কষ্টার্জিত অর্থ ভাইকে দিয়ে প্রতারিত বোন দ্বারে দ্বারে

0

 

বাগেরহাট সংবাদদাতা॥ বাগেরহাটের চিতলমারীতে নিজের কষ্টার্জিত অর্থ ভাইকে দিয়ে প্রতারণার শিকার পথে ঘুরছেন পোশাককর্মী কবিতা । সুবিচার পাওয়ার আশায় জেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রশাসক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। কাজ না হওয়া ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও দায়ের করেছেন। কিন্তু ভাইকে দেওয়া টাকা ও চুক্তি অনুযায়ী জমি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না অসহায় এই নারী। কোন উপায় না পেয়ে সর্বশেষ গত ৭ নভেম্বর চিতলমারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে আমরণ অনশন শুরু করেন অসহায় এই নারী। দুই দিনের অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়লে বুধবার (০৯ নভেম্বর) বিকেলে চিতলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক বড়াল কবিতার অনশন ভাঙান। কিন্তু কবিতার দাবি পূরণের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ নেয়নি উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন। এক সপ্তাহের মধ্যে ভাইকে দেওয়া ২০ লক্ষ টাকা অথবা এই টাকার জমি না পেলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন কবিতা সরকার।৪০ বছর বয়সী কবিতা সরকার চিতলমারী উপজেলার সাবোখালী গ্রামের  ভরত সরকারের মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্টসে চাকরি করেন তিনি।
কবিতা সরকার বলেন, বাবার সংসারে অভাব থাকায় আমি গার্মেন্টসে চলে যাই। বিয়েও করিনি জীবনে। ২০০২ সালের দিকে আমার ছোট ভাই সুব্রত সরকার মাদকসহ নানা মৃতঅপরাধে জড়িয়ে পড়ে। সেই সাথে বেশকিছু টাকা দেনা নিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। কিছুদিন পরে ভারত থেকে এসে বিভিন্ন মামলায় কয়েকবার জেলে যায় সুব্রত। জেলে যাওয়ার পরে মামলা পরিচালনা ও বিভিন্ন কারণে উত্তরাধীকার সূত্রে পাওয়া সুব্রতর ভাগের ১ একর ৪৫ শতক জমি বিক্রির শর্তে আমার কাছ থেকে টাকা নেওয়া শুরু করে। ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সুব্রত সরকার আমার কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা নিয়েছে। কিন্তু সুব্রত সরকার আমার সাথে করা চুক্তি ভঙ্গ করে তার মালিকানাধীন জমির মধ্য থেকে প্রায় এক একর জমি বিক্রি করে দিয়েছে। অবশিষ্ট জমি বিক্রির পায়তারা চালাচ্ছে। আমি জমি বিক্রি করতে নিষেধ করলে এবং পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় কয়েকবার মারধরও করেছে। কবিতা আরও বলেন, আমার ছোট ভাই সুব্রত সরকার একজন মাদকসেবী। সে নানা অপরাধের সাথে জড়িত। মায়ায় পড়ে নিজের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করে ওকে বাঁচাতে টাকা দিয়েছি। কিন্তু এখন আমাকে মেরে ফেলার জন্য উঠে পরে লেগেছে। আমি যেকোন মূল্যে আমার টাকা এবং জমি ফেরত চাই। এক সপ্তাহের মধ্যে যদি টাকা এবং চুক্তিকৃত জমি না পাই তাহলে আমি আত্মহত্যা করব এই বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই নারী। কবিতার বড় বোন সাবেক ইউপি সদস্য অঞ্জলী ঢালী বলেন, সুব্রতকে কারাগার থেকে ছাড়ানো, বিভিন্ন লোকের দেনা পরিশোধ, সুব্রত‘র সংসার দেখভালসহ নানা কারণে কবিতা সুব্রতকে টাকা দিয়েছে। বিশ বছরে কবিতার কাছ থেকে অন্তত ২০ লক্ষ টাকা নিয়েছে সুব্রত। কিন্তু এই টাকা ফেরত দেওয়ার নাম নেই। বরং আমরা ভাই-বোনরা টাকা ফেরত দিতে বললে আমাদেরকে নানা ভাবে হয়রানি করার চেষ্টা করে। এমনকি কবিতাকে কয়েকবার মারধরও করেছে। কবিতার ভাই বিকাশ সরকার বলেন, নিজের জন্য কিছু না করে সুব্রতকে বাঁচাতে জীবনের সবকিছু দিয়েছে কবিতা। সুব্রত বিভিন্ন অসুবিধায় পরে কবিতার কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকার বেশি নিয়েছেন, এটা সবাই জানে। কিন্তু সুব্রত এখন সব টাকার কথা অস্বীকার করে। এমনকি কবিতার পক্ষে কথা বলায় আমাকে মারধরও করতে এসেছে সুব্রত সরকার। অভিযুক্ত সুব্রত সরকার বলেন, বিভিন্ন সময় আমার বোন কবিতা আমাকে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। বিক্রি করার পরে আমার ৯ শতক জমি রয়েছে, আমি সেই জমি দলিল করে দেওয়ার কথা বলেছি। কিন্তু আমার বোন রাজি হয়নি। চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইয়েদা ফয়জুন্নেছা বলেন, ‘কবিতা সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমার অফিসে একাধিকবার বসা হয়েছে। সুব্রতর কাছে কবিতা টাকা পাবে বিষয়টা প্রমাণিত। চিতলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়াল বলেন, কবিতা একজন অসহায় নারী। তার বিষুটি খুবই গুরুত্বের সাথে দেখছি আমরা। কবিতার অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময় শালিস-মীমাংসা করা হয়েছে। কিন্তু সুব্রত কারও কথা মানেন না।

 

Lab Scan