কলারোয়া পৌরসভায় ভিজিএফের প্রায় ১৪ হাজার কেজি চাল গায়েব!

কলারোয়া (সাতীরা) সংবাদদাতা ॥ সাতীরার কলারোয়া পৌরসভায় অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য সরকারের দেয়া ভিজিএফের প্রায় ১৪ হাজার কেজি চাল গায়েব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৌরসভা চত্বরে উপস্থিত কার্ডধারী ভুক্তভোগী ১০/১২ জন অভিযোগ করে বলেন, তাদের মাথাপিছু ১৫ কেজি করে চাল দেয়ার কথা। অথচ ওজনে প্রায় ৪ কেজি করে চাল কম দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হওয়ার সংবাদ পেয়ে তাৎণিক উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেখানে উপস্থিত হয়ে বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা পান। এ সময় কয়েকজন পৌর কাউন্সিলর ভিজিএফ কার্ডধারীদের চাল কম দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
চাল কম পাওয়া কার্ডধারী কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, গত দু দিন পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডের ৩ হাজার ৮১ টি ভিজিএফ কার্ডধারীর মাঝে জনপ্রতি ১৫ কেজি চাল বিতরণের কথা থাকলেও প্রকৃতপে তাদের মাঝে প্রায় ৪ কেজি চাল কম দেয়া হয়। তাদের কেউ ১১ কেজি, কেউ ১১ কেজি ৮২ গ্রাম, কেউ ১১ কেজি ৬ শ গ্রাম, কেউ ১১ কেজি ৭ শ গ্রাম করে চাল পেয়েছেন। ১৫ কেজির স্থলে জনপ্রতি ১১ কেজি থেকে ১১ কেজি ৭ শ গ্রামের মতো চাল দিয়ে বাকি ৩ কেজি ৩ শ গ্রাম থেকে ৪ কেজি চাল কম দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। আর সেই হিসেবে প্রায় ১৪ হাজার কেজি চাল গায়েব হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। এদিকে, সন্ধ্যায় এ ঘটনায় পৌরসভা চত্বরে তোলপাড় শুরু হলে উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আর এম সেলিম শাহনেওয়াজসহ সংবাদকর্মীরা সেখানে যান। তখন উপস্থিত কার্ডধারীদের চাল কম দেয়ার বিষয়টির তাৎণিক সত্যতা পান তারা। চাল কম দেয়ার সত্যতা স্বীকার করে পৌর কাউন্সিলর আলফাজ উদ্দীন, ইমাদুল ইসলামসহ কয়েকজন পৌর কাউন্সিলর বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা কোন কিছুই জানি না। আমাদের কোন দায়িত্ব দেয়া হয় না। সবকিছুই ভারপ্রাপ্ত মেয়র মনিরুজ্জামান বুলবুল ও সচিব তুষার কান্তি দাস জানেন’। তারা আরো জানান, ‘বৃষ্টির কারণে এখনো ৯ টি ওয়ার্ডের শতাধিক কার্ডধারী চাল গ্রহণ করেননি। ফলে প্রায় ১৪ হাজার কেজি চালের কোন হিসাব নেই’। পৌর কাউন্সিলর আলফাজ উদ্দীন জানান, ‘গত দুই রাতে এই চাল অন্যত্র পাচার হতে পারে বলে আমার ধারণা’। এ বিষয়ে পৌর সচিব তুষার কান্তি দাস জানান, ‘আমি তো একা এতগুলো চাল দিইনি। আরো অনেকে এই চাল বিতরণ করেছেন। আমার উপস্থিতিতে যে চাল বিতরণ করা হয়েছে সে সময় কম দেয়া হয়নি। এমনকী কার্ডধারী ব্যতীত কেউ চাল পাননি’। ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র মনিরুজ্জামান বুলবুল বলেন, ‘আমার জানামতে চাল বিতরণের প্রথমদিন (বুধবার) কোন অনিয়ম হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার আমি সাতীরায় একটি মিটিং-এ থাকায় কিছু অনিয়ম হতে পারে’। একজন কাউন্সিলরের উদ্ধৃতি দিয়ে জনপ্রতি কিছু চাল কম দেয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। চাল গায়েবের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত মেয়র বলেন, ‘কোন চাল গায়েব হয়নি। সামান্য ত্র“টি হয়েছে’।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আর.এম সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি পৌরসভায় গিয়ে উপস্থিত কার্ডধারীদের চাল কম দেয়ার বিষয়টি সরেজমিনে সত্যতা পাই। চাল কোথায় গেল এবং কেন কম দেয়া হলো এ বিষয়ে সচিবের কাছে জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ করতে ভারপ্রাপ্ত মেয়রকে বলা হয়েছে’। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু বলেন, ‘এত চালের অনিয়ম হওয়ার কথা না। এর পিছনে বড় কোন অদৃশ্য কারণ বা হাত থাকতে পারে’। উল্লেখ্য, কলারোয়া পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডের ৩ হাজার ৮১ টি ভিজিএফ কার্ডধারীর মাঝে ৪৬ হাজার ২ শ ৫০ কেজি চাল বিতরণের কথা রয়েছে।

ভাগ