কাশ্মির ইস্যুতে ফের মধ্যস্থতার প্রস্তাব ট্রাম্পের

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ভারত অধিকৃত কাশ্মির ইস্যুতে ফের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে চতুর্থ দফায় এমন প্রস্তাব দিলেন তিনি। মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের সাইডলাইনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে পাকিস্তানি নেতাকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিকদের সামনে এ ইস্যুতে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, কাশ্মির ইস্যুতে তিনি সাহায্য করতে চান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে আগ বাড়িয়ে কাশ্মির সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। ২০১৯ সালের আগস্টে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে অঞ্চলটিকে দুই টুকরো করে দেয় ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নিয়ে পরিণত করা হয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। এ নিয়ে তীব্র আপত্তি জানায় পাকিস্তান। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। কাশ্মিরের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ দ্রুত প্রত্যাহারে দিল্লির প্রতি আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র। ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের মানবিক বিপর্যয় নিয়ে জাতিসংঘে কথা বলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। ভারতকে কাশ্মিরের দখলদার শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেন মাহাথির। তবে দিল্লি বরাবরই দাবি করে আসছে, কাশ্মির ইস্যু পুরোপুরি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে কারও মধ্যস্থতার প্রয়োজন নেই।
মঙ্গলবার দাভোসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা কাশ্মির নিয়ে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে কী চলছে সে সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আমরা যদি কোনও সাহায্য করতে পারি, তবে অবশ্যই সেটা করবো। আমরা পরিস্থিতির দিকে অত্যন্ত মনোযোগসহকারে লক্ষ রাখছি।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, ‘আফগানিস্তানের মতোই আমরা এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাই। সৌভাগ্যক্রমে, আমরা একই অবস্থানে রয়েছি। যখন অন্য কোনও দেশ এই সমস্যার সমাধান করতে পারছে না, তখন আমরা আশা করি যে সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র তার ভূমিকা পালন করবে।’
এর আগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে কাশ্মির ইস্যুতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, পাকিস্তান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী চাইলে তিনি এ নিয়ে মধ্যস্থতা করতে ‘প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম’।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, কাশ্মির একটি জটিল বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে এ সংকট চলে আসছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষ না চাইলে মীমাংসা করা যায় না। তবে আমি মনে করি, আমি একজন ভালো মধ্যস্থতাকারী হবো। ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও তার ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে। অতীতে কখনও তিনি মধ্যস্থতায় ব্যর্থ হননি এবং চাইলেই তিনি সাহায্য করবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, পাকিস্তানের প্রতি আমার আস্থা রয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসে আমার পূর্বসূরিদের দেশটির প্রতি এমন আস্থা ছিল না। কিন্তু তারা জানতো না, তারা কী করছিল। পাশে বসা ইমরান খানকে দেখিয়ে ট্রাম্প বলেন, এই ভদ্রলোককে আমি বিশ্বাস করি। নিউ ইয়র্কে আমার বহু পাকিস্তানি বন্ধু রয়েছে, যারা স্মার্ট এবং দুর্দান্ত মধ্যস্থতাকারী। দখলকৃত কাশ্মিরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আপনি কি উদ্বিগ্ন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, অবশ্যই। আমি চাই সবার সঙ্গে ভালো আচরণ করা হোক। সূত্র: এনডিটিভি, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

ভাগ