করোনা মহামারির প্রভাবে বন্ধ হচ্ছে ডিপো ও খামার : কপিলমুনিতে কাঁকড়া ব্যবসায় ধস

0

এইচ,এম,শফিউল ইসলাম, কপিলমুনি (খুলনা) ॥ করোনার প্রভাবে খুলনার কপিলমুনির কাঁকড়া শিল্পে বিপর্যয় নেমে এসেছে। বন্ধ হতে বসেছে দক্ষিণাঞ্চলের শতশত কাঁকড়ার খামার ও ডিপো। করোনাকালীন রফতানি কর্যক্রম বন্ধ থাকায় এ শিল্পের সাথে জড়িত খামারি, ব্যবসায়ীসহ হাজারো শ্রমিক রীতিমতো বেসামাল হয়ে পড়েছেন। বিপুল পরিমাণ লোকশান কাটিয়ে খামার ও ডিপোগুলি টিকিয়ে রাখা তাদের জন্য ভয়াবহ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ করোনায় অব্যাহত লোকশানের মুখে ইতিমধ্যে ছোট বড় বহু খামার বন্ধ হয়ে গেছে। অতিদ্রুত অবস্থার পরিবর্তন না হলে যে কোনো সময় অবশিষ্ট খামার ও ডিপোগুলি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্খা করছেন কাঁকড়া শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায় আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির উপর নির্ভর করে কাঁকড়ার স্থানীয় দর-দাম। গত বছর মার্চে চীনে কাঁকড়া রফতানি বন্ধ হলে দরপতন ঘটে কাঁকড়ার। এছাড়া অন্যান্য দেশেও এখন রফতানি বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, অধিকাংশ খামারীরা জানান বিভিন্ন এনজিও অথবা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে চাষি, ডিপো মালিকরা খামার ও দোকান পরিচালনা করে থাকেন। করোনাকালে রফতানি বন্ধ থাকায় লোন পরিশোধ এড়াতে অনেকেই খামার টিকিয়ে রেখেছেন। কাঁকড়ার খামার বন্ধ করলে দেনাদারদের চাপ বাড়তে পারে। আবার খামার টিকিয়ে রাখতে লোকশানের পাশাপাশি লোনের পাল্লা ভারি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রীতিমত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কাঁকড়া শিল্পের সাথে থাকা সংশ্লিষ্টরা।
পাইকগাছার কাঁকড়ার বড় মোকাম কপিলমুনি ঘের ও কাঁকড়া ব্যবসায়ীর সভাপতি শেখ আনারুল ইসলাম লোকসমাজকে বলেন কয়েক বছর ধরে নানা রোগবালাইয়ের কারণে চিংড়ি চাষে কোন লাভ না হওয়ায় অনেক খামারী কাঁকড়া চাষে ঝুকে পড়েছিলো, তাতে লাভও ভালো হতে থাকে। ২০২০ সালে করোনায় সব বন্ধ থাকায় রফতানি করতে না পারায় খামারেই সব কাঁকড়া মারা যায়। তিনি আরও বলেন কাঁকড়া চাষ বন্ধ করেও খামারীরা স্বাভাবিক লোনের দায়ে বাজারে বা বাড়ি-ঘরে থাকতে পারছে না। আরেক ব্যবসায়ী মো. হারুন বলেন এ অবস্থায় চীনে সরাসরি কাঁকড়া রফতানি চালু গওয়া আগ পর্যন্ত সরকারের পৃষ্টপোষকতা সহ বিনা সুদে লোন দিয়ে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব, নতুবা অচিরেই এই ব্যবসায়ের সাথে জড়িতদের শোচনীয় দুরাবস্থায় পড়তে হবে। হারুন আরও বলেন কাঁকড়া সাধারণত পাঁচটি গ্রেডে বিক্রি হয়। আগে ১৪/১৫ শত টাকায় যা বিক্রি হত তা এখন ৩০০ টাকায়ও বিক্রি করা যাচ্ছে না। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র দাশ জানান, অনুকুল পরিবেশে পাইকগাছার চিংড়ি চাষের বাইরেও আলাদাভাবে কাঁকড়া চাষ হয়। তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের উৎপাদিত কাঁকড়া অন্য অঞ্চলের চেয়ে ভালো। বর্তমান সময়ে অনেক খামারীরা কাঁকড়া খামার বন্ধ করে অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছে। পাইকগাছা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, স্বল্প সুদে লোন দিয়ে এ শিল্পকে বাঁচাতে হবে। তা না হলে এ খামারীরা বিপদে পড়বে।

Lab Scan