কেশবপুরের হাটে দেশি গরুর কদর

জয়দেব চক্রবর্ত্তী, কেশবপুর (যশোর) ॥ পবিত্র ঈদ-উল-আজহার আর মাত্র তিনদিন বাকি। শেষ মুহূর্তে যশোরের কেশবপুরে জমে উঠেছে কোরবানির পশুহাট। বুধবার কেশবপুরের হাটবার থাকায় ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কেশবপুর পৌরশহর, শুড়িঘাটা, ভান্ডারখোলা, মঙ্গলকোট, সাতবাড়িয়া ও সরসকাটি বাজারসহ মোট ৬ টি পশুরহাট বসেছে। এসব হাট ঘুরে দেখা গেছে, যথেষ্ঠ দেশি গরু বাজারে রয়েছে। দু’একটি ভ্রাম্যম্যাণ পশুহাটে ভারতীয় গরু দেখা গেলেও পৌর শহরের পশুহাটের চিত্র ছিলো ভিন্ন। এখানে শুধু স্থানীয় খামারে পালিত গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়ায় পূর্ণ। সাপ্তাহিক হাটবার হিসেবে সোমবার ও বুধবার সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের জমজমাট বেচাবিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় গরু না থাকায় এসব হাটে এ বছর দাম গত বছরের তুলনায় একটু বেশি। এতে খুশি খামারি ও গরু ব্যবসায়ীরা। আবার সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে পশু কিনছেন ক্রেতারা। তাই বিক্রিতেও রয়েছে প্রতিযোগিতা। এ বছর পশু হাটে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি।
উপজেলার সাগরদত্তকাটি গ্রাম থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, বাজারে ভারতীয় গরু না থাকায় ক্রেতারা দেশি গরু কিনছেন। কোরবানির পশু কিনতে আসা অনেকেই অভিযোগ করেন, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর পশুর দাম অনেক বেশি। ভারতীয় গরু না আসার অজুহাতে দেশি গরুর আকাশছোঁয়া দাম চাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। গরুর দাম বেশি হওয়ার কারণে অনেকে ছাগল কোরবানি দিচ্ছেন। মনিরামপুর উপজেলার আমিনপুর গ্রাম থেকে আসা ক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের এলাকায় পশুর দাম বেশি হওয়ায় এখানে এসেছি, কিন্তু এখানেও অনেক দাম চাচ্ছেন বিক্রেতারা। দাম বেশি হলেও অসংখ্য পশুর মধ্য থেকে তাদের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে পছন্দসই পশুটি কিনতে পেরে মহাখুশি তারা। বুধবার উপজেলা সদরের পশুহাট মালিক আফজাল হোসেন বাবু বলেন, অন্যবারের তুলনায় এবার প্রচুর দেশি গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া বাজারে উঠেছে, বেচাবিক্রিও ভালো হচ্ছে। কেশবপুরের পশুহাটটি অনেক পুরাতন। এটি যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পশুহাট হিসেবে পরিচিত। তাছাড়া জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন থাকা এবং বাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাগণ আসছেন এবং নির্ভয়ে বেচাকেনা করছেন। প্রতিদিন দেড় থেকে ২ হাজার গরু বিক্রি হচ্ছে। ৭০ হাজার টাকা থেকে ৩ লাখ টাকা দামের গরু বাজারে এসেছে। গ্রামগঞ্জের মানুষ শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা করে থাকেন। তাই বর্তমানে পশুহাটও জমজমাট হয়ে উঠেছে।

ভাগ