কবি আজীজুল হকের মৃত্যুদিবস আজ

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ পঞ্চাশ দশকের অন্যতম কবি আজীজুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। যশোরের সাহিত্য সংস্কৃতি অঙ্গনের অভিভাবকতুল্য এ মানুষটি ২০০১ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জন্ম ২ মার্চ ১৯৩০ সালে মাগুরা জেলায়। সুবক্তা ও সংগঠক এই শিক্ষক-কবি জনকোলাহল থেকে দূরে নিজস্ব সৃষ্টিশীলতার জগতে জীবনযাপন করতে পছন্দ করতেন। কবি আজীজুল হকের বাবা মুনশি মোহাম্মদ জবেদ আলী ও মা রহিমা খাতুন। ১৯৫৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৭ সালে সাতক্ষীরা ডিগ্রি কলেজে অধ্যাপনার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৫৮ সালে তিনি যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয়ের (এমএম কলেজের) বাংলা বিভাগে যোগ দেন এবং দীর্ঘদিন শিক্ষকতার পর ১৯৮৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর কবিতার উপজীব্য বিষয় মানুষ, সমাজ, সময়, দেশ, প্রকৃতিপ্রেম, নদ ও নারী। শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অসাধারণ নিপুণ শিল্পী। ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুক মুহূর্তে সূর্যকে’। ১৯৭৬ সালে দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘বিনষ্টের চিৎকার’, ১৯৮৯ সালে তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ঘুম ও সোনালী ঈগল’ এবং ১৯৯৪ সালে ‘আজীজুল হকের কবিতা’ প্রকাশিত হয়। প্রবন্ধ রচনার ক্ষেত্রে তার নিরীক্ষাধর্মী চিন্তা-চেতনা পাঠকসমাজকে করেছে বিমুগ্ধ। তার কবিতায় একদিকে যেমন ইতিহাস ও ঐতিহ্যসচেতন শিল্পদৃষ্টি প্রতিভাত, অন্যদিকে অস্তিত্ববোধ ও ভাবনাপ্রসূত অনুষঙ্গ অভিনব মর্যাদায় সমৃদ্ধ হয়েছে। সাহিত্যক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯৮৬ সালে যশোর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার, ১৯৮৯ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও মধুসূদন অ্যাকাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৪ সালে যশোর শিল্পীগোষ্ঠী পদক এবং ১৯৯৬ সালে চাঁদের হাট পদক অন্যতম।

Lab Scan