কয়রার ট্রিপল মার্ডারে একজনের কোর্টে স্বীকারোক্তি,রিমান্ডে ৫জন

0

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা ॥ খুলনার কয়রা উপজেলার বাগালি ইউনিয়নের বামিয়া গ্রামে বাবা, মা ও মেয়ে হত্যাকান্ডের মামলায় আব্দুর রশিদ গাজী ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া আটক ৫ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন কয়রা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
জবানবন্দি দেওয়া রশিদ গাজী ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার যশোর থেকে তাকে আটক করে খুলনা জেলা ডিবি পুলিশ। পরদিন শুক্রবার রাতে উপজেলার বামিয়া গ্রামের আবু বকর গাজীর দুই ছেলে পল্লী চিকিৎসক সাইফুল্লাহ (৩৫) ও শাহীন (৩৮), মৃত নুরমান গাজীর ছেলে আব্দুল হক (৬০) ও তার স্ত্রী তাসলিমা, আরশাদ সানার ছেলে মোস্তফা (৪০), আলী গাজীর ছেলে আল আমিন (৩৫) এবং আব্দুল মাজেদ গাজীর ছেলে আব্দুর রশিদকে আটক করে কয়রা থানার পুলিশ।
রবিবার কয়রা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করলে আব্দুর রশিদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পল্লী চিকিৎসক সাইফুল্লাহ, শাহীন, আল-আমিন, আব্দুল হককে তিনদিনের রিমান্ড ও তাসলিমাকে দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অপর আসামি মোস্তফাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর সোমবার দিবাগত রাতে বামিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মাজেদ গাজীর ছেলে হাবিবুল্লাহ গাজী (৩৩), তার স্ত্রী বিউটি খাতুন (২৫) ও একমাত্র কন্যা হাবিবা খাতুন টুনিকে (১৩) হত্যা করে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে স্থানীয় মাজেদের বাড়ির পাশের পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত হাবিবুর রহমানের মা কোহিনুর খানম বাদী হয়ে ২৬ অক্টোবর রাতে কয়রা থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
নিহত পরিবারের সাথে পূর্ব শত্রুতা থাকায় ঘটনার দিন ৪ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যা মামলায় আটক দেখিয়ে ৩ জনকে কয়রা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠিয়ে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে বিচারক শুনানি শেষে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে রিমান্ডে তেমন কোন তথ্য পায়নি পুলিশ। রিমান্ড শেষে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়। আটককৃতরা হলেন-বামিয়া গ্রামের মৃত কওছার গাজীর ছেলে জিয়াউর রহমান জিয়া (৪১), কুদ্দুস গাজীর স্ত্রী সুলতানা (৩৮) ও মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ভাগবা গ্রামের মৃত্যু মোকছেদ আলী সরদারের ছেলে আব্দুল খালেক (৬৫)।

Lab Scan