খুলনা বিসিকের ৮৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০টির অবস্থা বেহাল

খুলনা প্রতিনিধি॥ খুলনায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) নগরীর ৮৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০টি প্রতিষ্ঠানের অবস্থা বেহাল। এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো রুগ্ন শিল্পের তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে আইনি জটিলতার কারণে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনী পদক্ষেপ নিতে পারছে না বিসিক কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে বিসিক বিশাল অংকের টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এদিকে বিসিকের রাস্তাঘাটসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্দশার কারণে নানা সমস্যার সম্মুখি হচ্ছে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো।
৪৪ দশমিক ১০ একর জমির ওপর স্থাপিত খুলনা বিসিক নগরীতে ২৪০টি প্লট বরাদ্দ নিয়ে ৮৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এরমধ্যে ৫৯টি চালু, ৮টি নির্মাণাধীন ও ১টি উৎপাদনের অপেক্ষায় আছে। বাকি ২০টি প্রতিষ্ঠান প্রায় বন্ধ। চালু ৫৯টি প্রতিষ্ঠনের মধ্যে ১৫টি খাদ্যজাত, ২২টি কেমিক্যাল, ১টি পাটজাত, ১১টি প্রকৌশল, ৪টি বনজ ও ৪টি প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং। বিসিকের বন্ধ ২০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান হলো, মেসার্স নাহিদ উডেন ইন্ডাস্ট্রিজ, সোহানা ইন্ডাস্টিজ লিমিটেড, বারী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মধুমতি কোক অ্যান্ড ব্রিকস ইভা (প্রা.) লিমিটেড, মডার্ন পিপি ব্যান্ড ইন্ডা. (প্রা.) লিমিটেড, সায়েরা এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রা.) লিমিটেড, জামান অ্যাসোসিয়েট ইন্ডা. (প্রা.) লিমিটেড, এআর ফ্লাওয়ার্স মিল, মহাসিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, অ্যাকুয়া রিসোর্স লিমিটেড, এশিয়ান প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ, এশিয়ান স্পুল ইন্ডাস্ট্রিজ, অ্যালার্ম ইন্ডাস্ট্রিজ, মেসার্স খুলনা পেপার বোর্ড অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ, জুট স্পিনার্স লিমিটেড, মদিনা ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ, জুট ইয়ার্ন ডাইয়িং অ্যান্ড স্টারসিং প্রসেসর ইন্ডাস্ট্রিজ, খায়রুন নেছা কনিক্যাল স্পুল অ্যান্ড ববিন ফ্যাক্টরি ও মেসার্স গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে খুলনা বিসিক শিল্প নগরীর কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যাংক ঋণ ও লোকসানের কারণে এ ২০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের অবস্থা বেহাল। এগুলোর জায়গায় অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্ধ দেওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে বন্ধ প্রায় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিসিক আইন অনুযায়ী কোনও পদক্ষেপও নিতে পারছে না। কারণ এখনও এ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাংকের দেওয়া লোনের মামলা চলছে।’ বিসিক সূত্রে জানা যায়, বিসিক শিল্প নগরীকে আরও চাঙ্গা করতে খুলনায় একটি চামড়া শিল্প জোন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেখানে ৩শ’ একর জমি থাকবে। যা বাস্তবায়নের জন্য জমি দেখার কাজ চলছে। অন্যদিকে খানাখন্দে ভরা ও ভাঙাচোরা রাস্তাঘাটসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল অবস্থার কারণে বিসিকের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো সমস্যার মধ্যে আছে।
এ ব্যাপারে বিসিকের একটি চানাচুর কোম্পানির শ্রমিক ইমরান হোসেন জানান, বিসিকের প্রধান রাস্তাটি গত ২০ বছরেও সংস্কার হয়নি। রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা। বর্ষার সময় রাস্তায় হাটু পানি জমে থাকে। তাই রাস্তার পাশে গড়ে উঠা কয়েকটি চানাচুর কোম্পানিসহ ছোট বড় বেশ কিছু কোম্পানিকে সমস্যায় পড়তে হয়। এ ভাঙা রাস্তাগুলো দিয়ে নিয়মিত পণ্যবাহী ট্রাক ঢুকায় এগুলোর অবস্থা আরও বেহাল হচ্ছে। ওই চানাচুর কোম্পানির ম্যানেজার মো. সেলিম জানান, বর্ষা মৌসুমে তাদের অনেক বিপদে পড়তে হয়। সংস্কার না হওয়ার কারণে সামনের সড়কটি একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। এবি হিমাগারের নিরাপত্তা কর্মী মো. লিমন বলেন, ‘এ বছর তাদের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নতুন বছর থেকে এর কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।’
এ ব্যাপারে খুলনা বিসিক শিল্প নগরীর কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনার শিল্প নগরীর উন্নয়নের কাজ চলছে। এরইমধ্যে রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন শুরু হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে এখানকার ড্রেন ও কালভার্ট সংস্কারের জন্য ৪৬ লাখ ১১ হাজার টাকা ও বিসিকের অফিস নির্মাণের জন্য প্রায় ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সড়ক উন্নয়নে ৩০ লাখ ও ড্রেন উন্নয়নে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই কাজও সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে পাম্প হাউজের নির্মাণের জন্য ৪৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ কাজটি এখনও চলছে। এছাড়াও সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে রাস্তা, ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ কাজটি শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। আগামী ২০২০-২১ অর্থ বছরের জন্য রাস্তা উন্নয়নে ১ কোটি ২৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, ড্রেন উন্নয়নে ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, পানির পাইপ লাইন স্থাপনে ২০ লাখ টাকা, পাইপ লাইন মেরামত ও সংস্কারের জন্য ৫ লাখ টাকা, প্রশাসনিক ভবনের সীমানা প্রাচীর করার জন্য ৫ লাখ টাকা ও বিসিকের মেইন গেটটি নতুনভাবে করার জন্য ৪ লাখ ৭৯ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ’ উল্লেখ্য বিসিক খুলনা সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐকিকান্তিক প্রচেষ্টায় মহানগরীর শিরোমনি এলাকায় বিসিক শিল্প নগরী গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৬৫ সালের ৮ মার্চ তৎকালিন কর্তৃপক্ষ এ প্রকল্পের অনুমোদন দেন। ১৯৭৮ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। এ প্রকল্পে ২৪০টি প্লট নির্মাণ করা হয়। পরে প্লটগুলো ৮৮ প্রতিষ্ঠনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।

ভাগ