করোনা আতংকে পাল্টে গেছে চৌগাছার প্রেক্ষাপট ॥ বিপাকে নিন্ম আয়ের মানুষ

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ সরকার ঘোষিত ১০ দিনের ছুটির ৩ দিন অতিবাহিত হয়েছে শনিবার। এই তিন দিনেই পাল্টে গেছে চৌগাছার প্রেক্ষাপট। এক দিকে করোনা ভাইরাস আতংক, অন্যদিকে প্রশাসনের কড়া নজরদারি সব মিলিয়ে মানুষ অনেকটাই নিজ নিজ ঠিকানায় এই তিন দিন অবস্থান করছেন। বাজার মুখো মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেশ বিপাকে পড়েছেন দিন আনা দিন খাওয়া মানুষেরা। এ সব নিন্ম আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো জরুরী হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাস যাতে করে ব্যাপক বিস্তার লাভ না করতে পারে সে লক্ষে গত ২৬ মার্চ হতে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষনা করেছেন সরকার। সরকার ঘোষিত ছুটির সাথে সাথে মানুষের চলাচলের উপরও বিধি নিশেধ এসেছে। বলাচলে গোটা উপজেলাবাসি হোম কোয়ারিন্টনে আছেন। মানুষকে নিজ নিজ অবস্থানে রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কাজ করছেন সেনাবাহিনী। অতি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেনা। বাজারে হঠাৎ মানুষের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় পাল্টে গেছে চৌগাছার চিত্র। সকাল ও সন্ধ্যায় কিছু মানুষের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেলেও দুপুরে মানুষ শূণ্য হয়ে পড়ছে গোটা পৌরসদর। এমন এক পরিস্থিতিতে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষজন পড়েছে চরম বিপাকে। বিশেষ করে ভ্যান চালক, সেলুন, চায়ের দোকানসহ ছোট খাটো আয়ের মানুষের কষ্ট কয়েকগুন বেড়ে গেছে বলে জানা গেছে।
চৌগাছা বাজারে নিয়মিত ভ্যান চালায় আব্দুর রশিদ। তিনি জানান, করোনা ভাইরাসের কথা বিবেচনা করে এক দিন বাড়িতে বসে সময় পার করেছি। গত দুই দিন ঝুকি নিয়ে হলেও আসছি বাজারে। কিন্তু আয় নেই বললেই চলে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাত্র ৪৫ টাকা ভাড়া হয়েছে। মানুষের উপস্থিতি নেই সে কারনে ভাড়া হচ্ছে না। এই ৪৫ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। যানি না সামনের বাকি দিন গুলো কেমন করে চলবে।
চা বিক্রেতা নুর ইসলাম বলেন, প্রতিদিন চা বিক্রি করে যা রোজগার হয় তাই দিয়ে চলে আমার সংসার। গত তিন দিন দোকান বন্ধ করে রেখেছি। বেশ কষ্টে যাচ্ছে বিনা রোজগারের দিন গুলো। সামনের দিন কিভাবে পার করবো তা ভেবে পাচ্ছি না। তবে কষ্ট হলেও মরণব্যাধি করোনা থেকে যদি মানুষ মুক্তি পাই সেটিই হবে আমার জন্য ভাল লাগার একটি বিষয়। প্রতি দিন সেলুনে যা রোজগার করেন তাই দিয়ে চলে দুষ্টু সরদারের সংসার। এমনটি হবে কখনও এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বুঝতেই পারেননি। তাই সরকারের ঘোষনা মোতাবেক গত তিনদিন দোকান বন্ধ। বেশ কষ্টে দিন পার করছেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। বাড়তি কোন রোজগার থাকলে চিন্তা হতো না, তারপরও নিজের ও এলাকাবাসির কথা বিবেচনা করে বাড়িতেই সময় পার করছি। ভ্যান চালক আব্দুর রশিদ, চা বিক্রেতা নুর ইসলাম ও সেলুন ব্যবসায়ী দুষ্টু সরদারের মত শতশত মানুষ বসবাস করেন গোটা উপজেলাতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এই স্বল্প আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো জরুরী বলে মনে করছেন উপজেলার সচেতন মহল।

ভাগ