শহীদুল ইসলাম বলেন, তার মা ফারহানা বেগম ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার মার জন্যে জরুরিভাবে ওষুধের প্রয়োজন হয়। কিন্তু খুমেক হাসপাতালের সামনের ওষুধের মার্কেট বন্ধ থাকার কারণে তাকে ওষুধ কিনতে যেতে হয় শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের পাশের ওষুধের মার্কেটে। সেখানে গিয়ে দেখতে পান দোকানগুলোতে দীর্ঘ লাইন পড়েছে। ওষুধ কিনতে কিনতে রাত ১২টা বেজে যায়। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনার জেরে রোগী ও তাদের স্বজনদের কেন ভোগান্তিতে পড়তে হবে?
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ডা. নিয়াজ মুস্তাফী বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকলে রোগীদের দুর্ভোগে পড়তে হবে।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. দীন উল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা দুঃখজনক। কলেজের পক্ষ হতে সোনাডাঙা থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। এছাড়া সমস্যা সমাধানের জন্যে চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগির এ ঘটনার সমাধান হয়ে যাবে।
নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমতাজুল হক বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের আটক করার চেষ্টা চলছে।
সোমবার রাতে ওষুধ কেনাকে কেন্দ্র করে খুমেক হাসপাতালের সামনে শিক্ষার্থী ও ওষুধ ব্যবসায়ীদের ভেতর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন। অপরদিকে ওষুধ ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা ও দোকান ভাঙচুরের প্রতিবাদে ওষুধ ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের জন্যে ধর্মঘট শুরু করেন। ফলে দুপক্ষের অনড় অবস্থার কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনরা।

 

 

 

Lab Scan