খুমেক হাসপাতালে ৩৪ দালাল আটক, কারা ও অর্থদণ্ড প্রদান

0

 

খুলনা ব্যুরো ॥ পিরোজপুর থেকে মায়ের চিকিৎসা করাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে এসেছিলেন মিলন শেখ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এখানে ভর্তি হওয়ার কারণে তিনি মায়ের পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে পারেননি। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ার কারণে সেদিনও পারেননি অসুস্থ মায়ের শারীরিক পরীক্ষা করাতে। ওই দিন সকালে জনৈক দালালের মাধ্যমে সোনাডাঙ্গা ডক্টরস ল্যাবে পরীক্ষা করাতে যান। সেখান থেকে বলা হয় শুক্রবার সন্ধ্যায় টেস্টের রিপোর্ট দেওয়া হবে। তিনি যথাসময়ে হাজির হয়ে রিপোর্ট হাতে পাননি। তাকে বলা হয় শনিবার দেওয়া হবে। সেদিনও তাকে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি র‌্যাবের কাছে জানান। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযানের প্রস্তুতি নেয় র‌্যাব।
সে মোতাবেক সোমবার র‌্যাব-৬ ও খুলনা জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দালাল চক্রের ৩৪ সদস্যকে আটক করা হয়। এদের ১৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড এবং ১৪ জনকে অর্থদন্ড ও ২ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এদিন বেলা পৌনে ১১ টার দিকে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়। সাজাপ্রাপ্তদের কারাগারে আর বাকীদের অর্থদন্ডের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদের মধ্যে রয়েছে ল্যাব এইড ফার্মাসিটিক্যাল, গুডলাইফ, রেনেটা, নিপ্রোজেন কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভরাও। র‌্যাব-৬ এর উপ-অধিনায়ক আব্দুর রাকিব এই অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রবিউল হাসান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মাঝে র‌্যাবের অভিযানে দালালদের দৌরাত্ম কমে গিয়েছিল। কিন্তু অভিযান না থাকায় তাদের উপদ্রব বেশ বেড়ে যায়। খুলনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষকে তারা প্রতিনিয়ত ঠকায়। এমনকি শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ৩২ জনকে আটক করে।
খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অপ্রতিম কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, দালালদের ২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে টার্গেট করে রাখা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎতপরতা চালিয়ে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তারা খুলনার বাইরের রোগীদের ভুল বুঝিয়ে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যায়। তারা সরকারি হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিতে বাধা দেয়। তিনি জানান, অভিযানে মোট ৩৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৮ জনকে তিন থেকে ১৫ দিনের কারাদন্ড দেওয়া হয়। ১৪ জনকে তিন হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ২ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরে খুমেক হাসপাতালে তাৎক্ষনিক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-৬ খুলনার পরিচালক লে: কর্ণেল মুহাম্মদ মোসতাক আহমদ বলেন, স্বাস্থ্যসেবা আমাদের একটি মৌলিক চাহিদা। নাগরিক তার স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। স্বাস্থ্যসেবা যখন পাল্টে যাচ্ছিল তখনও দালাল চক্র নাগরিকের গৃহিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করার পায়তারা করছিল। হাসপাতাল ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা করে দালাল চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়। পরে বিচার বিশ্লেষণ করে ৩২ জনকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, নাগরিকদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণে যে বাধা দিবে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। সামনে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রবিউল হাসান বলেন, ‘মাঝে মধ্যে আমরা অভিযান চালাই। কিন্তু অভিযান সফল হয় না। অভিযানের খবর পেয়ে অনেকেই পালিয়ে যায়। র‌্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে এদের আটক করতে সক্ষম হয়েছে। দালালদের কারণে সাধারণ রোগীরা ঠিকমত চিকিৎসা সেবা নিতে পারে না বলেও জানান তিনি।

Lab Scan