খুলনার মেট্রোপলিটন কলেজ অধ্যক্ষসহ ৩ ব্যক্তির বিরুদ্ধে যশোরের আদালতে মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রতারণার অভিযোগে খুলনার এক কলেজের অধ্যক্ষসহ তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে যশোরে আদালতে মামলা হয়েছে। চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে খুলনার সোনাডাঙ্গার মেট্রোপলিটন কলেজের অধ্যক্ষ দিবাকর বাওয়ালীসহ তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সাড়ে তিন বছর আগের ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১১ মে) যশোরের আদালতে মামলা করেছেন আলাল উদ্দীন নামে এক ব্যক্তি। তিনি যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ আহমেদ অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আদেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত অপর দুই জন হলেন, মেট্রোপলিটন কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শেখ মোস্তাফিজুর রহমান হিরু ও ম্যানিজিং কমিটির সদস্য আলী হোসেন বাবু।
মামলায় আলাল উদ্দীন উল্লেখ করেছেন, মেট্রোপলিটন কলেজের বিভিন্ন পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে তিনি ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর সেমিনার কাম কম্পিউটার অপারেটর পদের জন্য আবেদন করেন। পরবর্তীতে উল্লিখিত আসামিদের সাথে তার পরিচয় হলে তারা বৈধভাবে তাকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে ৮ লাখ টাকা দাবি করেন। এরপর একই বছরের ২০ ডিসেম্বর বিকেলে আসামিদেরকে ৮ লাখ টাকা প্রদান করেন আলাল উদ্দীন। ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল অধ্যক্ষ দিবাকর বাওয়ালী স্বাক্ষরিত একটি নিয়োগপত্র আলাল উদ্দীনকে দেওয়া হয়। এই নিয়োগপত্র পেয়ে একই বছরের ২৬ এপ্রিল কলেজের সেমিনার কাম কম্পিউটার পদে যোগদান করেন আলাল উদ্দীন। কিন্তু হাজিরা খাতায় তাকে স্বাক্ষর করতে দেননি আসামিরা। তাকে বলা হয়, ৩ মাসের মধ্যে বেতন হবে। বেতন পাওয়ার পর তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে পারবেন। তাদের এই কথায় বিশ্বাস করে আলাল উদ্দীন চাকরি করতে থাকেন। কিন্তু ৩ মাসের স্থলে ১ বছর পার হয়ে গেলেও বেতন না হওয়ায় আলাল উদ্দীনের সন্দেহ হয়। পরে তিনি কলেজসহ শিক্ষা বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, উল্লিখিত আসামিরা তাকে যে নিয়োগপত্র দিয়েছিলেন সেটি ভুয়া। বিষয়টি জানতে পেরে আলাল উদ্দীন মানসিকভাবে কষ্ট পান এবং কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দেন। এ ঘটনার পর গত ১ মে বিকেলে তিনি উল্লিখিত আসামিদেরকে নিজ বাড়িতে ডেকে আনেন। এ সময় জিজ্ঞাসা করা হলে তারা স্বীকার করেন, তাকে দেওয়া নিয়োগপত্রটি ছিলো জাল। তখন আলাল উদ্দীন তাদেরকে দেওয়া ৮ লাখ টাকা ফেরত চাইলে তারা অস্বীকার করেন। এ কারণে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন আলাল উদ্দীন।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ দিবাকর বাওয়ালীর মোবাইল ফোনে (০১৭০১-৬৫৫২৫২) কল দেওয়া হলে তিনি রিসিভি না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

Lab Scan