কপিলমুনি মুক্ত দিবস আজ

0

কপিলমুনি (খুলনা) সংবাদদাতা॥ আজ ৯ ডিসেম্বর। পাইকগাছার কপিলমুনি মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে ১৫৫ জন রাজাকারকে গণআদালতের রায়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। অবসান ঘটে পাকিস্তানি হানাদার রাজাকারদের নির্মম অত্যাচার নিপীড়ন-নির্যাতনসহ অনৈতিক কর্মকান্ডের লোমহর্ষক ঘটনা। কপিলমুনির রায়সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর বাসভবন রাজাকাররা তাদের সুরক্ষিত দূর্গ হিসেবে বেছে নিয়েছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাড়িটি দীর্ঘ নয় মাস ব্যবহার করেছিল পাকিস্তানি দোসর রাজাকাররা। সেখানে খুন, গুম, ধর্ষণসহ অনেক অনৈতিক ঘটনার অবতারণা করা হয়। আর সেসব দিনের স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে দ্বিতল বাড়িটি। বাড়ির অভ্যন্তরে এমন কোন অপরাধ নেই যা তারা করেনি ।মুক্তিযোদ্ধারা পুনরায় পরিকল্পনা করে দক্ষিণ খুলনার বিভিন্ন এলাকার কমান্ডিং অফিসাররা উপজেলার রাড়–লীর বাঁকা ক্যাম্পে এসে একত্রিত হন এবং কপিলমুনিকে রাজাকার মুক্ত করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। পরিকল্পনায় অংশগ্রহণ করেন নৌ কমান্ডার গাজী রহমত উল¬াহ দাদু, শেখ কামরুজ্জামান টুকু, স.ম বাবর আলী, গাজী রফিক, ইউনুস আলী ইনু, শেখ শাহাদাত হোসেন বাচ্চু, মোড়ল আব্দুস সালাম, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। মুক্তিযোদ্ধারা ৫ টি ভাগে বিভক্ত হয়ে অবশেষে ৭ ডিসেম্বর রাতে চারিদিক থেকে কপিলমুনির শত্রু ঘাঁটি আক্রমণ করেন। দীর্ঘ যুদ্ধ শেষে ৯ ডিসেম্বর বেলা ১১ টার দিকে অস্ত্র ফেলে সাদা পতাকা উড়িয়ে ১৫৫ জন রাজাকার আত্মসমর্পণ করে। সাথে সাথে পতন ঘটে খুলনাঞ্চলের বৃহত্তর শত্রু ঘাঁটির। এই যুদ্ধে খুলনার আইসগাতির আনোয়ার ও সাতক্ষীরার আশাশুনির গলডাঙ্গা গ্রামের গাজী আনসার আলী নামে দুই মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। শত্রুদের বন্দি করে নিয়ে আসা হয় কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির ঐতিহাসিক ময়দানে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে, এলাকার হাজার হাজার জনতার ঢল নামে ময়দানে। জনগনের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাৎক্ষণিক যুদ্ধকালীন কমান্ডাররা সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজাকারদের প্রকাশ্যে গুলি করে মৃত্যুদন্ড দিয়ে জনতার রায় কার্যকর করা হয়। শেষ হয় যুদ্ধ। হানাদার মুক্ত হয় কপিলমুনি।

 

Lab Scan