কারাবন্দি ও নিহত নেতা-কর্মীর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়েছিল কোর্ট এলাকা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ২০১৭ সালে যশোরের মনিরামপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে নিহত যুবদল নেতা আনিছুর রহমানের ছেলে নাঈম হোসেন (১১) ও মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মীম (৯) এসেছিল যশোরে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধনে। ২০১৫ সালে একই উপজেলার নিহত বিএনপি নেতা ইউপি সদস্য মেজবাউর রহমান চন্টুর স্ত্রী হোসনেআরাও তার স্কুল পড়ুয়া একমাত্র ছেলে আবু জায়েদকে (১৪) নিয়ে এসেছিলেন মানববন্ধনে অংশ নিতে। পিতা নামক বটবৃক্ষের ছায়া দিতে পারেনি তাদের সন্তানদের। পিতার স্নেহ ভালবাসা থেকে বঞ্চিত নাইম, মীম ও জায়েদ জানে না কি কারণে তাদের বাবাকে হত্যা করা হয়েছিল। তাদের দাবি আর যেন কোন পিতাকে এমন নির্মমভাবে জীবন দিতে না হয়। অবুঝ তিন শিশুর এমন বুক ফাটা আর্তনাদ মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সকলের হৃদয়ে দাগ কেটে যায়। গতকাল রোববার জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের সামনে জেলা বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। শিশু নাঈম হোসেন, জান্নাতুল ফেরদৌস মীম ও আবু জায়েদ তাদের পিতার ছবি নিয়ে দাঁড়িয়েছিল মানববন্ধনে। তাদের মত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কিংবা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত ও কারাবন্দী নেতাকর্মীর স্বজনরাও ব্যানার হাতে তাদের সাথে যোগ দিয়েছিল। কারও ব্যানারে লেখা ছিল আমার পিতা হত্যার বিচার চাই, আমার ছেলের মুক্তি চাই, পুলিশ নাকি জনগণের বন্ধু, তাহলে, আমাদের ওপর এতো জুলুম কেন? মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ২০১৮ সালে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত বিএনপির যশোর শংকরপুর এলাকার নেতা মশিয়ার রহমানের মেয়ে মুহসিনা আক্তার অশ্রু ভেজা নয়নে বলেন, বিএনপি করার অপরাধে শাসকদলের সন্ত্রাসীদের হাতে আমার পিতাকে নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়। পিতা হারানোর যন্ত্রণা প্রতিনিয়ত আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। জানি না পিতার হত্যা ঘাতকদের বিচার দেখে যেতে পারবো কিনা! ১৯৯৯ সালে চৌগাছার বিএনপি নেতা মকবুল হোসেন স্থানীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী মমিন, শামীম বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে জীবন হারান। সে দৃশ্য আজও ভোলেননি স্ত্রী খাদিজা খাতুন। তিনি বলেন, আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যখন দেখি স্বামী হত্যার আসামিরা দাপিয়ে বেড়ায়। এই হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা জামিনে মুক্তি পেয়ে আজও বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশের দায়েরকৃত তথাকথিত নাশকতায় মামলায় কারাবন্দী শার্শা উপজেলার পাড়িয়ারঘোপ গ্রামের ছাত্রদল নেতা সাকিব মীরের পিতা আব্দুর রশিদ তার মুক্তির দাবি সম্বলিত ব্যানার হাতে দাঁড়িয়েছিলেন মানববন্ধনে। তিনি বলেন, আমার ছেলের কোন দোষ নেই। আজ ছাত্রদল করার কারণে সে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী। আমি বয়সের ভারে অসুস্থ। আমার স্ত্রীও ছেলের শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমি নিরপরাধ ছেলের মুক্তি চাই। যশোর শহরতলী রাজারহাটের কারাবন্দী বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমানের মেয়ে নাদিয়া রহমানও পিতার মুক্তি দাবি সম্বলিত ব্যানার হাতে দাঁড়িয়েছিলেন মানববন্ধনে। তিনি বলেন, পিতা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এক মাসের অধিক সময় ধরে কারাবন্দী। এ অবস্থায় খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। গেল ৫ ডিসেম্বর মধ্যরাতে বাড়িতে তান্ডব চালানো পুলিশ দলকে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে রক্ষা পান যুবদল নেতা আনোয়ার পারভেজের স্ত্রী মুক্তি খাতুন। সেই তান্ডবের কথা তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মুক্তি। তিনি বলেন, সে রাতের কথা আমি জীবনেও ভুলব না। বিএনপির রাজনীতি করার ‘অপরাধে’ আমার স্বামী ঘর- বাড়ি ছাড়া। পুলিশ আমাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে স্বামীকে না পেয়ে আমাকে আটকের চেষ্টা চালাতে দ্বিধাবোধ করেনি। শুধুমাত্র স্বামী বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার কারণে একজন নারী হয়েও আজ আমি নিরাপদ নই।

Lab Scan