কেশবপুরে মামুন হত্যার ৪ বছর পর সন্দিগ্ধ আটক

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাড়ে ৪ বছর আগে যশোরের কেশবপুর উপজেলার সরফাবাদ গ্রামে মামুন অর রশিদ নামে একজন ট্রাকের মালিক খুন হয়েছিলেন। সেই হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে তার ট্রাকের চালক নুর ইসলামকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত সোমবার রাতে কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়। নুর ইসলাম একই উপজেলার বড়পাতরা গ্রামের মৃত সলেমান বিশ্বাসের ছেলে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র এসআই মো. মনিরুল ইসলাম জানান, মামুন অর রশিদ হত্যা মামলাটি পর্যায়ক্রমে কেশবপুর থানার পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও সিআইডি তদন্ত করে। তদন্তকালে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটকও করা হয়। এরপর ওই মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেয় সিআইডি। ফাইনাল রিপোর্টের ওপর বাদী নারাজি জানালে আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য পিবিআইকে আদেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে তারা মামুন অর রশিদ হত্যা মামলাটি তদন্ত করছেন। তিনি বলেন, নিহত মামুন অর রশিদের দুটি ট্রাক ছিলো। এর একটির চালক ছিলেন আটক নুর ইসলাম। হত্যাকান্ডের সাথে তিনি জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ কারণে তাকে আটক করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, ট্রাকের ভাড়া লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নুর ইসলামের সাথে মামুন অর রশিদের মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়েছিলো। এর জের ধরে মামুন অর রশিদকে হত্যা করা হয় বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
নিহত মামুন অর রশিদ কেশবপুর উপজেলার হিজলডাঙ্গা গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে। ২০১৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি তার বাজাজ পালসার মোটরসাইকেলে করে ব্যবসার কাজে কেশবপুরে যান। কিন্তু রাতে তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেন নি। তার মোবাইল ফোন নম্বরও বন্ধ ছিলো। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একই উপজেলার সরফাবাদ গ্রামের জনৈক সিদ্দিক মোড়লের কচুক্ষেতের ভেতর স্থানীয় লোকজন অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির লাশ দেখতে পান। এ খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে লাশটি মামুন অর রশিদের বলে শনাক্ত করেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন ছিলো। পরে এ ঘটনায় নিহতের পিতা সোহরাব হোসেন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে কেশবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

Lab Scan