করোনা : ঈদে সতর্কতা মুসলিম দেশগুলোতে

লোকসমাজ ডেস্ক॥ আজ চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ। তবে এ বছর করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সারা বিশ্বে মানুষের জীবনাচারের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। প্রাণঘাতি ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন আয়োজনে নানান সাবধানতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। ধর্মীয় উপাসনা ও উৎসবগুলোও এর বাইরে নয়। ঈদ উপলক্ষে মুসলিম দেশগুলো করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সাবধানতা অবলম্বন করেছে। করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) বিস্তার ঠেকাতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পাঁচ দিনের ছুটিতে দেশজুড়ে ২৪ ঘণ্টার কারফিউ জারি থাকবে বলে জানিয়েছে সৌদি আরব। এক বিবৃতিতে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘোষণা দিয়েছে। এই কারফিউ আজ ২৩ মে থেকে ২৭ মে পর্যন্ত ঈদের ছুটিতে সারা দিনই জারি থাকবে। এর আগ পর্যন্ত শুধু মক্কা ব্যতীত অন্যান্য অঞ্চলে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাণিজ্যিক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু থাকবে। মক্কাতে ২৪ ঘণ্টার কারফিউ জারি রয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে এর আগে সৌদি আরবের বেশিরভাগ অঞ্চল ও শহরে ২৪ ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হয়েছে। তবে রমজানের শুরুতে তা শিথিল করা হয়।
তবে করোনাভাইরাসের বেশি প্রাদুর্ভাব থাকা এলাকাগুলোতে লকডাউন শিথিল করা হয়নি। নতুন করে জরুরি ভিত্তিতে জাযান প্রদেশ ২৪ ঘণ্টা লকডাউন আরোপ করা হয়েছে। প্রাদুর্ভাব কমে এলেও নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফের বেড়ে যেতে পারে শঙ্কায় ঈদের ছুটিতে নাগরিকদের এক শহর থেকে অন্য শহরে না যেতে অনুরোধ জানিয়েছেন ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সায়ীদ নামাকি। বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে তার এ অনুরোধের কথা জানানো হয়। রোজার ঈদের ছুটিতে ইরানিদের মধ্যে সাধারণত বিভিন্ন শহরে ঘুরতে যাওয়ার চল আছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এবার এ ধরনের ঘোরাঘুরি শারিরীক দূরত্বের নির্দেশনার লংঘন ঘটতে পারে এবং ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ফের দেখা দিতে পারে বলে নামাকির আশঙ্কা। “ঈদে অন্য শহরে ভ্রমণ না করতে অনুরোধ করছি আমি। এ ধরনের কিছু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়িয়ে দেবে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে কিংবা সেখানে ঘুরতে যাওয়া উচিত হবে না কারও। “অসংখ্য এলাকার ৯০ শতাংশের মতো মানুষ এখনো আক্রান্ত হননি। যদি নতুন করে প্রাদুর্ভাব শুরু হয়, তাহলে আমার এবং আমার সহকর্মীদের পে তা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়বে,” স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমনটাই বলেছেন বলে বলা হয় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে। অপরদিকে লকডাউন শিথিল হওয়ায় খোলা জায়গায় ঈদের নামাজ পড়তে পারবে ইরানের নাগরিকেরা। রবিবার দেশটির করোনা প্রতিরোধ কমিটি এই ঘোষণা দিয়েছে। আলজাজিরা জানায়, ইরানের সব শহরেই খোলা জায়গায় ঈদের নামাজ পড়া যাবে। এর আগে নিয়মিত জামাতের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। দেশটির করোনা প্রতিরোধ কমিটি জানায়, সব শহরে ঈদের নামাজের অনুমতি দেয়া হলেও জামাতের জন্য এমন জায়গা বেছে নেয়া যাবে না যেখানে প্রচুর মানুষের ভীড় হয়। জায়গা সংকুলান হয় না এমন জায়গায় ঈদের নামাজ পড়া যাবে না।কমিটির সেক্রেটারি হোসেইন কাজেমি জানান, রমজানের পরে সব রেস্তোরাঁ খোলা রাখা যাবে। তবে এর জন্য মানতে হবে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি। এদিকে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনা প্রতিরোধে দেশের পরিস্থিতি ভালো দিকে যাচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় আরও জোর দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, ইরানে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত এক লাখ ১৮ হাজারের বেশি। এর মধ্যে মারা গেছেন ৬ হাজার ৯৩৭ জন। তবে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা নিয়ে দেশটি তথ্য গোপন করছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের অভিযোগ।

ভাগ