কপিলমুনিতে বৃষ্টির অভাবে আমন ক্ষেত ও বীজতলা ফেটে চৌচির দুশ্চিস্তায় চাষিরা

0

এইচ.এম.শফিউল ইসলাম,কপিলমুনি (খুলনা)॥ আমন ধান রোপণের উপযুক্ত সময় শ্রাবণ মাস। বৃষ্টির দেখা নেই। আমনের ক্ষেত ফেটে চৌচির। মারা যাচ্ছে বীজতলায় ধানের চারা। প্রচন্ড তাপদাহ। বৃষ্টির জন্যে হাহাকার। যে ছিটে-ফোটা বৃষ্টি হচ্ছে তা মাটিতে শুকিয়ে যাচ্ছে। আকাশের দিকে চেয়ে আছেন কৃষক।
বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নিরুপায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন দিয়ে পুকুর-বিল থেকে পানি দিয়ে অনেক কষ্টে আমন ধানের চারা রোপণ করেছিলেন। তখন ধারণা করেছিলেন বৃষ্টিপাত হবে। তবে বর্ষার ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন ক্ষেত নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কপিলমুনির কৃষকরা। এ অবস্থায় স্থানীয় কৃষি বিভাগ সেচযন্ত্র চালুর মাধ্যমে জমিতে পানি দিয়ে ধান রোপণের পরামর্শ দিয়েছে।
পাইকগাছা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ১৭ হাজার ২৫৩ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর জন্য ৯৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হবে। বৃষ্টির অভাবে অনেক কৃষক এখনও বীজতলা তৈরি করতে পারেননি।
বর্ষা ঋতুতে বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল থাকেন কৃষকরা। অথচ এবার বৃষ্টির অভাবে আমন আবাদ শুরু করতে পারছে না তারা। সর্বত্র আমনের বীজতলা তৈরি করার সময়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত অধিকাংশ কৃষক বীজ তলা তৈরি করতে পারেনি। বীজ তলা ফেটে এখন চৌচির। বৃষ্টির অভাবে কৃষকদের রোপণ করা আমন ধানের জমিও ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার হিতামপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, আমন ধানের ক্ষেত প্রস্তুত ও রোপণ সম্পূর্ণ বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল। এই ভরা বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টির দেখা নেই। জমিতে পানি না থাকায় আমন ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। একদিকে পানির অভাবে জমি প্রস্তুত করা যাচ্ছে না, অন্যদিকে পানির অভাবে বীজতলা শুকিয়ে ধানের চারা মরে যাচ্ছে।
কপিলমুনির শ্রীরামপুরÑগদাইপুর গ্রামের কৃষক আজিবার, আব্দুল করিমসহ কয়েকজন চাষি জানান, অন্যান্য বছর এতদিনে জমিতে আমন ধান লাগানো প্রায় শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এবার অনাবৃষ্টির কারণে জমিতে পানি না থাকায় ধান রোপণ করা যাচ্ছে না। অনেকে বীজতলা করতে পারেননি। আমন চাষে বিঘœ ঘটলে প্রান্তিক চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। এ অবস্থায় মহাবিপদে আছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো.জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঠিকমত বৃষ্টি না হওয়ার কারণে আমন ধানের বীজ তলা তৈরি ও চারা রোপণে কিছুটা দেরি হচ্ছে। কৃষকদের নাবী জাতের ধানের বীজতলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি হলে আমনের আবাদ স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আশা করছি আমনের আবাদ থেকে কাঙ্খিত ফসল উৎপাদনে আমরা সক্ষম হবো।

Lab Scan